সম্পর্কের প্রথম কিছুদিন প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সময় দেওয়া জরুরি। তাই বলে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের একেবারেই সময় দেবেন না, এটা কেমন কথা। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমে জড়ানোর পর বন্ধুদের হারাচ্ছেন না তো?

কী করে বুঝবেন প্রেম করতে গিয়ে আপনি বন্ধুদের হারাচ্ছেন?

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২


সম্পর্কের প্রথম কিছুদিন প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সময় দেওয়া জরুরি। তাই বলে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের একেবারেই সময় দেবেন না, এটা কেমন কথা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সিঙ্গেল কেউ আর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কেউ—এই দুজন মানুষের মাঝে অনেক তফাৎ। বিশেষ করে কেউ কেউ প্রেমে পড়লে বন্ধুদের কাছে প্রায় অমাবস্যার চাঁদ হয়ে পড়েন, অর্থাৎ তাকে আর খুঁজেই পাওয়া যায় না! এটা ঠিক যে, সম্পর্কের প্রথম কিছুদিন প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সময় দেওয়া জরুরি। এ সময়কে বলা হয় সম্পর্কের ‘হানিমুন ফেজ’, এ সময়ে একে অপরের মাঝে বোঝাপড়া হওয়া জরুরি।  তার মানে কিন্তু এই নয় যে, পরিবার ও বন্ধুদের সময় দেওয়া বন্ধ করে দেবেন একেবারেই! কারণ বেঁচে থাকার জন্য প্রেম ও বন্ধুত্ব দুটোই সমান জরুরি।

কী করে বুঝবেন প্রেম করতে গিয়ে আপনি বন্ধুদের হারাচ্ছেন? দেখে নিন ৫টি লক্ষণ—

১) আপনি বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই পরিকল্পনা বাতিল করেন

যেকোনো সম্পর্কেই ‘ভারসাম্য’ থাকা জরুরি। প্রেমিক বা প্রেমিকাকে কম সময় দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি তাকে খুব বেশি সময় দেওয়াটাও আসলে আপনার বন্ধুত্বের জন্য ক্ষতিকর। আপনি অবসর পেলে কিছুটা সময় আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে দেবেন, কিছুটা সময় দেবেন বন্ধুদের। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেও যদি তা পাল্টে ডেটিং করতে চলে যান, তাহলে বুঝতে হবে আপনি এই ভারসাম্য রাখতে পারছেন না।

২) আপনি বন্ধুদের খোঁজ রাখেন না

বন্ধুদের থেকে এতই দূরে চলে গেছেন আপনি, যে তাদের নতুন চাকরি, এনগেজমেন্ট এমনকি বিয়ের খবরটাও আপনাকে পেতে হচ্ছে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম থেকে! এমনটা কী আপনার ক্ষেত্রে হচ্ছে? তাহলে বুঝতে হবে বন্ধুরাও আপনার উপর বিরক্ত এবং তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক নড়বড়ে হয়ে গেছে।

৩) আপনি কেবল প্রেম নিয়েই কথা বলেন

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়েছেন, কিন্তু সেখানে গিয়েও আপনি নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে নিয়েই কথা বলে যাচ্ছেন। এতে বন্ধুরা ধরে নেবে, তাদের ব্যাপারে আপনি কিছু শুনতে চান না, আপনি নিজের সঙ্গীর দিকেই মনোযোগ রাখছেন। নিজের বা নিজের প্রেমের ব্যাপারে কথা না বলে অন্যান্য টপিকেও কথা বলুন।

৪) প্রেমিক/প্রেমিকা আপনার বন্ধু ও পরিবার নিয়ে ঈর্ষান্বিত

বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়টাকে প্রেমিক বা প্রেমিকা একটু রাগ করবে বা জেলাস হবে, এটাকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন। তবে এটা কিন্তু মোটেই স্বাভাবিক নয়! একজন মানুষের জীবনে প্রেমিক/প্রেমিকার পাশাপাশি বন্ধু ও পরিবার সবকিছুরই দরকার আছে। কিন্তু ইদানীং এটা খুব দেখা যায় যে, প্রেমিক/প্রেমিকা আপনাকে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে দিচ্ছে না। আপনি তার বদলে বন্ধুদেরকে সময় দিলে রাগ করছেন, পরিবারের জন্য টাকা খরচ করলেও রাগ করছেন—এটা ভালো লক্ষণ নয়। বরং এটি হলো অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপের পূর্বাভাস। এর অর্থ হলো আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা আপনাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করুন।

৫) বন্ধুরা আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার সঙ্গে সময় কাটাতে নিরুৎসাহী

কখনো খেয়াল করেছেন, বন্ধুরা আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রসঙ্গ এলেই একটু নড়েচড়ে ওঠেন। তাদের কোনো পরিকল্পনায় আপনার সঙ্গীকে নিতে চান না, এমনকি আপনার সঙ্গেও দেখা করতে চান না। এর দুটো কারণ হতে পারে। তারা হয় আপনার সঙ্গীকে পছন্দ করেন না, অথবা সঙ্গীর আশেপাশে আপনি যেমন আচরণ করেন, তা পছন্দ করেন না। হয়তো আপনি সঙ্গীর সঙ্গে থাকলে বন্ধুদের নিয়ে হাসি-তামাশা করেন, বা নিজেকে বেশি মহান করে তুলতে পছন্দ করেন, সঙ্গীর ভুলগুলো গায়ে মাখেন না। এসব কারণে বন্ধুদের বলতে পারেন, অমুক জায়গায় একসঙ্গে যাওয়া হবে কিন্তু আপনার সঙ্গীকে সেখানে নেওয়া হবে না।

এমনটা কিন্তু হওয়ার কথা নয়। তারা আপনারই বন্ধু এবং আপনারই প্রেমিক বা প্রেমিকা। তাই তাদের মাঝে মিল হওয়াটাই স্বাভাবিক। অন্তত বেশিরভাগ বন্ধুর সঙ্গে আপনার সঙ্গীর ভালো সম্পর্ক থাকার কথা। তা যদি না হয়, তাহলে হয়তো সম্পর্কটা নিয়ে আপনার আরেকটু ভাবা দরকার।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

প্রিয় লাইফ/রিমন