চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানো প্রতিটি বাড়িতে চলছে মাতম। ছবি: প্রিয়.কম

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নোয়াখালীর

প্রতিটি বাড়িতে চলছে মাতম। আর অনেকের সন্ধান এখনও না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছে পরিবার।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৭ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৭
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৭ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৭


চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানো প্রতিটি বাড়িতে চলছে মাতম। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) রাজধানীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের অনেকের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি ও কোম্পানিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে। এদের মধ্যে নিহত ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। স্বজন হারানো প্রতিটি বাড়িতে চলছে এখন মাতম। আর অনেকের সন্ধান এখনও না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছে পরিবার। হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের খাসের বাড়ির সন্তান সহোদর মাসুদ রানা ও রাজু। পারিবারিক সচ্ছলতা ফেরাতে রাজধানীর চকবাজারে মোবাইলের পার্স বিক্রি, মেরামত ও ফেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতেন একই এলাকায়।

২০ ফেব্রুয়ারি, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার কথা তাদের। কিন্তু আগুনে দগ্ধ হওয়ায় তাদের পোড়া দেহ ফিরবে তা কোনোদিন ভাবতেও পারেননি স্বজনরা।

এলাকাবাসী জানান, রানা ও রাজুর মতো নাটেশ্বর ইউনিয়নের অনেকেরই নিজস্ব ব্যবসা ছিল রাজধানীর চকবাজারে। কেউবা কাজ করতেন কেমিক্যাল কারখানায়। বুধবার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহত হয়েছেন এদের মধ্যে কেউ কেউ। প্রিয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে মাতম চলছে প্রতিটি পরিবারে। একসঙ্গে এতজনের হতাহত হওয়ার বেদনায় সমব্যথী এলাকাবাসীও। শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন খোকন বলেন, আমার ইউনিয়নে নিখোঁজদের খোঁজ যেন পাওয়া যায় সেটাই আমাদের দাবি।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে নোয়াখালীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের হেলাল, বটতলি গ্রামের সাহাদাত হোসেন হিরা, পশ্চিম নাটেশ্বর গ্রামের আলি হোসেন, মির্জা নগরের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও নাছির উদ্দিন, বারগাঁও ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন এবং কোম্পানিগঞ্জের চর এলাহি গ্রামের জসিম উদ্দিনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চকবাজারে ভবনে ভয়াল আগুনে নিহত ৬৭ জনের মধ্যে ৩৪ জন নোয়াখালীর।

এদিকে নিহত ৬৭ জনের মধ্যে ৪১ লাশ শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, দুজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এই লাশগুলো শনাক্ত করা হয়।

যে ৪১ লাশের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, তারা হলেন- মাসুদ রানা (৩৫), তার ভাই রাজু (৩০), আবু বকর সিদ্দিক (২৭), সিদ্দিকুল্লাহ (৪৫), মোশাররফ হোসেন (৩৮), আলী মিয়া (৭৫), কামাল হোসেন (৫২), জুম্মন (৬৫), এনামুল হক (২৮), ইয়াসিন খান রনি (৩২), মুফতি ওমর ফারুক (৩৫), মোহাম্মদ আলী (৩২) ও তার ভাই আবু রায়হান (৩১), তার ছেলে আরাফাত (০৩), ইমতিয়াজ ইমরোজ (২৪), মজিবর হাওলাদার (৪৫), হেলাল (৩০), সোনিয়া (২৮), স্বামী মিঠু (৩৫), তাদের ছেলে শাহিদ (০৩), ওয়াফিউল্লাহ (২৫), রহিম দুলাল (৪৫), হিরা, নাসির, মঞ্জু, আনোয়ার, কাওচার, শায়লা খাতুন, আরমান হোসেন রিমন, মামুনুর রশীদ, আবু তাহের, রুবেল হোসেন, সৈয়দ সালাউদ্দিন, মুসা, ইলিয়াস মিয়া, মিজানুর, আসিফ, মো. হোসেন বাবু, খলিলুর রহমান সিরাজ, নূর ইসলাম হানিফ ও নবীউল্লাহ খান। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে অন্য লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...