সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি ঘিরে মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের। প্রতীকী ছবিটি সংগৃহীত

রান্নাবান্না ফেলে ফেসবুকে বুঁদ হওয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে খুন

রান্নাবান্না এবং ঘরের অন্য কাজকর্ম ফেলে রেখে সারাক্ষণ স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকায় সুষমাকে সন্দেহ করতে শুরু করেন রাজু। অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগও তোলেন।

আজাদ চৌধুরী
জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০


সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি ঘিরে মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের। প্রতীকী ছবিটি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি দিন দিন মানুষকে কর্মবিমুখ করে তুলছে। এর নেতিবাচক প্রভাবও কিন্তু কম নয়। ফেসবুককে ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্বই এর প্রমাণ। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুতে।

আনন্দবাজার পত্রিকার ৩১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বেঙ্গালুরুর রামনগর জেলার বিদাদি শহরে সুষমা (২৫) নামের এক গৃহবধূকে ইনস্টাগ্রামে মশগুল থাকায় খুন করেছেন তার স্বামী রাজু। গত ২০ জানুয়ারি এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে বিষয়টি সামনে এসেছে সম্প্রতি।

ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দুই বছর আগে গুদামকর্মী এসকে রাজুর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সুষমার। বন্ধুত্ব থেকে ক্রমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দুজনের। একপর্যায়ে বিয়ের আগে সুষমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পরিবারের সম্মতিতে ছয় মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। তিন মাস আগে ফুটফুটে এক ছেলের জন্ম দেন সুষমা। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি সুষমার আসক্তি ঘিরে সম্প্রতি মনোমালিন্য শুরু হয় তাদের।

রান্নাবান্না এবং ঘরের অন্য কাজকর্ম ফেলে রেখে সারাক্ষণ স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকায় সুষমাকে সন্দেহ করতে শুরু করেন রাজু। অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগও তোলেন। এ নিয়ে অশান্তি চরমে পৌঁছলে ঘটনার দিন রাজু প্রথমে সুষমাকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করেন; পরে গলা টিপে হত্যা করে ছোট্ট শিশুটিকেও।

এমন একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরও রাজু নির্বিকার ছিলেন। কিন্তু মেয়ে ও নাতির খবর না পেয়ে সন্দেহ জাগে সুষমার মায়ের। ২৬ জানুয়ারি মদনায়েকানাহাল্লি থানায় হাজির হন তিনি। মেয়ে ও নাতি নিখোঁজ বলে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই রাজুকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন। 

স্বীকারোক্তিতে রাজু জানান, স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাই ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে বেরোন। পরে মোটরবাইকে করে হেজ্জাল-মুট্টুরায়ানপুর রোডসংলগ্ন কুম্বলগড়ু জঙ্গল এলাকায় পৌঁছে পাথর দিয়ে সুষমার মাথা থেঁতলে খুন করেন। একপর্যায়ে হত্যার প্রমাণ গোপন করতে মৃত সুষমার দেহে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেন। এটুকুতেই তিনি ক্ষান্ত হননি। এরপর তিনি শিশু সন্তানটিকে গলা টিপে হত্যা করে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেন।

রামনগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে কখনো এমন ঘটনার কথা শুনিনি। সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনে কতখানি প্রভাব ফেলে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডই তার উদাহরণ। ফেসবুকেই রাজুর সঙ্গে আলাপ সুষমার। আর সোশ্যাল মিডিয়াই প্রাণ কেড়ে নিল তার।’

প্রিয় সংবাদ