জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত। ফাইল ছবি

জামায়াত ইস্যুতে আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাহী আদেশে জামায়াত নিষিদ্ধ না করে জামায়াতকে বিচারের মুখোমুখি করলেই চিরতরে নিষিদ্ধ হবে দলটি।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৮ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৮
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৮ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৮


জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনহীন বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে পারেনি দলটি। জোটে থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে। তবে নির্বাচনে একটি সংসদীয় আসনেও বিজয়ী হতে পারেনি জামায়াতের কোনো প্রার্থী।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরপরই দলটি ফের নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। আর এখন বলতে গেলে শুরু হয়েছে নতুন কৌশলে জামায়াতের রাজনীতি। বিলুপ্ত হয়ে নতুন নামে রাজনীতিতে ফিরতে চায় দলটি। যদিও দলটির একজন দায়িত্বশীল নেতা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামায়াত খোলস পাল্টানোর চেষ্টা করলেও বিচারের মুখোমুখি তাদের হতেই হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামায়াতকে রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে বয়কটের পরামর্শ তাদের।

স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতকে ‘অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকে দাবি ওঠে জামায়াতকেও বিচারের মুখোমুখি করার। কিন্তু তদন্ত শেষ হলেও আইনি জটিলতায় আটকে আছে এ বিচার।

সরকার যখন জামায়াতের বিচারে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে ঠিক তখনি বিচার এড়াতে দল হিসেবে জামায়াত নিজেদের বিলুপ্ত করার গুঞ্জন চলছে। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিলুপ্ত করার আলোচনা স্থিমিত হলেও জামায়াতের সহকারী-সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগের পর আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল জামায়াত। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর আবার রাজনীতির সুযোগ পায় তারা। তাই আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাহী আদেশে জামায়াত নিষিদ্ধ না করে জামায়াতকে বিচারের মুখোমুখি করলেই চিরতরে নিষিদ্ধ হবে দলটি।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘জামায়াত কি কি করেছে সেগুলো জানার দেশবাসীর অধিকার আছে। বিচার হলে সেগুলো বিস্তারিত জানতে পারবে দেশবাসী।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তারা একটি নতুন দল করলো উদ্দেশ্যে পূরণ করতে, এটা হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।’

প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত মনে করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে জামায়াতকে।

১২ জানুয়ারি জামায়াত ইস্যুতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেছেন, ‘সরকার নয়, নির্বাচন কমিশনই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু জামায়াত ইসলামের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে তাই জামায়াতের নাম নিয়ে বাংলাদেশে আর কেউই রাজনীতি করতে পারবে না। এখন জামায়াত ইসলাম যদি অন্য কোনো দলের আঁচলের তলে থেকে রাজনীতি করে সেটা সরকার বন্ধ করতে পারবে না। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সরকারের দায়িত্ব না এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...