কৌতুক: বিল গেটসের সামনে বাংলাদেশি তরফদারের কাণ্ড

মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান বিল গেটস তার নতুন অফিসের জন্য অন্য সব কাজের পাশাপাশি তুর্কি ভাষায়ও দারুণ দক্ষ।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৯ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫৭
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৯ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫৭

মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান বিল গেটস তুরস্কে একটি নতুন অফিস খুললেন। বিশাল অফিস, বিরাট লোকবল। দেশ বিদেশ থেকে দক্ষ লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও তিনি আরও একজন দক্ষ লোক খুঁজছেন। যিনি অন্য সব কাজের পাশাপাশি তুর্কি ভাষায়ও দারুণ দক্ষ।

পত্রিকা ও অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো। আবেদনপত্র জমা পড়ল প্রায় ২০ হাজার। সেখান থেকে একজন দক্ষ লোক খুঁজে বের করা খুব মুশকিল। তাই বিল গেটস একটা নতুন পন্থা বেছে নিলেন, সেখানে ২০ হাজার আবেদনকারীকেই ডাকা হলো।

এই ২০ হাজারের ভেতরে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন, যিনি একটা শর্ট কোর্স করে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের কাজ শিখেছেন। ওই বাংলাদেশির নাম ‘রাজিব তরফদার’। 

নির্দিষ্ট দিনে একটা বিশাল স্টেডিয়ামে ২০ হাজার লোক উপস্থিত হলেন। বিল গেটস তাদের উদ্দেশে বললেন, এখানে যারা ‘জাভা প্রোগ্রামিং’ পারেন, শুধু তারা থাকবেন। অন্যরা দয়া করে আসতে পারেন।

২০ হাজারের মধ্যে প্রায় ১০ হাজারের জায়গা হলো স্টেডিয়ামের বাইরে। তবে যারা টিকে গেলেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশি রাজিব তরফদারও রয়েছেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, এক মাসে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের কাজ শিখে ফেলেছি। জাভা প্রোগ্রামিং আর এমনকি। এক সপ্তাহের একটা শর্ট কোর্স করে নিলেই খেল খতম। সব শেখা হয়ে যাবে। এই চিন্তা করে তিনি থেকে গেলেন। 

স্টেডিয়ামের ভেতরে থাকা ১০ হাজার ব্যক্তির উদ্দেশে বিল গেটস বললেন, এখানে যাদের নেটওয়ার্কিংয়ে দক্ষতা আছে, শুধু তারা থাকবেন। অন্যরা দয়া করে আসতে পারেন।

এবারও প্রায় অর্ধেক স্টেডিয়াম ত্যাগ করলেন। কিন্তু তরফদার সাহেব থেকে গেলেন। তিনি ভাবলেন, ‘নেটওয়ার্কিং’ কোনো বিষয় হলো। চাকরিটা পেলে দুই দিনের মামলা!

এখন যে পাঁচ হাজার দক্ষ লোক স্টেডিয়ামে রয়েছেন, তাদের উদ্দেশে বিল গেটস বললেন, আপনাদের মধ্যে যাদের ‘উইন্ডোজ ও লিনাক্সে’ দক্ষতা আছে, শুধু তারা থাকবেন। অন্যরা দয়া করে আসতে পারেন।

৫ হাজারের মধ্যে ৩ হাজার স্টেডিয়াম ত্যাগ করলেন। কিন্তু থেকে গেলেন তরফদার। তিনি মনে মনে ভাবলেন, ব্যাপার না। চাকরিটা পেলে দুই দিনে একটা শর্ট কোর্স করে নিব।

বিল গেটস এবার বললেন, যারা তুরস্কের ভাষা ভালোমতো বলতে পারেন তারা থাকবেন। অন্যরা দয়া করে আসতে পারেন।

স্টেডিয়ামে থাকা ২ হাজার ব্যক্তির মধ্যে ১,৯৯৮ জন চলে গেলেন। থাকলেন মাত্র দুজন। তাদের মধ্যে তরফদারও রয়েছেন। তিনি এবারও ভাবলেন, একটা শর্ট কোর্স করে নিবেন।

বিল গেটস এবার তাদের কাছে চলে এলেন। দুজনের বেশ প্রশংসা করলেন। কাঁধ চাপরে বললেন, গুড, তোমরা দুইজন আমাদের সকল চাহিদা ফুলফিল করেছ। তোমাদের এখন আমি টেস্ট নিবো। তবে তার আগে তোমরা দুইজন একে অপরের সঙ্গে তুরস্কের ভাষায় কিছু কথা বলো তো দেখি। তুরস্কের ভাষার দক্ষতাটা আগে দরকার।

এবার রাজিব তরফদার একটু বিব্রত হলেন। ভাবছেন, কী বলবেন। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য লোকটার চেহারাও খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না। তরফদার সাহেব আমতা আমতা করে বললেন, ভাইজান, কেমন আছেন?

সামনের ভদ্রলোককে এতক্ষণে কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলো। তিনি দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বললেন, এইতো, ভালা আছি ভাই, আপনে কেমন আছেন?