প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে বন্ধ হতে পারে টিকটক?

যেসব প্ল্যাটফর্ম বা সাইট নিজেদের সংষ্কৃতি বা জীবন-যাপনের বিরোধী সেসব সাইট বা প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫৬ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫৬
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫৬ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৫৬


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) নিজেদের সংষ্কৃতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে ভারতে। সিনেমার জনপ্রিয় গান বা ডায়ালগের একাংশ, কারোও বক্তব্যের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে ভিডিও তৈরির এই অ্যাপ নিয়ে আরও কয়েকটি দেশে সমালোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীল কন্টেন্ট। বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাঙ্গাতক ভিডিও, অসুস্থ মানসিকতা।

সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব প্ল্যাটফর্ম বা সাইট নিজেদের সংষ্কৃতি বা জীবন-যাপনের বিরোধী সেসব সাইট বা প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। সে হিসেবে অশ্লীল কন্টেন্ট বা বিপথগামী ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধে সরকারের চলমান পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে সমালোচিত এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি। 

গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবার জন্য নিরাপদ ইন্টারনেটের লক্ষ্যে অশ্লীল কনটেন্ট, জুয়া বা বিপথগামী সাইট বন্ধে করে দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে চার হাজার পর্ন সাইটের পাশাপাশি একশর কাছাকাছি জুয়া খেলার সাইট বন্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্ধ করা হয়েছে আরও কিছু বিপথগামী ওয়েবসাইট।

সমালোচিত এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে সরকার কিছু ভাবছে কি না জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার প্রিয়.কম বলেন, ‘একটি বিষয় স্পষ্ট, সেটি হচ্ছে—জীবন-যাপন, সংষ্কৃতি এবং অন্যান্য কিছুর সঙ্গে যা যায় না, আমরা সেটার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেব। আমরা একটি নিরাপদ ইন্টারনেট করতে চাই। কিন্তু ইন্টারনেট এমন একটি ক্ষেত্র, যে ক্ষেত্রে ইচ্ছে করলেই যা খুশি তাই করা যায় না।’

‘যদি মনে করা হয় যে, আমি সুইচ টিপলাম বন্ধ হয়ে গেল, এই ঘটনা ঘটে না। আমি বন্ধ করছি, পরের দিন আরেকটি গজাচ্ছে অথবা ভিপিএন ব্যবহার করছে বা মিরর সাইট ব্যবহার করছে। এগুলো কন্টিনিউয়াস হচ্ছে। আমরা সাড়ে চার হাজার পর্ন সাইট বন্ধ করার পরেও দেখা যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণ কন্টেন্ট আসার মতো ব্যবস্থা রয়েছে।’

এই প্রযুক্তিবিদ বলেন, ‘টিকটক আসলে একটি অ্যাপ। অ্যাপ ডাউনলোড করা ঠেকানোর বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সে বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো দেখছি। কারণ আমি ডিসিশন নিলাম বন্ধ করবো, কিন্তু আমার কাছে তো হাতিয়ার থাকতে হবে, যাতে আমি এগুলো বন্ধ করতে পারি। এই জায়গাগুলো দেখা হচ্ছে।’

মন্ত্রী জানান, ইন্টারনেটে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বিপথগামী কনটেন্ট। বিগত বছরগুলোতে এই ধরনের কনটেন্টের পরিমাণ অনেক বেশি। এসব কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট দিতে কাজ করছে সরকার। এরই মধ্যে এসেছে সফলতাও।

‘আমাদের জনগণ, নাগরিক, আমাদের সাহিত্য-সংষ্কৃতি, ইতিহাস, ধর্মের সাথে যায় না, এরকম কিছুই যাতে ইন্টারনেটে অ্যাভেইল্যাবল না হয় সেই ব্যবস্থাটি আমরা করব। আমরা একটি কথাই বলছি, আমরা নিরাপদ ইন্টারনেট চাই।’, যোগ করেন মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, ‘এত বছরের আবর্জনা আমরা রাতারাতি ক্লিন করতে পারব, এটা মনে করার কারণ নাই। আমি চেষ্টা করছি এবং চেষ্টার সফলতা এসেছে। অনেকটা কমে আসছে।’

প্রিয় প্রযুক্তি/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...