বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং করাতে পারবেন না: হাইকোর্ট

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং করাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৯ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৯
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৯ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৯


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং করাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমন আদেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু যেসব ব্যক্তি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত নন, তারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিং করাতে পারবেন।

১১ ফেব্রুয়ারি, সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে ডেকে নিয়ে এমন কথা বলেন হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল।

পরে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্য একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এই দুই বিচারপতি মহোদয়ের আদালতে উপস্থিত ছিলাম। তখন আদালত আমাকে ডেকে জানান, কোচিং নিয়ে বিচারপতিগণ টেলিভিশনে দেয়া আমার দুটি টক শো দেখেছেন। তাই কোচিংয়ের সংজ্ঞা নিয়ে তারা বক্তব্য স্পষ্ট করে আমাকে জানান।’

‘আদালত আমাকে আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাইরে যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তারা তাদের কার্যক্রম চালু রাখতে পারবেন। তবে যারা কোনো-না-কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত তাদের ক্ষেত্রে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের ২০১২ সালের নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।’

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারি অনুমোদিত নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত পাঁচটি পৃথক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

২০১৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারকে সুপারিশ করে।

দুদকের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নোটিশ দেয় সরকার। এরপর সরকারের নোটিশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন শিক্ষকরা।

রিটের শুনানি করে ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই নোটিশের কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। পরে একই বছর আপিল বিভাগ শুনানি করে আদেশ দেয় ২০১৮ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হবে।

আদালত এ রুল নিষ্পত্তির জন্য সিনিয়র আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামালকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর দীর্ঘদিন পর চূড়ান্ত শুনানি শেষ করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী