হরমোনের সমস্যায় মধ্যবয়সী নারীরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ছবি: সংগৃহীত

হরমোনের সমস্যায় বাড়ছে ওজন?

‘যা-ই করি না কেন, ওজন বাড়তেই থাকে!’ এই সমস্যাটি কী আপনারও আছে?

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫২ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫২
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫২ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫২


হরমোনের সমস্যায় মধ্যবয়সী নারীরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) তারুণ্যে যে মানুষটি হেসেখেলে ইচ্ছামতো খাওয়া দাওয়া করেও ছিপছিপে শরীর নিয়ে সুখি ছিলেন, মধ্যবয়সে এসেই তার ওজন বাড়তে শুরু করে বেদম। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, হরেক রকমের ডায়েট করে বা নিয়মিত ব্যায়াম করেও তারা ওজন কমাতে পারেন না। অনেকে দাবি করেন, পানি পান করলেও তাদের ভয় হয় ওজন বেড়ে যাচ্ছে!

বয়স যখন চল্লিশের কোঠায় যায়, তখন প্রতি বছরে আধা কেজি থেকে সাড়ে তিন কেজি ওজন বাড়তে পারে। এটা শুনতে কম মনে হলেও ১০ বছরের মাথায় ওজন বেড়ে যেতে পারে ২০-৩০ কেজি! অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া, মিষ্টি খাবার খাওয়া বা থাইরয়েডের সমস্যা থেকে এভাবে ওজন বাড়তে পারে। কিন্তু মধ্যবয়সী নারীদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই এমন ওজন বাড়ার পেছনে দায়ী থাকে দুইটি হরমোন। এগুলো হলো কর্টিসল ও ইস্ট্রোজেন

কর্টিসল

মধ্যবয়সে জীবনে স্ট্রেসের কোনো অভাব থাকে না। জীবনযাপনের খরচের পাশাপাশি সন্তানের পড়াশোনার ক্রমবর্ধমান খরচ, বয়োবৃদ্ধ পিতামাতার খারাপ স্বাস্থ্য, এমনকি ডিভোর্স, মেনোপজ এসব ঘটনায় প্রচণ্ড স্ট্রেসে থাকেন মধ্যবয়সী নারীরা। এ কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের আধিক্য দেখা যায়, চিনি ও জাংক ফুডের জন্য মন আঁকুপাঁকু করতে থাকে, পেটে চর্বি জমে ও ওজন বাড়ে।

ইস্ট্রোজেন

৪৫ থেকে ৫০ বছরের দিকে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে আসে। এর প্রভাবে ওজন না কমলেও পেটের আশেপাশে মেদ জমতে থাকে। তবে ইস্ট্রোজেনের কারণে ওজন বাড়ে আরও একটি দিক দিয়ে। ইস্ট্রোজেন কমলে নারীরা ঘুমাতে পারেন না সহজে, আর তা থেকে বাড়ে ওজন।

ইস্ট্রোজেন কমলে নারীদের হট ফ্ল্যাশ দেখা দেয়। অর্থাৎ হুট করেই প্রচণ্ড গরম লাগতে থাকে সারা শরীরে, ঘেমে ভিজে যান ঘুমের মাঝেই। এ কারণে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ঠিকমত না হলে ক্ষুধার হরমোন গ্রেলিন বেড়ে যায়, আর কমে যায় লেপ্টিন বা খাওয়া বন্ধ করার হরমোন। এসব কারণে নির্ঘুম রাতের পর ক্ষুধা বেশি লাগে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হয় বেশি, ব্যায়াম করা হয় কম।

এই সমস্যার সমাধান একটিই, তা হলো পর্যাপ্ত ঘুম। সুস্থ থাকতে প্রতি রাত্রে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। রুটিন করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ব্যায়ামের অভ্যাস করলে দ্রুতই ঝরে যাবে তাদের অতিরিক্ত ওজন।

সূত্র: গুড হাউজকিপিং

প্রিয় লাইফ/রুহুল