ফাইল ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ কোচিং সেন্টার, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফয়েল পেপারের বিশেষ নিরাপত্তা-প্যাকেটে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

জনি রায়হান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৬ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪২
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৬ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪২


ফাইল ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে মাসব্যাপী কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তার এই ঘোষণার অংশ হিসেবে আজ (২৭ জানুয়ারি) থেকে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা বস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এ বছর অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফয়েল পেপারের বিশেষ নিরাপত্তা প্যাকেটে প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। 

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কোচিং সেন্টার বন্ধের পাশাপাশি আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে গত কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় এবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষ শুরু হবার পরে ১১ ফেব্রুয়ারি প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ হয়েছিল, ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় গণিত পরীক্ষা। কিন্তু সকাল ৯টার সামান্য আগে-পরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে যায়, যা পরীক্ষার মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। এর আগে অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং ধর্ম বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এই ঘটনায় প্রথম দুদিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছিল।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে যেসব ব্যবস্থা  

গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মনিটরিং ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সভা শেষে সংবাদ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার থাকবে। এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যদি বিশেষ কোনো কারণে কারও দেরি হয় সেই ক্ষেত্রে দেরির কারণ ও পরীক্ষার্থীর নাম ঠিকানা লিখে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে’।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরেকটি পদক্ষেপ হচ্ছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করা। কেবল কেন্দ্র সচিব ক্যামেরাবিহীন ও ইন্টারনেট সংযোগ পায় না এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। এ ছাড়া পরীক্ষা ও প্রশ্ন বহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ কোনো মোবাইল ফোনই ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার কাজে জড়িত নন এমন কেউ কেন্দ্রে যেতে পারবেন না। এসব নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি পেতে হবে’।

দীপু মনি বলেন, ‘নানা পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে ২০১৮ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ কারণে ২০১৮ সালে নেয়া পদক্ষেপগুলো এবারও অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি আমরা নতুন আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হবে। প্রশ্ন ফাঁসের চেয়ে অতীতে গুজবই ছিল বেশি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। গুজব রোধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত গুজব প্রতিরোধ কমিটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কাজ করবে। প্রশ্ন ফাঁসকারী ও গুজবকারীদের পাকড়াও করা হবে। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি অব্যাহত আছে।’

কোচিং বাণিজ্য বন্ধের রিটের রায় ৭ ফেব্রুয়ারি

কোচিং বাণিজ্যে বন্ধের নীতিমালাসহ শিক্ষকদের নিয়ে করা রিটের রুলের ওপর রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।

২৭ জানুয়ারি, রবিবার এ বিষয়ে করা কয়েকটি পৃথক রিটের ওপর শুনানির পর বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না-সেজন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই নোটিশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ বিষয়ে শিক্ষকেরা হাইকোর্টে রিট করেন। রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। এক রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন ফিদা এম কামাল।

পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোচিং বাণিজ্য নিয়ে আজকে (২৭ জানুয়ারি) রায় প্রদানের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ মামলায় দুজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) ছিলেন। তাদের একজন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ, উনি উনার বক্তব্য আগেই শেষ করেছেন। আজকে আরেকজন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল তার বক্তব্য দিয়েছেন। উনি খুব বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কোচিং বাণিজ্য হলে কী কী হতে পারে, না হতে পারে সেসব বিষয়ে।

খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আদৌ এটা অ্যালাউ করা ঠিক কিনা তা জানাতে উনি (ফিদা এম কামাল) আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি (ফিদা এম কামাল) লিখিত আর্গুমেন্ট (ব্যাখ্যা) দেবেন। আদালত উনার কথা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি রায় প্রদানের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আগামী রবিবারের মধ্যে ফিদা এম কামালকে উনার লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলেছেন আদালত।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...