বনানীর হোটেল রেইনট্রি। ছবি: সংগৃহীত

রেইনট্রির সেই ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাতের জামিন বাতিল

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাফাত আহমেদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪২ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪২
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪২ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪২


বনানীর হোটেল রেইনট্রি। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাফাত আহমেদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সাফাত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। একই সঙ্গে সাফাত আহমেদের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিমের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা করেছে আদালত।

১৩ ফেব্রুয়ারি, বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এ আদেশ দেন।

এদিন ধর্ষণের শিকার এক তরুণীকে জেরার দিন ধার্য ছিল। এ জন্য ভিকটিম আদালতে হাজির হন। সঙ্গে মামলার পাঁচ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। নাঈম আশরাফের পক্ষে তার আইনজীবী মাসুদ রানা মোহাম্মদ হাফিজ ভিকটিমকে জেরা করেন। কিন্তু জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত আগামী ৬ মার্চ অবশিষ্ট জেরার জন্য দিন ধার্য করে।

এরপর সাফাতের জামিন বাতিলের শুনানি হয়। সাফাতের পক্ষে আইনজীবী এবিএম খায়রুল ইসলাম লিটনসহ কয়েকজন আইনজীবী সাফাতের জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। শুনানিতে তারা বলেন, সাফাতের কিডনিতে পাথর জমেছে। ডান পাশেরটা অপারেশন করা হয়েছে। বাম পাশেরটা অপারেশন করতে হবে। আসামি জামিনের অপব্যবহার করেননি, নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি। আর পলাতক হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা তার জামিন স্থায়ী করার আবেদন করছি।

পরে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবুসহ বাদী পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জামিন বাতিলের বিষয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত সাফাতের জামিন বাতিল করে।

এরপর এ মামলার অপর আসামি নাঈম আশরাফের জামিন শুনানি শুরু হয়। তার আইনজীবী বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর থেকে নাঈম আশরাফ জেলে আছেন। অপর আসামিরা জামিন পেলেও তিনি জামিন পাননি। এটা একটা দুর্ঘটনা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তার জামিন দেওয়া হোক।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশরাফের জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, ‘আসামি নিজে এবং ভিকটিম ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ভিকটিম পরে মেডিকেল করিয়েছেন। আসামি জামিনে গেলে সাক্ষী আনতে পারব না। আর হুমকি তো দিবেই। এমতাবস্থায় আমরা তার জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’ পরে নাঈম আশরাফের জামিন নামঞ্জুর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ নভেম্বর সাফাত আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেন একই বিচারক।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অস্ত্রের মুখে ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। এ অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সে মামলায় আসামিরা কারাগারে।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...