ঢাকাই ছবির গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতার ছবিতেও পা রেখেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি: শামছুল হক রিপন

জীবন এত সহজ না, সহজ করে নিতে হয়: মিম

২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হওয়ার পর হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন বিদ্যা সিনহা সাহা মিম।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪২ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৭
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪২ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৭


ঢাকাই ছবির গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতার ছবিতেও পা রেখেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) মাঘের শীতে বাঘে পালায়—এ প্রবাদ এবারের শীতে পাত্তাই পাচ্ছে না। বিশেষ করে ঢাকায়। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে আগুনের ধারে গোল হয়ে ওম নেওয়ার দৃশ্য তো দেখাই যাচ্ছে না! আর এমনই এক সকালে আড্ডার গন্তব্যস্থল হয়ে উঠল জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা বিদ্যা সিনহা মিমের রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা। তুলে রাখা সময়ের মধ্যেই।

কলিংবেলের বোতাম চাপতেই বাসার দরজা খুলে দিলেন ছবি সাহা (মিমের মা)। কথা বলতে বলতে নিয়ে গেলেন বসার ঘরে। বসতেই সামনে হাজির হলেন মিম। বললেন, ‘হাতে সময় কম, ঝটপট কাজ সেরে নিতে হবে।’

বারান্দাজুড়ে চলছে রোদের খেলা। ঘরজুড়ে খেলা করছে শৈল্পিক ছোঁয়া। কথায় কথায় মিম জানালেন, তার স্বপ্নের মতো করেই সাজিয়েছেন ঘরটি।

ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে খুশি বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি: শামছুল হক রিপন

এক দশকের চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার নিয়ে খানিকটা ভেবে-চিন্তে মিম বললেন, ‘এত অল্প বয়সে অনেক কিছুই পেয়েছি, যা পেয়েছি তা নিয়েই হ্যাপি। কারণ আমার বন্ধুরা মাত্র পড়াশোনা শেষ করেছে, কেউবা জব শুরু করেছে। আর এই অবস্থানে এসে আমি এখন সফল নায়িকা। সামনে তো আরও অনেক সময় অপেক্ষা করছে।’

চলচ্চিত্র জীবনের এই যাত্রায় মিমকে ভালো-মন্দ-কঠিন সময়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে জীবেনের এই হিসাবগুলোর অঙ্ক কষতে ভুল করেননি তিনি। দেখেছেনও সহজ করে। 

তিনি বলেন, ‘জীবনে আপস অ্যান্ড ডাউন অলয়েজ থাকবে। এটার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। জীবন মানেই তো দুঃখ-কষ্ট থাকবে। ক্যারিয়ারে ভালো অবস্থানে যাওয়ার জন্য পরিশ্রম অনেক আগ থেকেই করছি। লাইফ এত ইজি না, ইজি করে নিতে হয়। আমার মনে হয়, যখন যেই প্রবলেম আসে, ওই সময়ের মধ্যেই সেটার সমাধান করাই বুদ্ধিমত্তার কাজ।’

ক্যারিয়ারের বিরূপ পরিস্থিতিগুলো কীভাবে অতিক্রম করেছেন? মিম বলেন, ‘পরিবার থেকে আমি সবসময় সাপোর্ট পেয়েছি। সেটা যেকোনো বিষয়েই। যার কারণে কখনো এমনটা হয়নি। যখন কোনো সমস্যা হয়েছে, সেটা শুধু আমার একার ছিল। যার কারণে আমি ওই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লেও তার সমাধান করতে খুব একটা সময় লাগেনি। আমি পজিটিভলি দেখি বিষয়গুলো।’

মিম অল্পতে রেগে গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে নিতে শিখেছেন। ছবি: শামছুল হক রিপন

শোবিজ জীবনে কোনো বিষয়ে ক্ষোভ বা জেদ তৈরি হলে সরাসরি মিম তার মায়ের কাছে শেয়ার করেন। এর কারণ হিসেবে মিম বলেন, ‘আমি নিজেকে খুব কম নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। মা আমাকে এ বিষয়গুলোতে গাইড করে। আমি শর্ট টেম্পারড, হুট করেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। তবে পরিস্থিতিটা নিজের মধ্যেই রাখি। কিন্তু আমি যদি ভুল করি, আমি স্যরি বলতে পারি, সে বোধটা আমার মধ্যে আছে। এই বোধটা গ্রো হয়েছে ফ্যামিলি থেকে।’

শোবিজে বর্তমান অবস্থানে আসার জন্য কে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে? মিমের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘শোবিজে ১১ বছর ধরে কাজ করছি। সেই শুরুর দিন থেকেই মা আমার সঙ্গে আছেন। যার কারণে চলার পথে ভুলও কম হয়েছে। যখন মা তার সন্তানকে এভাবে সময় দেয়, তখন কিন্তু পারিবারিক জীবনযাপনের অন্য বিষয়গুলোতেও ইফেক্ট পড়ে। তারপরও মা সবসময় আমার পাশে ছিলেন।’

