কবি আল মাহমুদ। ছবি: প্রিয়.কম

মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত কবি আল মাহমুদ

মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা কবি আল মাহমুদ।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৬ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৮
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৬ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৮


কবি আল মাহমুদ। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা কবি আল মাহমুদ

১৭ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, বেলা আড়াইটার পর মোড়াইল কবরস্থানে মা রওশন আরা ও বাবা মীর আবদুর রবের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কবির মরদেহ রাখা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে। সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ জোহর বিদ্যালয় মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন-নিকটাত্মীয়দের পাশাপাশি অংশ নেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। কবিকে চিরশায়িত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন তার অনেক ভক্ত।

১৫ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে আল মাহমুদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন কবির পারিবারিক বন্ধু আবিদ আজম। 

আবিদ জানান, রাত ১০টার দিকে কবিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে ১১টা ৫ মিনিটের দিকে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।

এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি, শনিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

আল মাহমুদ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তির পর কবিকে প্রথমে সিসিইউ ও পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

আল মাহমুদ বিংশ শতকের অন্যতম কবি। তিনি শুধু কবিই নন, একাধারে ছিলেন গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, সংগঠক ও শিশুসাহিত্যিক। তার পুরো নাম মীর আবদুশ শুকুর আল মাহমুদ। জন্ম ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন কবি। ১৯৫৪ সালে তিনি লেখালেখির সূত্র ধরে ঢাকা আসেন এবং পুরোদমে লেখালেখি শুরু করেন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতাও করেছেন তিনি।

সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন আল মাহমুদ। পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণ শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আল মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। যুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এই সময় সরকারবিরোধী লেখালেখির অভিযোগে এক বছরের জন্য জেল খাটেন কবি। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহ-পরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

আল মাহমুদ তার সাহিত্যকর্মের জন্য ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়াও পেয়েছেন জয় বাংলা পুরস্কার (১৯৭২), হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৪), সুফী মোতাহের হোসেন সাহিত্য স্বর্ণপদক (১৯৭৬), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬), একুশে পদক (১৯৮৭), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০), সমান্তরাল (ভারত) কর্তৃক ভানুসিংহ সম্মাননা পদক- ২০০৪, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার প্রভৃতি।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...