প্রতীকী ছবি

আইএমইআই ডেটাবেজ সিস্টেমে ঠেকানো যাবে মোবাইল চুরি

দেশে প্রতিবছর প্রায় ৭৩ লাখের অধিক হ্যান্ডসেট অবৈধভাবে আমদানি হয়ে থাকে।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৯ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৯
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৯ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৯


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে মোবাইল ফোনের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) ডেটাবেজ সিস্টেম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ডেটাবেজের কারণে অবৈধ হ্যান্ডসেটের আমদানি কমবে এবং প্রতিবছর রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া খাত সংশ্লিষ্টরা এই ডেটাবেজ সিস্টেমকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) স্থাপনের উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ডেটাবেজের পর ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (ইআইআর) স্থাপন এবং সবশেষ এনইআইআর স্থাপনকে মূললক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এনইআইআর স্থাপন হলে মোবাইল চুরি বা ছিনতাই প্রতিরোধের পাশাপাশি মোবাইল হ্যান্ডসেট সম্পর্কিত অপরাধ অনেকাংশে দমন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত দেশে আইএমইআই বিষয়ক কেন্দ্রীয় কোনো ডেটাবেজ ছিল না। ফলে দেশে মোট হ্যান্ডসেটের সংখ্যা (আমদানি ও দেশে তৈরি) সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না সরকারের কাছে। এতে সুবিধা ভোগ করে আসছিল অবৈধ হ্যান্ডসেট আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীরা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৭৩ লাখের অধিক হ্যান্ডসেট অবৈধভাবে আমদানি হয়ে থাকে। অর্থাৎ দেশে প্রতিবছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়। এর মধ্যে দুই কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার ৮৪০ হ্যান্ডসেট (২০১৮ সালে) বিটিআরসির মাধ্যমে আমদানি অনাপত্তি সনদ পেয়েছে। বাকি হ্যান্ডসেটগুলো অবৈধভাবে দেশে বিক্রি হয়েছে বা নিয়ে আসা হয়েছে।

যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে এই ডেটাবেজের মাধ্যমে

বৈধ-অবৈধ হ্যান্ডসেট চিনবেন গ্রাহকরা: ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির পর থেকে যেসব হ্যান্ডসেট আমদানি বা দেশে তৈরি করা হয়েছে সেসব হ্যান্ডসেট বৈধ না অবৈধ তা জানতে এই ডেটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ পর্যন্ত ক্রেতারা হ্যান্ডসেট কেনার আগে আইএমইআই ডেটাবেজ থেকে আইএমইআই নম্বর যাচাই করতে পারবেন। অবৈধ আমদানি করা হ্যান্ডসেটে এ ডেটাবেজে পাওয়া যাবে না। ফলে ক্রেতারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন মোবাইলটি বৈধ, আর কোনটি অবৈধ।

হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীদের বিষয়ে ধারণা: এই ডেটাবেজের মাধ্যমে জানা যাবে দেশে কি পরিমাণ ফোরজি, থ্রিজি, ফিচার বা স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। এতে দেশের মোবাইল ফোন খাতের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে। তা বিশ্লেষণ করে গ্রাহকের ধরন, ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোন গ্রহণের প্রবণতা, কী পরিমাণ হ্যান্ডসেট দেশের বাজারে বিক্রি হয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও সেটের সংখ্যা ইত্যাদি যাচাই করে এ সেক্টরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এ ছাড়া এই ডেটাবেজের কারণে হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা আমদানি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) গ্রহণ করতে অনলাইনে আবেদন ও অনলাইনে তা গ্রহণ করতে পারবেন। অবৈধ হ্যান্ডসেট আমদানি হ্রাসের ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি কমে আসবে।

দেশের বাইরে থেকে আনা দুটির বেশি হ্যান্ডসেটে ট্যাক্স

দেশের বাইরে থেকে দুইটির বেশি হ্যান্ডসেট নিয়ে আসলে ওই ব্যক্তিকে ট্যাক্স দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। কাস্টমস হাউজ এই ট্যাক্স নেবে।

বাইরে থেকে নিয়ে আসা হ্যান্ডসেট সম্পর্কিত তথ্য কাস্টমস হাউজকে জানাতে হবে। কাস্টমস হাউজের জন্য আলাদা মডিউল এবং একটি ডিভাইস থাকবে যাতে কমিশন থেকে দেওয়া এনওসিতে উল্লেখিত আইএমইআই নম্বর যাচাই করে শুল্কায়ন করতে পারবে। ফলে ভুল আইএমইআই নম্বর বিশিষ্ট মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রবেশ করতে পারবে না।

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

নতুন এই সিস্টেমের বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘যত ডিজিটাল হচ্ছি, তত ডিজিটাল অপরাধ বাড়ছে এগুলো নরমাল পদ্ধতিতে প্রতিরোধ সম্ভব নয়, ডিজিটাল প্রযুক্তি দিয়ে এসব মোকাবেলা করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে এটি মাইলফলক মুহূর্ত। চুরি করে হ্যান্ডসেট আমদানি করায় যে রাজস্ব ক্ষতি হতো, তা (ঠেকানো) প্রযুক্তি ছাড়া সম্ভব নয়, এখন করা যাবে।’

এই ডেটাবেজ চালু হওয়ায় চুরি বা ছিনতাই হওয়া ফোন বন্ধ করার সুযোগও তৈরি হলো বলেও জানান তিনি।

বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ‘এই ডেটাবেজের কারণে বাজার চাহিদার সঙ্গে বাজার পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।’

মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, ‘এখাতে এখন সৎ ভাবে যারা ব্যবসা করছে, তাদের জন্য ব্যবসা সহজ হবে এবং অসৎ ব্যবসায়ীরা থাকতে পারবে না। এই সিস্টেমে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অবৈধ হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা।’

যেভাবে জানা যাবে হ্যান্ডসেট বৈধ না অবৈধ

নতুন হ্যান্ডসেট কেনার আগে আইএমইআই নম্বর দিয়ে সেটটি বৈধ না অবৈধ তা জানা যাবে। এ জন্য যেকোনো মোবাইলের মেসেজ অপশন থেকে হ্যান্ডসেটের তথ্য যাচাইয়ে KYD <Space> ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিলে ফিরতি মেসেজে জানানো হবে, তার সেটটি ডেটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে কি না।

সেটের বক্সের কাভারে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর দেওয়া থাকে। এ ছাড়া মোবাইলে ডায়ালে গিয়ে *#06# লিখেও আইএমইআই নম্বর বের করা সম্ভব।

যারা এই ডেটাবেজ বাস্তবায়নে জড়িত

আইএমইআই ডেটাবেজ বাস্তবায়নে বিটিআরসিকে সহয়তা করেছে বিএমপিআইএ, এটুআই, বিজনেস অটোমেশন, আমরা টেকনোলজিস এবং দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো।

প্রিয় প্রযুক্তি/রুহুল