বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ১০টি শর্ত বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। ফাইল ছবি

কড়া নিরাপত্তায় কাল বিশ্ব ইজতেমা শুরু

এবারের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে তাবলীগ জামায়াতের মুরব্বিদের ১০টি শর্ত বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩


বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ১০টি শর্ত বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ফজরের নামাজের পর বয়ানের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুক্রবার ১৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হবে তাবলীগ জামাতের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

তাবলীগ জামাতের বিবদমান দুই গ্রুপের সম্মতিতে প্রথম পর্ব ১৫ ও ১৬ই ফেব্রুয়ারি অংশ নেবেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। আখেরি মোনাজাতের পর তারা ইজতেমা মাঠ বুঝিয়ে দেবেন প্রশাসনের কাছে।

এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে শুরু হবে দ্বিতীয় দফার ইজতেমা। এতে অংশ নেবেন সাদপন্থিরা। ১৮ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ইজতেমা।

এবারের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে তাবলীগ জামায়াতের মুরব্বিদের ১০টি শর্ত বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। এবারই প্রথম দুই গ্রুপের চার দিনের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রথম গ্রুপকে আখেরি মোনাজাতের ৬ ঘণ্টার মধ্যে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মোতায়েন থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য।

জানা গেছে, এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার মুসল্লি। যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথিরাও। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

এদিকে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক সাফল্য কামনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

১৪ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক সাফল্য কামনা করেছেন। দেশ-বিদেশ থেকে আসা ইজতেমা ময়দানে লাখো লাখো মুসলমানরা যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ, জিকির-আজগার সম্পাদন করতে পারেন সেই জন্য তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন।’

বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, ‘তুরাগ নদীর পাড়ে বিশ্ব ইজতেমা ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আত্মিক উন্নতিসাধনের এক অনন্য সম্মিলন। মোমিন মুসলমানদের এই ঐতিহাসিক জমায়েতে আমি বিশ্ব মুসলমানের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও শান্তির জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।’

আয়োজক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হান্নান জানান, ‘শনিবার ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে যেকোনো একসময় দোয়া হবে। আরেকটি দোয়া যারা করবেন তারাও, আমরা যেমন করে চলে গেছি, তারাও যেন চলে যান।’

এ ছাড়াও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের লক্ষ্যে ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ র‍্যাব সদস্য থাকবেন সাদা পোশাকে।’

‘প্রতিটি খিত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার, নদীতে বোট, রাস্তায় জিপ এবং মোটরসাইকেলে সার্বক্ষণিক টহল দিবে র‌্যাব।’

দেশের তাবলীগের মুরব্বি ও সর্বস্তরের মুসল্লিদের ইজতেমায় আসার আহ্বান জানিয়ে বেনজীর বলেন, ‘আপনারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এখানে উপস্থিত হবেন। কোনো প্রকার অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে। এ জন্য আপনাদেরও দায় রয়েছে। কোনো অসুবিধা হলে আপনারা আমাদের কাছে বলবেন। আমরা সব ব্যবস্থা নেব।’

জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘মধ্যবর্তী সময়ে যেন দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবস্থাপনার সংকট তৈরি না হয়, এর জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ইজতেমাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষে থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। প্রায় ৫০০ সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি মাঠের চারপাশে থাকছে ১৭টি ওয়াচ টাওয়ার।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১২৩টি ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থা করেছি। বিআরটিসির জন্য ৪০০ বাসের ব্যবস্থা করেছি। সিসি ক্যামেরা ৫০-এর জায়গায় ৩০০ করা হয়েছে। আশা করা যায়, সব রকমের সমস্যা আমরা মোকাবেলা করতে পারব।’

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

পাবনায় কৃষকের আত্নহত্যা

প্রিয় ১১ ঘণ্টা, ৫৫ মিনিট আগে

loading ...