রাকসুর ভবন। ছবি সংগৃহীত

ডাকসুর নির্বাচনি হাওয়া এবার রাকসুতে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর জানান, ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে উল্লিখিত তথ্যগুলো জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো তথ্য জমা নেওয়া হবে না।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫০ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৭
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫০ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৭


রাকসুর ভবন। ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে করেও মেলেনি সাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের। নির্বাচন নিয়ে কোনো সুরও মেলায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সম্প্রতি প্রশাসন থেকে ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বসার আশ্বাস দেওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে সংগঠনগুলো।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন এবং ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর কমিটির তালিকা ও গঠনতন্ত্র চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর জানান, ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে উল্লিখিত তথ্যগুলো জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো তথ্য জমা নেওয়া হবে না। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় অন্য সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা করা হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সংক্ষেপে রাকসু নামে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সৎ, মেধাবী এবং দেশপ্রেমিক ছাত্র নেতৃত্ব তৈরির উদ্দেশ্যে ১৯৬২ সালে রাকসু প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ১৯৫৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর. ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরীর কাছে ছাত্র সংসদের দাবি উত্থাপন করা হলেও ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের হস্তক্ষেপে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথম ভিপি হিসেবে মনিরুজ্জামান মিয়া ও জিএস হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক খান নির্বাচিত হন।

চলতি বছরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। ২৩ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

                         রাকসুর ভিপি-জিএস

ক্রমিক      সাল ভিপি      জিএস

 ১

 ১৯৫৬-১৯৫৭ মো. মনিরুজ্জামান মিয়া  মো. আব্দুর রাজ্জাক খান

১৯৫৭-১৯৫৮ আবুল কালাম চৌধুরী মো. আব্দুর রাজ্জাক খান

১৯৬২-১৯৬৩ শেখ মো. রুস্তম আলী মো. বজলুর করিম

১৯৬৩-১৯৬৪ সৈয়দ মাজহারুল হক মো. আব্দুর রউফ

১৯৬৪-১৯৬৫ আব্দুর রাজ্জাক বায়েজীদ আহম্মদ

১৯৬৫-১৯৬৬ আবু সাঈদ সরদার আমজাদ হোসেন

১৯৬৬-১৯৬৭ বায়েজীদ আহম্মদ আব্দুস সাত্তার

১৯৬৭-১৯৬৮ এ.এফ.এম. জামিরুল ইসলাম মো. আব্দুর রহমান

১৯৬৮-১৯৬৯ মো. আব্দুর রহমান জালাল উদ্দিন সেলিম

১০

১৯৬৯-১৯৭০ মীর শওকত আলী আব্দুস সামাদ

১১

১৯৭২-১৯৭৩ মো. হায়দার আলী আহম্মদ হোসেন

১২

১৯৭৩-১৯৭৪ নুরুল ইসলাম ঠান্টু শামসুল হক টুকু

১৩

১৯৭৪-১৯৭৫ ফজলুর রহমান পটল রফিকুল ইসলাম

১৪

১৯৮০-১৯৮১ ফজলে হোসেন বাদশা আবুল কালাম আজাদ

১৫

১৯৮৮-১৯৮৯ রাগীব আহসান মুন্না রুহুল কুদ্দুস বাবু

১৬

১৯৮৯-১৯৯০  রিজভী আহম্মদ রুহুল কুদ্দুস বাবু

উপাচার্য বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যারা নির্বাচন করবে তারা কতটা প্রস্তুত। তাদের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে নির্বাচন কোনদিন হবে। আমার মনে হয়, এ বছরের মধ্যেই হওয়া উচিত। এ বছর হওয়া মানে যে ডিসেম্বরেই হবে এমন কথা নয়, যত দ্রুত সময়ে পারা যায়, হয়ে যাক। আমি আশাবাদী, চলতি বছরই রাকসু নির্বাচন হবে।’

ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে ছাত্রদের। এখানে প্রশাসনের না দেওয়ার কী আছে? তার জন্য ছাত্র ও ছাত্র সংসঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি শতভাগ আশাবাদী, তারা চাইলে ২০১৯ সালেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন হলে ক্যাম্পাসে অমুক দল তমুক দলের পদের পরিচয় দিতে পারবে না। একটা পরিচয় থাকবে রাকসুর প্রতিনিধি। রাকসু হলে হল সংসদ নির্বাচন হবে, তখন হলের সমস্যাগুলোও আর থাকবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৬ সালে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. ইতরাৎ হোসেন জুবেরীর কাছে ছাত্র সংসদের দাবি উত্থাপন করা হলে ১৯৫৬ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম ভিপি মনিরুজ্জামান মিয়া ও জিএস পদে আব্দুর রাজ্জাক খান নির্বাচিত হন। তখন এ সংসদের নাম ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (রাসু)।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক ও নেতৃত্বের গুণাবলিসম্পন্ন তৈরি করার লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নামে যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে ১৯৮৯-৯০ বছর পর্যন্ত ১৪ বার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সালে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। আর ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল এ সংসদের নির্বাচন।

সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ সালের নির্বাচনে ভিপি রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও রুহুল কুদ্দুস বাবু জিএস ছিলেন। পরে তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে দেশের নানা অস্থিরতার অজুহাত তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাকসু নির্বাচন। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই রাকসু নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো চিঠি পেলে আমরা অবশ্যই প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসব। তবে আমরা রাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়টি এবং হলগুলোতে ভোট গ্রহণ না করে বিভাগভিত্তিক ভোট গ্রহণের আয়োজনের বিষয়ে প্রস্তাব দেবো; যেখানে নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কলঙ্কিত না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন হওয়াটা দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা চাই দ্রুত রাকসু নির্বাচন হোক। কেননা এখন নির্বাচনের যথেষ্ট ভালো সময়। আমরা দু’দিন আগে ভিসির কাছে রাকসু নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতির আগে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান জরুরি বলে মনে করি। তা ছাড়া নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবে, তাদেরকে প্রতি সকল প্রকার হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকতে হবে।’ অনুষদভিত্তিক নির্বাচন আয়োজন করার দাবি জানান তিনি।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী