জার্মান সাংবাদিকদের ওপর রোহিঙ্গাদের হামলা। ছবি সংগৃহীত

অপহরণের অভিযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জার্মান সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের ক্যামেরা, সাউন্ড রেকর্ডার, লাইসেন্স, মানিব্যাগ, তিনটি লাগেজ, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি লুটপাট করে তাদের জিম্মি করে রেখেছিল৷

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪০ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪০
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪০ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪০


জার্মান সাংবাদিকদের ওপর রোহিঙ্গাদের হামলা। ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মা ও দুই শিশু কন্যাকে অপহরণের অভিযোগ তুলে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গারা জার্মান সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

২১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় তিন জার্মান সাংবাদিকসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় তাদের ব্যবহৃত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লুটপাট করা হয় তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ক্যামেরাসহ সবকিছু।

হামলার পর সেনা সদস্যরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্প হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যরা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকাস্থ জার্মান রাষ্ট্রদূত পেটার ফারেনহলৎস রোহিঙ্গা শিবিরে জার্মান সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘জার্মান সাংবাদিকরা এখন নিরাপদে আছেন।’

জার্মান সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ির চালক কক্সবাজার টেকপাড়া গ্রামের নবী আলম (৩০) স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে কুতুপালং ৪ এক্সটেনশন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও ছবি ধারণ করেন সাংবাদিকরা৷ এরপর বেলা পৌনে ১১টার দিকে লম্বাশিয়া ১ নম্বর ক্যাম্পে দুটি শিশু ও মায়ের সাক্ষাৎকার নেন৷ সবশেষে শিশু বুশেরা বেগম (৯), কাচুনামা আকতার (৮) ও তাদের মা হাসিনা আকতারকে (৩৫) সঙ্গে নিয়ে তারা লম্বাশিয়া বাজারে যান৷ এ সময় জার্মানির সাংবাদিকরা তাদেরকে চাহিদামত ভালো কাপড় ও খাবার কিনে দেওয়ার পর ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়িতে তোলেন৷ সেখান থেকে রওনা দিলে হঠাৎ করেই হাসিনা আকতার তাদের অপহরণ করা হচ্ছে বলে চিৎকার শুরু করেন৷

রোহিঙ্গা শরনার্থী হাসিনার চিৎকারে রোহিঙ্গারা দা, কিরিচ, লাঠিসোটা নিয়ে গাড়ির গতিরোধ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়৷ এই সময় রোহিঙ্গাদের এলোপাতাড়ি মারধরে তিন জার্মান সাংবাদিক আহত হন৷ তারা জার্মানির সরকারি প্রচারমাধ্যম এআরডির সাংবাদিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে৷

তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জাকির হোসাইন আহত হয়েছেন৷ রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের ক্যামেরা, সাউন্ড রেকর্ডার, লাইসেন্স, মানিব্যাগ, তিনটি লাগেজ, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি লুটপাট করে তাদের জিম্মি করে রেখেছিল৷ পরে খবর পেয়ে সেনা সদস্য ও পুলিশ লম্বাশিয়া বাজারে রোহিঙ্গাদের ধাওয়া করে জার্মান সাংবাদিকদের উদ্ধার করে৷ এ ঘটনায় সাংবাদিকদের বাংলাদেশি দোভাষী সিহাব উদ্দিন (৩৫) বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন৷

এদিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, জার্মানির সাংবাদিক দলটি বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের প্রয়োজনীয় শুটিং শেষ করে ফেরার সময় ৮ ও ৯ বছরের দুটি শিশু ও তাদের মাকে সঙ্গে নিয়ে পাশের বাজারে যান৷ সেখানে তারা শিশুদের জামা-কাপড়, খাবার ও খেলনা কিনে দেন৷ এরপর মাসহ শিশু দু’টিকে ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলেন৷ কিন্তু হঠাৎ করেই শিশু দু’টির মায়ের সন্দেহ হয় তাদের অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হতে পারে৷ এরপর তিনি চিৎকার দেন৷ তখন আশপাশ থেকে শত শত রোহিঙ্গা সেখানে হাজির হয়ে জার্মান দলটির ওপর হামলা চালায়৷ পুলিশ ছাড়াও সেনা সদস্যরা দ্রুত সেখানে হাজির হয়ে তাদের উদ্ধার করে পাশের হাসপাতালে ভর্তি করেন৷

আবুল খায়ের বলেন, ‘জার্মান সাংবাদিকদের লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে৷ পুলিশের একটি টিম ক্যাম্পে গিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, জার্মানির দেওয়া অর্থ সহায়তায় তারা খেতে পারছেন৷ যারা খাবারের যোগান দিচ্ছে তাদের ওপর হামলা করে ঠিক কাজটি করেননি তারা৷ পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে যা লুট করা হয়েছে তা ফিরিয়ে না দিলে জার্মানি অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে৷ তাহলে তাদেরই সমস্যা হবে৷ এভাবে বুঝিয়ে মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে৷’

উখিয়া থানা চত্বরেই স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দুই রোহিঙ্গা শিশুর মা হাসিনা আকতার৷ ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে ওই রোহিঙ্গা নারী বলেন, বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জার্মান সাংবাদিকরা তাদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল৷ তারা চিৎকার দিলে রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধার করে৷ তবে বাংলাদেশি দোভাষী সিহাব উদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন৷

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...