কিছু ভালো বাজেট ও মানের ছবিতে অভিনয় করলেও মিমের জনপ্রিয়তার পারদটা একটা ছকে বন্দী। এ প্রসঙ্গে আলাপের শুরুতেই ভিন্নমত পোষণ করেন মিম। বলেন, ‘আমার কাছে তা মনে হয় না। সিনেমার ক্ষেত্রে অবশ্যই জনপ্রিয়তা বেড়েছে। না হয় আমি গত দুই-তিন বছরে যে বিগ বাজেটের ছবিগুলোতে অভিনয় করেছি, সেগুলোতে কাজ করতে পারতাম না।’

‘সামনেও কয়েকটি বিগ বাজেটের ছবিতে অভিনয়ের কথা হচ্ছে। বিষয়টা যদি অমন হতো, আমি সে কাজগুলো করতে পারতাম না। আমাকে নিয়ে কেউ ওভাবে ভাবতও না।’

মিম জানিয়েছেন তার সম্পর্কে অজানা একটি তথ্য। ছবি: শামছুল হক রিপন

তারকাদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি। মিমকে নিয়েও এমন কৌতূহল আছে তার ভক্তদের মাঝে। তেমন কি কিছু আছে? মিম জানালেন, না।

তৎক্ষণাৎ না বললেও পরক্ষণেই কী যেন ভেবে মিম বলেন, ‘আমার শোবার ঘরে কখনোই একা ঘুমাতে পারি না। হয় আমার সঙ্গে আমার সহকারী থাকবে, না হয় আমার মা। এমন হয়েছে, তারা কেউই নেই, তখন রুমের সব লাইট জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছি।’

আড্ডার ফাঁকেই মিম জানান, ফোন, ঘড়ি ও মেকআপ বক্স তার নিত্য জীবনের সঙ্গী। আর ফোন ছাড়া তার জীবন অচল। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘মনে হয় চারপাশে কিছু নাই, বোবা।’

পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো লজ্জার খবর। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই ঘটছে এমন অপরাধ। এ নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে মিম বলেন, ‘এ কাজগুলো তো আর আমার একার পক্ষে করা সম্ভব না। অনেকের সাপোর্ট লাগবে। আর্থিক বিষয়ও আছে। সে দিকগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি।’

মিম মনে করেন, বাংলাদেশে ধর্ষণের আইন হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড। এ কথার পেছনে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এ আইন হলে যারা এ ধরনের কাজ করার চিন্তা করছে, তারা অন্তত দশ বার ভাববে। যেই মানুষটার জীবনে এ ঘটনা ঘটে, সে-ই জানে বাস্তবতাটা কী! যে ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়, সে পশু।’

ইন্ডাস্ট্রিতে মিমকে ঘিরে নানা মুখরোচক গল্প চালু থাকলেও সেগুলো কান দিতে চান না তিনি। ছবি: শামছুল হক রিপন

ঢাকাই ছবির এ নায়িকা অকপটে কথা বলতে যতটা পটু, ব্যক্তিজীবনে ততটাই বিপরীত। ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে ঘিরে নানা মুখরোচক গল্প শোনা যায়। কেউ কেউ দাবি করেন, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এক কর্তাব্যক্তির সঙ্গে তার রয়েছে সখ্য। প্রসঙ্গটি তুলতেই ভারি বিরক্ত হলেন মিম।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে মিম বলেন, ‘আমি চাই না কেউ কখনো এ বিষয়ে কথা বলুক। একটা বিষয় কি, আমি একটা মানুষকে চিনি না, সেই বিষয়ে আমি কথাও বলতে চাই না। যারা বলছে তাদেরই হয়তো অন্য কোনো সমস্যা ছিল। মানুষ যা ইচ্ছা, তাই বলুক। আমি জানি আমি কেমন।’

ঘড়ির কাঁটা তখন বেলা ২টা অতিক্রম করেছে। ঘরজুড়ে যে রোদটুকু খেলা করছিল, তা তখন নেই বললেই চলে। দীর্ঘ আড্ডা শেষে মিম বললেন, ‘আজ এখানেই তবে শেষ হোক।’

মিম এখন ব্যস্ত গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’, অনিমেষ আইচের ওয়েব সিরিজ ‘বিউটি অ্যান্ড বুলেট’ এবং কলকাতার ‘থাইকারি’ ছবির কাজ নিয়ে।

সবশেষে মিম জানালেন, এ ছাড়া নতুন ছবি ও বিজ্ঞাপনে কাজ করার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে।

প্রিয় বিনোদন/রিমন