আজকের যতটুকু অর্জন তার পেছনে প্রবাসীদের বিরাট অবদান রয়েছে। ফাইল ছবি

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে সেটাই প্রশ্ন। জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬


আজকের যতটুকু অর্জন তার পেছনে প্রবাসীদের বিরাট অবদান রয়েছে। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির উদ্দেশ্য ছিল ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং তারা এখনও সেটি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার জার্মানির হোটেল শেরাটন মিউনিখ আরাবেলা পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) উদ্দেশ্য ছিল ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং তারা এখনও এর জন্য কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত মাত্র ২৮টি আসন লাভ করেছে। ওই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন ছিল না।’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যের সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা আসলে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কোনো চেষ্টাই করেননি।’

দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মনোনয়ন বাণিজ্য নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পর তারা কিভাবে ২০০৮ সালের চেয়ে ভালো ফলাফল আশা করে? ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সারা দেশে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মানুষ ভুলে যায়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের মতো ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে ইতিহাস থেকে “সম্পূর্ণভাবে” মুছে ফেলা হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য কি জানেন, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে যেমন খুব চালাকির সাথে মুছে ফেলা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে স্বাধীনতা অর্জনে তার যে অবদান সেটাও কিন্তু একসময় মুছে ফেলা হয়েছিল।এমনকি বঙ্গবন্ধুর নাম নেওয়াটাও যেন একটা অপরাধ- এরকম একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টের পর।’

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তখনকার পাকিস্তানি গোয়েন্দা নথিতেও এসব তথ্য রয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্দী অবস্থাতেই তিনি যখন আদালতে বা হাসপাতালে আসতেন তখনই কিন্তু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং নির্দেশনা দিতেন।’

ভোটের আগে সংলাপে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে প্রত্যেকটা দলেরই কিন্তু অংশগ্রহণ রয়েছে। এত বিশাল আকারে অংশগ্রহণ অতীতে কখনো দেখা যায়নি।’

এবারের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচনে একেবারে গ্রাম থেকে শুরু করে শহরে, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোট দিয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসে তারা আমাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যেটা অতীতে কখনো হয়নি। তাছাড়া সকল শ্রেণি-পেশার মানুষই…।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন ভোটটা তারা আওয়ামী লীগে দিল? দিয়েছে একটাই কারণ। তারা অতীতেও (আওয়ামী লীগকে) দেখেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমানের দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং বিএনপি শাসনামলে দেশের দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিস্তারের কথাও শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় তুলে ধরেন। যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া, ভোটে জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবে তা নির্ধারণ না করা এবং ‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ কারণেও জনগণ বিএনপিকে ভোট দেয়নি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তার সরকারের সময় আকাশ, সড়ক, নৌ ও রেলপথের উন্নয়নের কাজ চলছে। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে আর কেউ কখনো পিছিয়ে দিতে পারবে না।

প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের যতটুকু অর্জন তার পেছনে প্রবাসীদের বিরাট অবদান রয়েছে। এ অবদান শুধু রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেই না, এ অবদান অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও ক্ষেত্রেও। যেসব জায়গায় বাঙালি আছে কিন্তু সংগঠন নেই, সেব জায়গাতেও সংগঠন করতে হবে।’

জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনও বক্তব্য দেন।

নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জার্মানির মিউনিখে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই শেখ হাসিনার প্রথম বিদেশ সফর। শুক্রবার সকালে নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর তিনি আলোচনায় অংশ নেবেন। ছয় দিনের এই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতেও তিনি যোগ দেবেন । দেশ দুটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও তিনি অংশ নেবেন। সফর শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ফিরবেন শেখ হাসিনা।

সূত্র: ইউএনবি

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...