জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

জাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজিবের অনুসারীরা হল থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের হল শহীদ সালাম বরকত হলে হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ইউসুফ জামিল
কন্ট্রিবিউটর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৩ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৩
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৩ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৩


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশবিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল ও বর্তমান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

এর আগে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল তার স্ত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন। এ সময় বর্তমান সম্পাদক চঞ্চল নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজীব আহমেদ রাসেলকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজিবের অনুসারীরা হল থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের হল শহীদ সালাম বরকত হলে হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে সর্বমোট ছয় রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। বর্তমান সম্পাদকের অনুসারীদের দিক থেকে দুই এবং সাবেক সম্পাদকের অনুসারীদের দিক থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

সাবেক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদককে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজুল হাসান। ছবি: প্রিয়.কম
সাবেক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদককে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজুল হাসান। ছবি: প্রিয়.কম

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, ছাত্রলীগ কর্মী সাজ্জাত, বাহার, মোস্তফা, উৎস ও রনিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, ‘আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এনাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের এখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

সংঘর্ষের বিষয়ে রাজিব আহমেদ রাসেল প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেছে, লাঞ্ছিত করেছে। আমার ওয়াইফকেও তারা লাঞ্ছিত করেছে।’

এ বিষয়ে আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘এর আগেও আমার সে (রাজিব) ওপর চড়াও হয়েছিল। আমাকে লাঞ্ছিত করেছিল। আমাকে সে নানা বিষয়ে প্রেসার ক্রিয়েট করার চেষ্টা করে। আমি বারবারই এসব না করতে নিষেধ করেছি। আজকে সে ক্যাম্পাসে আসলে আমি গিয়ে বলেছি যেন সে ক্যাম্পাস থেকে চলে যায়। কারণ পোলাপান তার ওপর খেপে আছে। এ সময় তার ওয়াইফ ভিডিও করতে থাকলে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তার পক্ষের লোকজন রবীন্দ্রনাথ হলের সাদ্দামের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে।’

প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো রেইড দেওয়া সময়ের দাবি। আমরা হলগুলো রেইড দেওয়ার কথা ভাবছি।’

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...