৬৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তামিম-শামসুর। ছবি: প্রিয়.কম

বৃষ্টির দাপটের পর কুমিল্লার শাসন

সাগরপাড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারল না ঘরের মাঠের দল চিটাগং ভাইকিংস।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৪ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৯
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৪ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৯


৬৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তামিম-শামসুর। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) সাগরপাড়ের হঠাৎ বৃষ্টির সব প্রভাব যেন চিটাগং ভাইকিংসের ব্যাটিংয়ের ওপর পড়ল। যে প্রভাবে চার-ছক্কার ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে ঘরের মাঠের দলকে দেখা গেল অন্য মেজাজে। স্কোরও থেকে গেল ছোট। যা পাড়ি দিতে তেমন বেগ পোহাতে হলো না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মঙ্গলবার বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে চিটাগংকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠল তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসদের দল।     

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামা চিটাগং ভাইকিংস পুরো ইনিংসজুড়ে ধুঁকেছে। ঘরের মাঠের দলটির কোনো ব্যাটসম্যানই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদের ৩৩ ও শেষের দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝড়ো গতির ৪৩ রানের সুবাদে নির্ধারিত ১৯ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৬ রান জমা করে মুশফিকুর রহিমের দল।

জবাবে তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমান শুভর ব্যাটে ১৬.৪ ওভারে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় কুমিল্লা। বিপিএলে এটা কুমিল্লার সপ্তম জয়। যা এখন পর্যন্ত কোনো দলের সর্বোচ্চ সাফল্য।

ছোট লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে সাবধানী শুরু করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। তবে এই সাবধানতাও কুমিল্লাকে দাপুটে শুরু এনে দিতে পারেনি। দলীয় ২৬ রানে ফিরে যান বিজয়। এরপর অবশ্য আর বিপাকে পড়তে হয়নি কুমিল্লাকে।

তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমান শুভ মিলে দলকে অনেকটা পথ এগিয়ে দেন। ২২ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৬ রান করে সামসুর যখন আউট হন, ততক্ষণে জয়ের কাছে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।   

তামিমের সঙ্গে যোগ দিয়ে বাকি কাজটুকু সারতে পারেননি অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। ৮ রান করে আউট হন তিনি। থিসারা পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তামিম। ৫১ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন দেশসেরা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। কুমিল্লার যাওয়া ৩ উইকেটের মধ্যে ২টি নেন আবু জায়েদ রাহি এবং একটি নেন খালেদ আহমেদ।   

এরআগে ব্যাটিংয়ে নামা ঘরের মাঠের দল চিটাগং ভাইকিংসের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বোলিং তোপে দলীয় ৩ রানের মধ্যেই ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক ও মারকুটে ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী রাব্বিকে হারাতে হয় চিটাগংকে। এই দুই ব্যাটসম্যানকে রানের খাতা খোলারই সুযোগ দেননি নিজের প্রথম ওভারে মাত্র এক রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেওয়া সাইফউদ্দিন।

দলের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। দলীয় ১৭ রানে ওয়াহাব রিয়াজের শিকারে পরিণত হয়ে থামতে হয় ৬ রান করা মুশফিককে। অন্য পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিল দেখে যেতে হচ্ছিল আরেক ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে। মুশফিকের বিদায়ের পর জাতীয় দলের সতীর্থ নাজিবুল্লাহ জাদরানকে নিয়ে এই অবস্থা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন শাহজাদ।

এই দুই আফগান ব্যাটসম্যানের জুটি লম্বা হয়নি। দলীয় ৩৬ রানে ফিরে যান নাজিবুল্লা। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। এরপর দ্রুত বিদায় নেন ক্যামেরন দেলপোর্ট ও সিকান্দার রাজা। শুরু থেকে এক পাশ সামলে রাখা শাহজাদকে সাজঘরে ফিরতে হয় রান আউট হয়ে। এরআগে ৩৫ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন ডানহাতি এই ওপেনার।

১৩ ওভারে চিটাগংয়ের স্কোরকার্ডে তখন মাত্র ৭০ রান। হয়তো ১০০ পেরোনোর চ্যালেঞ্জই তাদের কাছে বিশাল মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৮ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে হিসাব বদলে দেন ব্যাটকে রীতিমতো তরবারিতে পরিণত করা মোসাদ্দেক। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান কুমিল্লার বোলারদোর ওপর দিয়ে টর্নেডো বইয়ে দেন।

মূলত ২৫ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় মোসাদ্দেকের করা হার না মানা ৪৩ রানের সুবাদেই ৮ উইকেটে ১১৬ রানে পৌঁছায় চিটাগং। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় ২ উইকেট নেন কুমিল্লার অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। তবে শেষ ওভারে বেশ খরুচে ছিলেন তিনি। সাইফউদ্দিনের করা শেষ ওভার থেকে ১৪ রান তুলে নেন মোসাদ্দেক। কুমিল্লার হয়ে সাইফউদ্দিনের মতো ২টি করে উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ ও ম্যাচসেরা শহীদ আফ্রিদি।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...