দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক ও মুশফিক। ছবি: প্রিয়

মুশফিক-মোসাদ্দেকের ব্যাটে সবার উপরে চিটাগং

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল মুশফিকুর রহিমের দল চিটাগং ভাইকিংস।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৫ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৩
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৫ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৩


দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক ও মুশফিক। ছবি: প্রিয়

(প্রিয়.কম) ঢাকা ডায়নামাইটস, রংপুর রাইডার্সকে নিয়ে যত আলোচনা, অন্যান্য দলগুলোকে নিয়ে ততো নয়। অথচ নীরবে জিতেই চলেছে মুশফিকুর রহিমের দল চিটাগং ভাইকিংস। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সবচেয়ে সফল দল তারাই। বুধবার আরেকটি সাফল্য ছিনিয়ে আনল বিপিএলের দলটি। নিজেদের সপ্তম ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে রাজশাহী কিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুশফিক-মোসাদ্দেকরা। সাত ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে গেল তারা।

বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা রাজশাহী কিংস অনেকটা ধুঁকে ধুঁকেই পথ পাড়ি দিয়েছে। তবু রক্ষা যে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লরি ইভান্স এই ম্যাচেও হাল ধরেছিলেন। মূলত তার করা ৭৪ রানেই ৫ উইকেটে ১৫৭ রানের সংগ্রহ পায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল রাজশাহী কিংস। জবাবে ম্যাচসেরা মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় চিটাগং ভাইকিংস।

বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংস একমাত্র দল, যারা এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে হেরেছে। বাকি সব দলই ৩ বা তারচেয়ে বেশি ম্যাচে হার মেনেছে। জয় পাওয়ার দিক থেকেও চিটাগং এগিয়ে। মুশফিকুর রহিমের দল সবচেয়ে বেশি ৬ ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। বুধবার পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখা ঢাকা ডায়নামাইটস দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫টি জয় পেয়েছে। 

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে চিটাগং ভাইকিংস আহামরি শুরু করতে পারেনি। দলীয় ৬ রানেই ওপেনার ক্যামেরন দেলপোর্টকে হারানো চিটাগং ৩০ রানের মধ্যে ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ শাহজাদকে খুইয়ে বসে। শুরুর এই চাপ কাটিয়ে তুলতে অবশ্য সময় লাগেনি চিটাগংয়ের। নাজিবুল্লাহ জাদরানকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম দলকে স্বস্তি এনে দেন।

নাজিবুল্লাহ ২৩ রান করে ফিরে গেলেও দিক হারাননি মুশফিক। নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন দারুণ ব্যাটিং করা মুশফিক। মোসাদ্দেকও অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চিটাগং।

ম্যাচসেরা মুশফিক ৪৬ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। শুরু থেকেই মারকুটে মেজাজে থাকা মোসাদ্দেক ২৬ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৩ রান করেন। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি ৩টি ও অধিনায়ক মিরাজ একটি উইকেট নেন।      

এরআগে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী কিংসের শুরুটা হয় চরম হতাশার। চিটাগং ভাইকিংসের বোলারদের খেলতেই পারছিলেন না রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। ফলটাও তাই ভালো হয়নি। দলীয় ৮ রানের মধ্যেই ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার ও মার্শাল আইয়ুব। দিশেহারা হয়ে ওঠা দলের হাল ধরেন আগের ম্যাচেও ব্যাট হাতে রাজত্ব করা রাজশাহীর দুই বিদেশি ব্যাটসম্যান লরি ইভান্স ও রায়ান টেন ডেসকাট।

তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে রাজশাহীকে বিপদমুক্ত করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। এই জুটি দলের স্কোরকার্ডে ৫৪ রান যোগ করে। দলীয় ৬২ রানে ডেসকাটের বিদায়ে ভাঙে জুটি। আবু জায়েদ রাহির বলে আউট হওয়ার আগে ২০ বলে ৪টি চারে ২৮ রান করেন নেদারল্যান্ডসের এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। এরপর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান দ্রুত ফিরে যান।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়েও বিপদে পড়তে হয়নি রাজশাহীকে। শুরু থেকেই একপাশ আগলে রাখা লরি ইভান্সের সঙ্গে যোগ দিয়ে রান তোলার গতি বাড়িয়ে নেন ৩৬ রানের জড়ো ইনিংস খেলা ক্রিশ্চিয়ান জঙ্কার। জঙ্কারের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলীয় ১১৯ রানে আউট হন ইভান্স। এরআগে ৫৬ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৪ রানের মহাকার্যকর এক ইনিংস খেলেন ডানহাতি এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

জঙ্কারের ২০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় করা অপরাজিত ৩৬ ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ৪ বলে করা ১০ রানের সুবাদে দেড়শ পেরনো স্কোর পায় রাজশাহী। চিটাগংয়ের পেসার খালেদ আহমেদ ২টি উইকেট নেন। এ ছাড়া রবার্ট ফ্রাইলিঙ্ক, সানজামুল ইসলাম ও আবু জায়েদ রাহি একটি করে উইকেট পান।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ     

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...