সাব্বির রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সেঞ্চুরি করেও হোয়াইটওয়াশ ঠেকাতে পারলেন না সাব্বির

আগের দুই ম্যাচের মতো সিরিজের শেষ ম্যাচেও ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১১ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১১
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১১ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১১


সাব্বির রহমান। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) আগের দুই ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। দু’ম্যাচই হারে বড় ব্যবধানে। তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও  শেষ ওয়ানডে ম্যাচে তাই টস জিতে বোলিং নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা আশাজাগানিয়াই হয়েছিল। তবে শেষদিকে যাচ্ছে তাই বোলিংয়ে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সামনে ৩৩১ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড।

জবাবে আগের দুই ম্যাচের মতো সিরিজের শেষ ম্যাচেও ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার। মিডল অর্ডারে অবশ্য ঢাল হয়ে দাঁড়ান এই সিরিজ দিয়েই নিষেধাজ্ঞা থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাব্বির রহমান। টিম সাউদি-ট্রেন্ট বোল্ট-মিচেল স্যান্টনারদের উপর চড়াও হয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও।

তাতেও অবশ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো হলো না বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ৩৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৭.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে স্কোরকার্ডে ২৪২ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে ৮৮ রানের হার সঙ্গী হয় সফরকারীদের। অন্যদিকে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবায় স্বাগতিকরা।

৩৩১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই টিম সাউদির বলে উইকেটকিপার টম ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ওপেনার তামিম ইকবাল। দুই বল পর সাজঘরের পথ ধরেন সৌম্য সরকারও। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ফেরেন আরেক ওপেনার লিটন দাস

লিটন রানের খাতা খুললেও তামিম-সৌম্য শুন্য রানেই সাজঘরে ফেরেন। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিমমাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে ৮ ওভারের বেশি স্থায়ী হয়নি এই জুটি। দলীয় ৪০ রানে সাজঘরে ফিরে যান মুশফিক। ২৭ বলে ৩ চারে ১৭ রান করেন তিনি। এর কিছুক্ষন পর ৩৬ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহও।

নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে টানা এক মাস বিপিএলে ব্যস্ত ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এরপর সেখানে গিয়ে  বৈরী কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে যে পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার কথা ছিল সেটিও মেলেনি। যে কারণে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের যুদ্ধ করতেই দেখা গেছে কন্ডিশনের সঙ্গে।

মিডল অর্ডারে অবশ্য ব্যতিক্রম ছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। যদিও ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না তিনি। তবে গত দুই ম্যাচে তাকে সঙ্গ দেওয়া সাব্বির এদিন মিথুনের অভাব পূরন করেন। নিয়মিত উইকেট পতনের মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ চালান সাব্বির। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে থাকেন।

ষষ্ঠ উইকেটে শতরানের জুটি গড়েন সাব্বির-সাইফ। যদিও ব্যক্তিগত ৪৪ রানে সাইফউদ্দিন ফিরে গেলে ভাঙে তাদের ১০১ রানের জুটি। পরের ওভারে সাজঘরে ফেরেন মাশরাফিও। অষ্টম উইকেট জুটিতে অবশ্য সাব্বিরকে যোগ্য সঙ্গ দেন মেহেদী মিরাজ। রানের চাকা বাড়াতে থাকেন এই জুটি।

অষ্টম উইকেটে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ার পথে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান সাব্বির। ১০৫ বলে ১২ চার ও দুই ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সাব্বিরের সেঞ্চুরির পরপরই সাজঘরে ফিরে যান ৩৪ বলে ৩৭ রান করা মিরাজ। ইনিংসের ৪৮তম ওভারের প্রথম দুই বলে আউট হন রুবেল-সাব্বির।

ফলে ১৬ বল বাকি থাকতেই ২৪২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। সঙ্গী হয় ৮৮ রানের বড় পরাজয়। আউট হওয়ার আগে সাব্বির ১১০ বল খেলে করেন ১০২ রান। কিউইদের পক্ষে টিম সাউদি একাই নেন ৬ উইকেট। এ ছাড়া ট্রেন্ট বোল্ট দুটি ও গ্র্যান্ডহোম নেন একটি করে উইকেট।

আগের দুই ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। দু’ম্যাচেই হারে বড় ব্যবধানে। সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে বল নেয় বাংলাদেশ। শুরুটাও ভালো করে স্বাগতিকরা। ২১ রানের মাথায় কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন অধিনায়ক মাশরাফি। তার শিকারে পরিণত হন কলিন মুনরো।

তামিমের দুর্দান্ত ক্যাচে সাইফউদ্দিনের শিকার বনেন সিরিজে টানা দুই সেঞ্চুরি করা গাপটিল। দলীয় ৫৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেলেও নিকোলাস ও টেলরের ব্যাটে সামাল দেয় নিউজিল্যান্ড। এই জুটি ভাঙেন মেহেদী মিরাজ। ডানহাতি এই অফস্পিনারের বলে সাজঘরে ফেরেন ৬৪ রান করা নিকোলাস।

এরপর টম লাথামকে সঙ্গে নিয়ে ৫৫ রানের জুটি গড়েন টেলর। ৩৯তম ওভারে দলের ২০৬ রানের টেলর ফিরে গেলে নিশামকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ সারেন ল্যাথাম। মুস্তাফিজের স্লোয়ারে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৫১ বলে ৫৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন লাথাম। নিশামের সঙ্গে গড়েন ৬৫ রানের জুটি।

এসব ছোট-বড় জুটির ওপর ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সামনে ৩৩১ রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিকরা। মুস্তাফিজ ২ উইকেট পেলেও ছিলেন বেশ খরুচে, ১০ ওভারে দিয়েছেন ৯৩ রান।

প্রিয় খেলা/আশরাফ