মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: প্রিয়.কম

‘যা নেই সেটা নিয়ে ভেবে কী লাভ’

প্রথম ওয়ানডের আগে দলের অবস্থা, কন্ডিশন, সাকিব আল হাসানের না থাকা, বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের কিছু বিষয় নিয়ে নিউজিল্যান্ড থেকে প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা বললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৬ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৬
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৬ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৬


মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শেষ করেই উড়াল দিতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডে। লম্বা টুর্নামেন্ট শেষ করেও ফুরসত মেলেনি। এমনকি সেখানে গিয়ে অনুশীলনের জন্যও পর্যাপ্ত সময় পাননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বুধবার ভোরেই নেপিয়ারে (বাংলাদেশ সময় ৭টা) নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

প্রথম ওয়ানডের আগে দলের অবস্থা, কন্ডিশন, সাকিব আল হাসানের না থাকা, বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের কিছু বিষয়সহ আরো অনেক কিছু নিয়েই নিউজিল্যান্ড থেকে প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা বলেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।  

প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের আবহাওয়া কেমন লাগছে?

মাশরাফি বিন মুর্তজা: সব সময়ের মতোই। ভালোই লাগছে। সামারে যেমন থাকে এখানকার আবহাওয়া, তেমনই আছে। খারাপ লাগছে না।

প্রশ্ন: রাত পেরোলেই প্রথম ওয়ানডে। কতটা আশাবাদী এই ম্যাচ নিয়ে?

মাশরাফি: অন্য কোনোভাবেই দেখার সুযোগ নেই। ম্যাচ আছে কাল, সব ফোকাস সেদিকেই। জয়ের ব্যাপারটা তো অবশ্যই মাথায় থাকে। আমাদেরও থাকছে। সবাই বেশ ভালো অবস্থায় আছে। আল্লাহ ভরসা, দেখা যাক।

প্রশ্ন: সাকিব আল হাসানকে পাচ্ছেন না ওয়ানডে সিরিজে। প্রতিপক্ষের মাঠে এমন একজন সদস্যকে ছাড়াই মোকাবেলা করা কতটা কঠিন হবে?

মাশরাফি: আসলে এই বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেক বলে ফেলেছি। এখন ও নেই, কী আর করার আছে। এই ব্যাপারটা আমাদের কারো হাতে নেই। আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবেই হয়েছে। যা নেই সেটা নিয়ে ভেবে কী লাভ! বরং যা আছে তা নিয়েই খেলতে হবে। ভালো করে খেলতে হবে, চেষ্টা করতে হবে। এর বাইরে আসলে কথা বলার জায়গা আছে বলে মনে হয় না।

প্রশ্ন: ঘরের মাঠেই ভারতের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে নিউজিল্যান্ড। এই সিরিজটা দেখে কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে শুরু করার সুযোগ আছে কি না?

মাশরাফি: দুইটা রিস্ট স্পিনার থাকলে স্বস্তি পাওয়ার উপায় ছিল। কিন্তু আমাদের তা নেই। আপনি দেখেন ভারত যে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে, সেখানে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল কুলদ্বীপ আর চাহালের। এই দুজনই বলা যায় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে।

প্রশ্ন: নিউজিল্যান্ডের পেসারদের পাশাপাশি ওখানকার বাতাসও প্রতিপক্ষের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এবারো এটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে কি না?

মাশরাফি: এটা তো আছেই। এটা নিয়ে আসলে কিছু করার নেই। নিউজিল্যান্ডে বাতাস তো থাকবেই। এটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে। এ ছাড়া উপায় নেই।

প্রশ্ন: পারফরম্যান্স বা কন্ডিশনের বিচারে প্রতিটা সিরিজেই নির্দিষ্ট কিছু ক্রিকেটারের কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা থাকে। এই সিরিজে আপনার দলে এমন কেউ কি আছেন, যার কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করছেন?

মাশরাফি: আসলে এভাবে ভাবি না আমি। সবার কাছ থেকে সমান প্রত্যাশা থাকবে আমার। আমার নিজের কাছে যে প্রত্যাশা থাকবে, অন্যদের কাছ থেকেও একইভাবে চাইব। এর মধ্য থেকে কেউ ভালো করবে, আবার হয়তো কেউ সেভাবে পারবে না। তবে সব সময়ের মতো আমি চাই, সবাই দলের জন্য অবদান রাখুক। কারো কাছ থেকে বেশি, কারো কাছ থেকে কম প্রত্যাশা রাখার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: দলের প্রায় সবাইকেই বিপিএলে অনেকগুলো ম্যাচ খেলতে হয়েছে। সেখান থেকে সোজা নিউজিল্যান্ডে। টানা ম্যাচের মধ্যে থাকায় কিছুটা চাপ হয়ে গেল কি না?

মাশরাফি: চাপ তো কিছুটা হলোই। কিন্তু কিছু করার নেই। সূচি অনেক আগে থেকেই করা। তারপরও খেলতে হবে। কোনো এক্সকিউজ দিয়ে লাভ নেই। আমরা সবাই পেশাদার খেলোয়াড়। এমন ব্যাপারগুলো মানিয়ে নেয়াও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

প্রশ্ন: বিপিএল নিয়ে দুই-একটা প্রশ্ন। বিপিএলে রংপুর রাইডার্স যেভাবে খেলেছে, অধিনায়ক হিসেবে সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন কি না?

মাশরাফি: সবাই তো চেষ্টা করেছে। অনেকে বেশ ভালো ছন্দে ছিল। সব মিলিয়ে বলা যায় ভালোই। তবে দুটি কোয়ালিফায়ার খেলেও ফাইনালে উঠতে না পারার ব্যাপারটা ভালো ছিল না। আমাদের সামনে ভালো সুযোগ ছিল ফাইনালে ওঠার। কিন্তু সেটা করতে পারিনি।

প্রশ্ন: রংপুরকে বেশিরভাগ ম্যাচ জিতেয়েছে বিদেশিরা। এই মিশনে দেশি ক্রিকেটাররা আরেকটু অবদান রাখতে পারলে ফাইনালে ওঠা বা শিরোপা জেতার পথটা তৈরি হতে পারত কি না?

মাশরাফি: হ্যা, সেটা তো অবশ্যই হতে পারত। ওদের সাথে দেশি ক্রিকেটাররা ওইভাবে পারফরম্যান্স করতে পারলে আমরা গ্রুপ পর্বে আরো কিছু ম্যাচ জিততে পারতাম। একই সঙ্গে হয়তো ফাইনালেও জায়গা করে নিতে পারতাম। কিন্তু যেটা হয়নি সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।

প্রশ্ন: বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে তরুণদের অনেক কিছু শেখার থাকে। সিনিয়র ক্রিকেটার বা বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের খুব কাছে যাওয়ার সুযোগ পায় তারা। কিন্তু আপনাদের মতো সিনিয়র যারা আছেন, তারা এই টুর্নামেন্ট থেকে কী বা কতটা নিতে পারেন?

মাশরাফি: বড় করে ভাবলে অনেক কিছুই থাকে আসলে। ম্যাচ অনুশীলনটা ভালোমতো হয়ে যায়। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে যেহেতু সমস্যা আছে আমাদের, এখানে সুযোগ থাকে অনেক কিছু নিয়ে কাজ করার। এমন আরো অনেক কিছুই থাকে নেওয়ার মতো।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