নুসরাত ইমরোজ তিশা। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম

‘আমার ডিকশনারিতে সব ধরনের ফিল্ম থাকা উচিত’

‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ছবিতে দীপ্তি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রিয়.কমের সঙ্গে।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৪ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪১
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৪ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪১


নুসরাত ইমরোজ তিশা। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) দীপ্তি, মফস্বল শহরের খুব সাধারণ এক মেয়ে। কষ্ট পেলে যে কাঁদে, ভালো কিছু ঘটলে আনন্দ ছুঁয়ে যায় তাকে। আছে লজ্জাবোধও। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে চায়। দীপ্তি চরিত্রটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মাতা তৌকীর আহমেদের নির্মিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবির। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছোট ও বড় পর্দার তারকা নুসরাত ইমরোজ তিশা

ছবিটি সম্পর্কে তিশা বলেন, ‘এই ফিল্মের সবচেয়ে কঠিন দিকটা হচ্ছে প্রপস (সাজ-সরঞ্জাম) সংগ্রহ করা, যেটা খুব সুনিপুণভাবে পরিচালক খুঁজে বের করে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। এটা আসলে এই সিনেমার জন্য সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তিনি ওই সময়কার কসটিউম থেকে শুরু করে সবকিছুই অনেক সুন্দরভাবে চিত্রায়িত করেছেন।’

দর্শক যখন ‘ফাগুন হাওয়ায়’র দীপ্তি চরিত্রটা দেখবে তখন তিশার প্রজন্মের যেকোনো মেয়েই চরিত্রটির মধ্যে নিজেকে দেখতে পাবে, নিজেকে অনুভব করতে পারবে বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী।

দীপ্তি চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিশা বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করেছে। এখানে চাইলেই তো সব সংলাপ বলা যায় না, চাইলেই ডায়ালগ ইমপ্রোভাইস করা যায় না। যখন চরিত্রটা নিয়ে তৌকীর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তার ২০ মিনিটের মধ্যে এত সুন্দর করে চরিত্রটা মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন, তখন আসলে অন্য কিছু চোখে পড়েনি। মনে হয়েছে, আমি দীপ্তি—এটাই আমার পরিচয়।’

‘তৌকীর ভাই এমন নির্মাতা, যার সঙ্গে নির্ভয়ে কথা বলা যায়। যেকোনো বিষয় শেয়ার করা যায়। এজন্য শুটিংয়ের সময় একধরনের কমফোর্ট জোন পেয়েছি। নির্ভয়ে কাজটা করেছি।’

নুসরাত ইমরোজ তিশা। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম

১৯৫২ থেকে ২০১৯—সময়ের বিশাল ব্যবধান। ওই সময়টাকে কতটা অনুভব করতে পেরেছেন তিশা? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো হিস্টোরিক্যাল কাজ, তাই একধরনের প্রেশার ছিল। আমি ওই সময়টার কথা শুনেছি, দেখিনি। এরকম একটা জায়গা থেকে ওই জায়গাটা তুলে ধরা খুব কঠিন কাজ।’

‘চরিত্রের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যখন আমি সেটে (শুটিং স্পট) গেলাম, সেখানে গিয়ে দেখি নির্মাতা এই চরিত্রটাকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক অবস্থাটা তৈরি করে রেখেছেন। আর সংলাপগুলো তিনি এত সুন্দরভাবে লিখেছেন, তাই খুব একটা বেশি কষ্ট করতে হয়নি। যখন মিছিল হচ্ছিল তখন আসলে অনুভব করা যাচ্ছিল, ভাষার জন্য কেন এত কান্না, প্রাণের ত্যাগ। সবকিছু মিলিয়ে কাজটি করার জন্য সহায়ক ছিল পুরো পরিবেশ।’

তিশা মনে করেন, ক্যামেরার পেছনে যারা কাজ করেছেন ছবিটি আজকের অবস্থানে আসার জন্য তাদের অবদানই বেশি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পর্দার পেছনের মানুষজন অভিনেতাদের চেয়েও বেশি কষ্ট করেছেন।

জীবনের অন্যান্য ফাগুনের সঙ্গে এবারের ফাগুনের তফাৎ কেমন—জানতে চাইলে তিশা বলেন, ‘এর আগে যেটা হয়েছে, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কেটেছে, হয় গান-বাজনা শুনে বা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে। এবার কাটবে হলে ঘুরে ঘুরে। এটা নতুন একটা অভিজ্ঞতা হবে। ভালোই হবে বলে মনে হয়।’

নুসরাত ইমরোজ তিশা। ছবি: শামছুল হক রিপন, প্রিয়.কম

ছবিটি গুরুগম্ভীর বলে আলোচনা করছেন অনেকে। এ বিষয়ে তিশা বলেন, ‘খুব ভারী ভারী ডায়ালগ থাকবে, তা না। ছবিতে ভালোবাসা আছে, হিউমার আছে, কমেডি আছে, মোমেন্টস আছে। যেটা দেখলে দর্শক কাঁদবেন, হাসবেন। আর ছোট মেসেজও পাবেন। ছবিটি কিন্তু সব শ্রেণীর দর্শকদের জন্য।’

টিভি নাটকে গুণগত ও ভালো কাজের মাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছেন তিশা। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বাইরে গেলেও বড় একটা অংশ জুড়ে রয়েছে তিনি। অভিনয় করেছেন ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’, ‘অস্তিত্ব’, ‘রানা পাগলা: দ্য মেন্টাল’, ‘ডুব’, ‘হালদা’, ‘শনিবার বিকেল’ ও ‘হলুদবনি’র মতো ছবিতে।

বিকল্পধারার ছবির পাশাপাশি বাণাজ্যিক ধারায়ও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে বিকল্পধারায়ই এগিয়েছেন বেশি। এ বিষয়ে তিশা বলেন, ‘যখন আমি ভালো চিত্রনাট্য পাই, তখন আমি ওই ভালো কাজটার সাথে, নির্মাতার সাথে, চরিত্রের সাথে কাজ করতে চাই। সেটা তখন কোন স্ট্রিমের কাজ হচ্ছে, তা আমার জন্য মুখ্য না। আমার মনে হয় আমার ডিকশনারিতে সব ধরনের ফিল্ম থাকা উচিত।’

প্রিয় বিনোদন/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...