আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। ছবি সংগৃহীত

অবশেষে ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ

আত্মসমর্পণ করা ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে ২৯ জন ইয়াবা গডফাদারও রয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৫ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৫
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৫ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৫


আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) অবশেষে সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান বদির তিন ভাইসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ১০২ মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে ইয়াবা ও অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় আত্মসমর্পণকারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশের চট্টগ্রাম রেন্ঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, আলহাজ আশেকউল্লাহ রফিক, আলহাজ সাইমুম সরওয়ার কমল, শাহীন আক্তার চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আত্মসমর্পণ করা ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে ২৯ জন ইয়াবা গডফাদারও রয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আত্মসমর্পণকালে তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৩০টি দেশি পিস্তল জমা দিয়েছেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—আবদুর রহমান বদির ভাই মাদক ব্যবসায়ী আবদুর শুক্কুর, আমিনুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, বদির ভাগিনা মো. সাহেদ রহমান নিপু, বিয়াই সাহেদ কামাল ও খালাতো ভাই মন মন সেন।

আত্মসমর্পণের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দুই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা হলেন টেকনাফ সদরের ইউপি সদস্য বহুল আলোচিত এনামুল হক ও মো. সিরাজ।

তাদের ভাষ্য, ইয়াবা পুরো দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে দেশের নতুন প্রজন্মর চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অপরাধে তারা দায়ী। অন্যদিকে ইয়াবা ব্যবসার কারণে টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজার জেলার মানুষ সারা দেশের মানুষের কাছে ছোট হয়ে আছে। যেখানে যাই টেকনাফের মানুষ পরিচয় দিলেও তাদের ঘৃণা করা হয়। এমনকি কোথাও হোটেল ও বাসা ভাড়া নিতে গেলে তাদের দেওয়া হয় না। সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে ভর্তি করা হয় না। এটা বড়ই কষ্টের এবং লজ্জার। এসব কিছু বুঝতে পেরে তারা দেশকে ইয়াবার আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেননি তাদেরও আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তাদেরকে ক্ষমা করে স্বাভাবিক জীবনের ফেরা সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুতি জানান তারা।

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...