কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুই তারকা তামিম ইকবাল ও স্টিভেন স্মিথ। ছবি: প্রিয়.কম

কুমিল্লার অধিনায়কত্ব নিয়ে তিক্ত গল্প শোনালেন সালাহউদ্দিন

এজেন্টের কাছেই তামিম জানতে পারেন, তিনি নন। অধিনায়কত্ব পাচ্ছেন স্মিথ। এ ঘটনায় রীতিমত ধাক্কা খায় তামিম, হয়েছিলেন হতাশও।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৫ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৫
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৫ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৫


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুই তারকা তামিম ইকবাল ও স্টিভেন স্মিথ। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ষষ্ঠ আসরের প্লেয়ার ড্রাফটের প্রায় মাসখানেক পর ভক্ত-সমর্থকদের রীতিমতো চমকে দিয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানায়, কুমিল্লার হয়ে বিপিএল মাতাতে আসছেন স্টিভেন স্মিথ। যদিও প্লেয়ার ড্রাফটের পর স্মিথের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি তোলে টুর্নামেন্টের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। অনেক নাটকীয়তার পর ছাড়পত্র পান অস্ট্রেলিয়ার এই ডানহাতি তারকা ব্যাটসম্যান।

এমনকি টুর্নামেন্টে তাকে খেলানোর জন্য নিয়ম পর্যন্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গভর্নিং কাউন্সিল। পরবর্তী সময়ে এই স্মিথের কাঁধেই তুলে দেওয়া হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের নেতৃত্বভার। যদিও কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে দুই ম্যাচ খেলেই বিপিএল শেষ হয়ে যায় এই অস্ট্রেলিয়ান তারকার! এরপর তামিম ইকবালকে অধিনায়ক করতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। দায়িত্ব দেওয়া হয় ইমরুল কায়েসকে।

এই ইমরুলের নেতৃত্বেই বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের শিরোপা জেতে কুমিল্লা। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামার ৬ দিন পর বোমা ফাটালেন কুমিল্লার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। জানালেন অধিনায়কত্ব নিয়ে তার তিক্ত গল্প।

জনপ্রিয় ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালাউদ্দিন জানান, বিপিএলের ষষ্ঠ আসর মাঠে গড়ানোর আগে থেকেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পরিকল্পনায় দলের অধিনায়ক হিসেবে তামিমকেই ভাবা হয়েছিল। এমনকি তামিম নিজেও তাই জানতেন। দেশসেরা এই ওপেনারের হস্তক্ষেপেই স্মিথের মতো তারকা খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ায় কুমিল্লা।

অথচ সেই স্মিথের এজেন্টের কাছেই তামিম জানতে পারেন তিনি নন, অধিনায়কত্ব পাচ্ছেন স্মিথ। এ ঘটনায় রীতিমত ধাক্কা খায় তামিম, হয়েছিলেন হতাশ। সালাউদ্দিনের ভাষ্য, ‘গত ৬ থেকে ৭ মাস আমি ও তামিম বিপিএলে আমাদের দলের ফরমেশন কেমন হবে সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করেছি। কোথায় কোথায় আমাদের বেশি জোর দিতে হবে সেই পরিকল্পনা সাজিয়েছি।’

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘স্মিথের সাথে যোগাযোগ করতে তামিমই আমাদের সাহায্য করেছে। তাকে বাংলাদেশে আনতে ঐই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। শুরুতে আমরা সবাই জানতাম তামিমই আমাদের অধিনায়ক। আমরা সেভাবেই আমাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলাম। স্মিথের এজেন্টের কাছ থেকে তামিম জানতে পারে যে স্মিথকে অধিনায়ক করা হয়েছে। এটা তামিমের জন্য প্রচণ্ড এক ধাক্কা ছিল। তার হতাশ হবার যথেষ্ট কারণ ছিলো। একটা প্রতিযোগিতামূলক স্কোয়াড গড়তে ঘাম ঝরানোর পর হুট করে এমন হওয়াটা অস্বাভাবিক বটে।’

অধিনায়কত্ব না পাওয়ার ঘটনা তামিমকে বিচলিত করেনি। এর পেছনে সালাউদ্দিনের যুক্তি, স্মিথকে অধিনায়ক করার কথা কোচকে ভাবতে বলেছিলেন তামিম। সালাউদ্দিনের ভাষ্য, ‘সবকিছু নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হবার আগ অব্দি স্মিথও জানতো তামিম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক হবেন। এমনকি স্মিথ তামিমকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সে কি নেতৃত্ব দেবে? সত্যি কথা বলতে অধিনায়কত্বের জন্য ঘুম হারাম করার মতো ছেলে তামিম না। স্মিথ দেশে আসার পর তামিম  নিজেই আমাকে চিন্তা করতে বলেছিল স্মিথকে অধিনায়ক করার ব্যাপারে।’

হুট করে কাউকে না জানিয়ে স্মিথকে অধিনায়ক করাতে ব্যাপারটা হতশ্রী হয়ে যায়। অথচ বিষয়টি আরও ভালোভাবে সামলাতে পারলে গোছানো সাজঘর পেতেন বলে মত সালাউদ্দিনের। এ নিয়ে কুমিল্লার এই কোচ বলেন, ‘টুর্নামেন্টের ঠিক আগে হুট করে স্মিথকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তে গোটা ব্যাপারটা হতশ্রী হয়ে যায়। আমি এখনো বিশ্বাস করি আমরা যদি ব্যাপারটা ভালোভাবে সামলাতে পারতাম তাহলে আমরা আরও গোছানো সাজঘর পেতে পারতাম।’

বিপিএলের শুরুতে তামিমের পারফরম্যান্স ঠিক তামিমসুলভ ছিলো না। সালাহউদ্দিন মনে করেন, অধিনায়কত্ব নিয়ে ওই ঘটনাই এর জন্য দায়ী। তবে প্রিয় শিষ্যকে বাহবা দিচ্ছেন, এসব ভুলে সত্যিকারের পেশাদারিত্ব দেখানোর জন্য। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি মনে করি টুর্নামেন্টের শুরুতে তামিমের পড়তি পারফরম্যান্সের জন্য এটি অন্যতম কারণ। এমনটা পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই হতে পারতো। ভাগ্য ভালো তেমনটা হয়নি। যা কিছু হয়েছে তা যেকারো অহং এ আঘাত করতো, কিন্তু সে এটা কাটিয়ে ওঠে সত্যিকারের পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। যত সময় গিয়েছে সে তার ভেতরের কষ্ট ভুলে সামনে এসেছে। সে মাঠের মধ্যে তার পরামর্শ ইমরুলের সাথে ভাগ করেছে।’

সালাহউদ্দিন মানছেন, এসব কারণেই স্টিভ স্মিথ অস্ট্রেলিয়া ফেরত যাবার পর তামিম অধিনায়কত্ব নিতে চাননি। শিষ্যের সিদ্ধান্তকে শতভাগ সমর্থন করেন সালাহউদ্দিন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই পরবর্তীতে তামিমের আর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব না নেওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ। আমি মনে করি তামিম সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। অধিনায়ক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যা কিছু হয়েছে তাতে ওর জায়গাতে অন্য যেই থাকতো সেও এরকমই সিদ্ধান্ত নিতো। আর সেই কারণেই টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য আমরা ইমরুলকে অধিনায়ক হিসেবে পছন্দ করি।’

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...