ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ফাইল ছবি

‘এআই, আইওটি, ব্লকচেইন প্রযুক্তি আয়ত্তে না আসলে মিস হবে ডিজিটাল রেভ্যুলেশন’

মোস্তাফা জব্বার তার বক্তব্যে উন্নত প্রযুক্তিকে আয়ত্তে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স, আইওটি, বিগ ডাটা, ব্লকচেইন এই প্রযুক্তিগুলো যদি আমরা আয়ত্ত করতে সক্ষম না হই, একবার যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন মিস করেছিলাম, আরও একবার ডিজিটাল রেভ্যুলশন মিস করব।’

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৭ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৮
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৭ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৮


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এই বিষয়সংক্রান্ত প্রযুক্তি আয়ত্তে না আসলে বাংলাদেশ ডিজিটাল রেভ্যুলেশন মিস করবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

১৭ ফেব্রুয়ারি, রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার-২০১৯’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার তার বক্তব্যে উন্নত প্রযুক্তিকে আয়ত্তে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স, আইওটি, বিগ ডাটা, ব্লকচেইন এই প্রযুক্তিগুলো যদি আমরা আয়ত্ত করতে সক্ষম না হই, একবার যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন মিস করেছিলাম, আরও একবার ডিজিটাল রেভ্যুলশন মিস করব।’

প্রযুক্তি পরিবর্তনের সঙ্গে জীবনধারায় পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন ফোরজি ব্যবহার করছি তখন আমাদের ব্যান্ডউইথের স্পিড সর্বোচ্চ এক জিবিপিএস পর্যন্ত যেতে পারব। আমরা যখন ফাইভজিতে যাব তখন ব্যান্ডউইথের পরিমাণ দাঁড়াবে ২০ জিবিপিএস। এই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ নিয়ে যখন মানুষ বসবাস শুরু করবে তখন রোবটের সঙ্গে যে মানুষ ধাক্কা খাবে না—এমন কোনো নিশ্চয়তা নাই, আমাদের সামনে দিয়ে গাড়ি চলবে এবং সেখানে কোনো ড্রাইভার নাই—এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।’

মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। আইসিটি উন্নয়নে অগ্রযাত্রায় আমাদের তরুণদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সুতরাং, আমাদের দায়িত্ব এই মেধাবী তরুণদের সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়া।’

তিনি তার বক্তব্যে জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ফাইভজি টেস্ট করেছে। ফলে বাংলাদেশ ফাইভজির জন্য প্রস্তুত। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভজি চালু করা হবে বলে আশাব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মেধাবী তরুণরাই মেধাবী বাংলাদেশের হাতিয়ার। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার তারাই কারিগর। মেধাবীরা এখন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমিত নয়—বাংলাদেশ এখন মেধাবীদের বিস্তৃত জায়গা। আমাদের ছেলেরাই এখন বাংলাদেশে বিশ্বের সেরা মোবাইল সেট গুণগত মানসম্পন্নভাবে উৎপাদনের কারিগর হিসেবে বিস্ময় সৃষ্টি করছে।’

অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকতা ঝাং জেংজুন ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ প্রতিযোগিতার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ঝাং জেংজুন বলেন, ‘বাংলাদেশে রয়েছে একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ প্রজন্ম। হুয়াওয়ে বিশ্বাস করে, এই তরুণরাই ডিজিটাল উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রতিযোগিতা তরুণদের নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা ও উদ্ভাবন করতে সহায়তা করবে; যেগুলো একটি উন্নত, সংযুক্ত আর বুদ্ধিভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবে। তারা যেন ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারে, তাদের মনে সেই বীজ বপন করাই সিডস ফর দ্য ফিউচারের উদ্দেশ্য।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৮ সাল থেকে ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১০৮টি দেশ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে হুয়াওয়ে। এতে বিশ্বব্যাপী ৩৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।

এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আইসিটি প্রতিভা তৈরি এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষার প্রসারে হুয়াওয়ে বাংলাদেশের ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী বাছাই করবে। আগামী দুই মাস এই বাছাই প্রক্রিয়া চলবে।

প্রিয় প্রযুক্তি/আশরাফ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...