অপারচুনিটি রোভার। ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছর বয়সে মঙ্গলে অপারচুনিটি রোভারের মৃত্যু

টানা ১৫টি বছর মঙ্গল গ্রহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এই রোবটটি। বুধবার তাকে মৃত ঘোষণা করে নাসা।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:১৩ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:১৩
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:১৩ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:১৩


অপারচুনিটি রোভার। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মঙ্গল গ্রহ নিয়ে যে গবেষকরা বর্তমানে শত শত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, তার পেছনে বিশাল অবদান রেখেছে মঙ্গলের বুকে গড়িয়ে চলা রোবট অপারচুনিটি রোভার।

২০০৩ সালের গ্রীষ্মে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে একটি মহাকাশযানে উৎক্ষেপণ করা হয় স্পিরিট ও অপারচুনিটি এই দুই রোভার রোবটকে। ২০১০ সালে এক চোরাবালিতে আটকে যায় স্পিরিট। সে সূর্যের আলোয় ফিরে আসতে অক্ষম হয় ও মূলত ঠাণ্ডায় জমে অকেজো হয়ে পড়ে। কিন্তু অপারচুনিটি চলতে থাকে। আট মাস আগে মঙ্গলের বুকে ভয়াবহ এক ধূলিঝড়ে পড়ে নীরব হয়ে যায় অপারচুনিটি। ধুলিঝড়ের কারণে সে সূর্যের আলোয় আসতে পারে না আর এ সময়ে তার কলকব্জায় কোনো একটা ক্ষতি হয়। ২০১৮ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলে এ ঝড়। কিন্তু ঝড় শেষ হলেও অপারচুনিটির সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এরপরেও তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এর সাথে সাথে অপারচুনিটি মিশনের সমাপ্তি টানা হয়।

প্রাথমিকভাবে মাত্র ৯০ দিনের জন্য স্পিরিট ও অপারচুনিটি রোভার মঙ্গলে তথ্য সংগ্রহ করবে বলা হলেও তারা পর্যায়ক্রমে ৭ ও ১৫ বছর ধরে কাজ করে গেছে! প্রতিবছর একাকী এই গ্রহে নিজেকে নিজে জন্মদিনের গান গেয়ে শুনিয়েছে সে। বিগত দেড় দশক ধরে মঙ্গলের বুকে অভিযান চালিয়েছে অপারচুনিটি। প্রায় একটা ম্যারাথন দৌড়ের সমান জায়গা জুড়ে সে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মঙ্গলে একটা সময়ে বিপুল পরিমাণে পানি ছিল।  শুধু তাই নয়, মঙ্গলকে পৃথিবীর মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতেও কাজ করেছে অপারচুনিটি ও তার জমজ স্পিরিট।  

সূত্র: স্পেস ডট কম

প্রিয় বিজ্ঞান/ আরবি/ আশরাফ