বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

ঘুমিয়ে থাকায় খালেদাকে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি

নাইকো দুর্নীতির মামলায় চার্জ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছে আদালত।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২১ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২৩
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২১ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২৩


বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ঘুমিয়ে থাকার কারণে বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এ জন্য নাইকো দুর্নীতির মামলায় চার্জ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছে আদালত।

২০ ফেব্রুয়ারি, পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষ আদালতের এজলাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য শুনে এ আদেশ দেন।

বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় মামলার কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত অসুস্থ জানিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছিলাম। আদালত এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিল করতে বলেছিলেন। আমরা দুই দিন পরে উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিল করেছি। আজ (বুধবার) ম্যাডাম অসুস্থতার জন্যই আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।’

ওই সময় বিচারক আদালতে উপস্থিত ডেপুটি জেলার শাহরিয়ারকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেন খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত করা হয় নাই?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) ঘুম থেকে এখনো ওঠেননি। তাই তাকে আনা সম্ভব হয়নি।’

এরপর মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘সুস্থ কোনো মানুষ ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। অসুস্থতাজনিত ঘুমের কারণেই তিনি আদালতে আসতে পারেননি। তাই দ্রুত চিকিৎসার বিষয়ে আদেশ দেওয়া প্রয়োজন।’

এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘তিনি অসুস্থ থাকলে আমাদের চিকিৎসার বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে আদালত জেলকোড আইনের বাইরে যেতে পারেন না। জেল কোড অনুযায়ী আদালত আদেশ দিতে পারেন।

এর আগে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সাতটি ধার্য তারিখ চার্জ গঠনের শুনানি হয়। তবে মামলাটিতে এখনো খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি হয়নি।

এ  মামলার অপর আসামিরা হলেন—গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন ও সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়াসহ (সিলভার সেলিম) অনেকেই।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটির তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে। ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...