বিনা দোষে তিন বছর সাজা খেটে বের হওয়া পাটকল শ্রমিক জাহালম (বামে) ও আইনজীবী অমিতদাশ গুপ্ত। ছবি: প্রিয়.কম

ফোন না পেয়েও খুশি জাহালমের আইনজীবী

কিন্তু তাতে মোটেও অখুশি নন অমিত দাশগুপ্ত। জাহালমের মুক্তিতে বরং খুশি হয়েছেন এই আইনজীবী। কাজ করতে চান আরও জনস্বার্থের মামলা নিয়ে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৮ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৮
প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৮ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৮


বিনা দোষে তিন বছর সাজা খেটে বের হওয়া পাটকল শ্রমিক জাহালম (বামে) ও আইনজীবী অমিতদাশ গুপ্ত। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুল মামলায় টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালম বিনা দোষে জেল খেটেছেন তিন বছর। এ বিষয়ে পত্রিকার প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে এনেছিলেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত

এরপর তার দেখানো প্রতিবেদন আমলে নিয়ে জাহালমকে আটক করে রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল, পরে কারামুক্তির আদেশ দেয় আদালত।

৩ ফেব্রুয়ারি, রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আদালতের আদেশে কারামুক্ত হন জাহালম।

জাহালম কারামুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। জাহালমের এই খবরটি দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিসহ কারোরই অজানা নয়।

তার মুক্তির জন্য হাইকোর্টে আইনি সহায়তা দিয়েছেন অমিত দাশগুপ্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত জাহালম বা তার পরিবারের কারও সঙ্গেই কথা হয়নি এই আইনজীবীর। কেউ তাকে দেখা করে বা ফোন করে ধন্যবাদ জানায়নি।

কিন্তু তাতে মোটেও অখুশি নন অমিত দাশগুপ্ত। জাহালমের মুক্তিতে বরং খুশি হয়েছেন এই আইনজীবী। কাজ করতে চান আরও জনস্বার্থের মামলা নিয়ে।

৪ ফেব্রুয়ারি, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা হয় অমিত দাশ গুপ্তের। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাহালম মুক্তি পেয়েছে এ খবর শুনে আমি অত্যন্ত খুশি। আমার শ্রম সার্থক।’

আদালতের আদেশের পর আপনার সঙ্গে জাহালম বা তার পরিবোরর কেউ যোগাযোগ করেছিল কি না? এমন প্রশ্নে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমার সঙ্গে এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। আমি যতটুকু জানি জাহালমের পরিবারের সদস্যরা গরীব। অল্প শিক্ষিত। তারা এতো সচেতন হলে জাহালম এতদিন কারাগারে থাকত না। তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন দেওয়া বা যোগাযোগ না করাতে অখুশি নই।’

জাহালমের পরিবার ছাড়া অন্য কেউ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন থেকে গতকাল আমাকে একজন ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছে।’

দেশে অন্য মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন রয়েছে তারা কেউ যোগাযোগ করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না। কেউ আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি।’

গত ৩০ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন এই আইনজীবী।

শুনানি নিয়ে আদালত জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করে। একই সঙ্গে নিরীহ জাহালমের গ্রেফতারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতিনিধি ও আইন সচিবের প্রতিনিধিকে ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় স্বশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়।

পরে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত), মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, স্বরাষ্ট্র সচিবের (সুরক্ষা) প্রতিনিধি যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেন এবং আইন সচিবের প্রতিনিধি সৈয়দ মুশফিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হন।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেকের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২৬টিতে জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসিবে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। চিঠি পাওয়ার পর দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে পাঁচ বছর আগে জাহালম বলেছিলেন, তিনি সালেক নন। বাংলায় লিখতে পারলেও ইংরেজিতে লিখতে জানেন না। কিন্তু নিরীহ পাটকলশ্রমিক জাহালমের কথা সেদিন দুদকের কেউ বিশ্বাস করেননি। এরপর ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের এসব মামলায় জাহালম গ্রেফতার হন। তিনি জেল খাটেন তিন বছর।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল