জাতীয় সংসদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি স্থানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট: মোস্তাফা জব্বার

‘ইতোমধ্যে বিটিসিএলের মাধ্যমে ১২০০ ইউনিয়ন পর্যন্ত ইন্টারনেট কানেকশন পৌঁছেছে। আমরা ইনফো সরকার-৩ নামের আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ২৬০০ ইউনিয়নে কানেকটিভিটি পৌঁছাচ্ছি। কয়েকশ ইউনিয়ন শুধুমাত্র বাকি রয়েছে।’

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২৫ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২৫
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২৫ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২৫


জাতীয় সংসদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি স্থানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

১৩ ফেব্রুয়ারি, বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিটিসিএলের মাধ্যমে ১২০০ ইউনিয়ন পর্যন্ত ইন্টারনেট কানেকশন পৌঁছেছে। আমরা ইনফো সরকার-৩ নামের আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ২৬০০ ইউনিয়নে কানেকটিভিটি পৌঁছাচ্ছি। কয়েকশ ইউনিয়ন শুধুমাত্র বাকি রয়েছে।’

‘আমাদের আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ৭৭২টি ইউনিয়নে কানেকটিভিটি পৌঁছানোর জন্য এখন কার্যক্রম চলছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পরে কোনো ইউনিয়নে কানেকটিভিটির অভাব থাকবে না। এমনকি আমরা এরই মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি, যার ফলে চর-দ্বীপ, দুর্গম এলাকাগুলোতেও যাতে কানেক্টিভিটি পৌঁছানো যায়, একই সঙ্গে স্যাটেলাইট ব্যবহার করেও যাতে ইন্টারনেট দেওয়া যেতে পারে, এটিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা থাকবে না, যে জায়গা থেকে সরাসরি দ্রুত গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে প্রবেশ করা যাবে না।’

সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্প, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৬৪ সদর উপজেলায় সাত দিনব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান। দেশব্যাপী লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রফেশনাল ট্রেনিং প্রদান করা হচ্ছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, এমনভাবে কোনো চুক্তির মধ্যে নেওয়া হয়নি যে তারাই কেবলমাত্র ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ করতে পারবে। এটি বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ, বাংলাদেশ সরকার এর যাবতীয় দায়-দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং পত্রপত্রিকায় বা গণমাধ্যমে এ ধরনের যদি কোনো কিছু প্রকাশ হয়ে থাকে, সেটি সঠিক নয়।’

বাংলাদেশ এখন কম্পিউটার বানায় ও রপ্তানি করে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘২০১৫ সালের ৬ আগস্ট ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন “বাংলাদেশ কম্পিউটার বানাবে এবং তা বিদেশে রপ্তানি করবে”। বাংলাদেশ এখন কম্পিউটার বানায় এবং রপ্তানি করে। স্যামসাংয়ের মতো কোম্পানি এখন বাংলাদেশে এসে মোবাইল ফোন সংযোজন করে।’

অপর সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার, ট্যাব এবং মোবাইল ফোনের মাদারবোর্ড তৈরি করবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে কমপক্ষে ছয়টি মোবাইল কারখানা চালু হয়েছে, আরও ছয়টি মোবাইল ফোন কারখানা চালু হবে। পৃথিবীর বিখ্যাত দেশগুলো এখন বাংলাদেশকে ঠিকানা হিসেবে নিচ্ছে। এ দেশ থেকে যন্ত্রাংশ তৈরি করে তারা বিদেশে নিয়ে যাবে।’

এদিকে সংসদে বেশ কয়েকজন সদস্য নিজেদের নির্বাচনি এলাকায় হাইটেক পার্ক স্থাপনের জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী জানান, হাইটেক পার্ক বা এই জাতীয় স্থাপনা তৈরিতে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালা হলে জানা যাবে কোথায়, কোন পর্যায়ের, কী ধরনের হাইটেক পার্ক করা উচিত।

প্রিয় প্রযুক্তি/আজাদ চৌধুরী