দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

‘ওহে কাইল্লা তোর মা কই বসে আছে, কি দোয়া পড়তে বলেছিলি আজ?’

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১১ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১১
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১১ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১১


দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম পাকিস্তানের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের ঘটনা। তখন ৩৭তম ওভারের খেলা চলছে। ব্যাটিংয়ে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো আর বল হাতে আক্রমণে ছিলেন পাকিস্তানের শাহীন আফ্রিদি। ওভারের তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নেন ফেলুকওয়ায়ো।

ওই সময় স্টাম্প মাইকে শোনা যায় উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ বলছেন, ‘ওহে কাইল্লা (কালো লোক) তোর মা আজ কোথায় বসে আছে, কি দোয়া পড়তে বলে এসেছিস?’

একটি আন্তর্জাতিক দলের অধিনায়ক হিসেবে টিভি সেটের লাখো দর্শকের সামনে এমন বর্ণবাদী মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি ক্রিকেট ভক্তরা। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ক্রিকেট বিশ্বে।

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে পাঁচ উইকেটে জয় পায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের ফলাফলকে ছাপিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনায় পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের এই বর্ণবাদী মন্তব্য।

২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮০ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় দুই ব্যাটসম্যান ডুসেন ও ফেলুকাওয়ায়ো।

প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের এই জুটিতে বোধ হয় বেশ বিরক্তই হয়েছিলেন সরফরাজ। তাই খেলা চলাকালীন স্লেজিং করে বসেন পাকিস্তানি এই অধিনায়ক। উর্দুতে বলে ওঠেন, ‘আবে কালে, তেরি আম্মি আজ কাহান বেহঠি হ্যান? ক্যায়া পারওয়া কে আয়ে হ্যাঁয় আজ?’

সরফরাজের এমন মন্তব্য শুনে অজি ধারাভাষ্যকার মাইক হেইসম্যান পাশেই বসে থাকা পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজাকে এর অর্থ জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু রমিজ রাজা তা এড়িয়ে যান। জবাবে রমিজ রাজা বলেন, ‘এটা অনুবাদ করা আসলে কঠিন। আসলে এটা অনেক বড় বাক্য।’

খেলা শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরফরাজের এমন বর্ণবাদী মন্তব্যের জেরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খোদ পাকিস্তানিরাই এর সমালোচনা করেন। কেউ কেউ বিষয়টিকে ঠাট্টা বলে এড়িয়ে গেলেও অধিকাংশই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এমনকি তারা সরফরাজের শাস্তিও দাবি করছেন।

সমালোচকদের টুইটের একাংশ।

কেউ কেউ বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আর সেখানেই এমন মন্তব্য পাকিস্তানি অধিনায়কের। তাকে অবশ্যই কঠিন শাস্তি দেওয়া উচিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা প্রার্থনা করলেই যেন সরফরাজকে মাফ করে দেওয়া না হয়।

এখন দেখার বিষয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সরফরাজ আহমেদের এই মন্তব্যকে কি হিসেবে নেয় এবং তাকে শাস্তির আওতায় আনে কি না।

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...