১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচ ছাত্রী। ছবি: ঢাকার চারশ বছর

সত্তর দশকের বাঙালি নারীদের ফ্যাশনসচেতনতা

‘বাংলাদেশের মেয়েরা ফ্যাশনে যতটা সাহসী ছিল, এখন তার ধারে-কাছেও নেই।’

তাশফিন ত্রপা
ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৪ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৪ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২


১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচ ছাত্রী। ছবি: ঢাকার চারশ বছর

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশে ‘ফ্যাশন’ শব্দটি এখন বেশ জনপ্রিয়। পোশাক থেকে শুরু করে রূপচর্চা বলুন আর ঘরের আসবাবপত্র—সব ব্যাপারেই এখন ফ্যাশন শব্দটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়। যদিও পোশাকের ফ্যাশনটাই সবার নজর কাড়ে এবং আলোচনায় উঠে আসে। ফ্যাশনের এ ভাবনা কিন্তু ইদানীংকার বিষয় নয়, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকেই ঢাকায় সরব হতে থাকেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। অনেকে তো এখন আক্ষেপ করে বলেও থাকেন, ‘সেই সময় বাংলাদেশের মেয়েরা ফ্যাশনে যতটা সাহসী ছিল, এখন তার ধারে-কাছেও নেই।’

২৫ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকার চারশ বছরের ইতিহাস ও ফটোগ্রাফি’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে তেমনই একটি ছবি পাওয়া গেল। শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ পরা পাঁচ বান্ধবীর সাদা-কালো ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। ওই ছবির ক্যাপশনে জানানো হয়, ছবিটি ১৯৬৯ সালে তোলা। ছবিতে দাঁড়ানো পাঁচ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।

পুরনো ছবিতে ধরা পড়া মনোবিজ্ঞান বিভাগের এ পাঁচ শিক্ষার্থীর ফ্যাশনসচেতনতা দেখে মুগ্ধ ফেসবুকবাসী। বাঁ থেকে প্রথম জনের পরনে ছিল ফুলস্লিভের ছিমছাম সালোয়ার-কামিজ আর চোখে চশমা; পাশে স্লিভলেস ব্লাউজ সঙ্গে মোটা পাড়ের শাড়ি পরেছেন আরেক বান্ধবী। তার পাশে থাকা স্টাইলিশ ছোট চুলের হেয়ার কাট করা দুই বান্ধবীর পরনেও ছিল শাড়ি। গাঢ় ও উজ্জ্বল রঙের শাড়ির সঙ্গে মিল রেখে স্লিভলেস ব্লাউজ পরেন তারাও। একজনের হাতে ছোট ব্যাগ আর অপরজনের হাতে পার্স। ডানে থাকা সর্বশেষ বান্ধবীটির পরনে ছিল গলায় ওড়না ঝোলানো ফুল-পাতার প্রিন্ট করা শর্ট কামিজ। হাসিমুখে ক্যামেরায় আকর্ষণীয় লুক দিতে ভুল করেননি তারা।

অনেকেই ছবিটি বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ ও নিজের টাইমলাইনে শেয়ার দিয়ে নানা রকম প্রশংসাসূচক বাক্য লিখছেন। অনেকে আবার বাংলাদেশের বর্তমান ফ্যাশনের হিজাব ট্রেন্ড নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।

ছবিটি শেয়ার দিয়ে আক্ষেপ করে এক নারী লিখেন, ‘এত এত যুগ পরেও স্টাইলিশ রমণী হতে পারলাম না।’

আরেকজন লিখেন, ‘রূপে ও মেধার সম্মেলনে নারীর সৌন্দর্য।’

আরেক ব্যক্তি লিখেন, ‘সেই ১৯৬৯ সাল অথচ ২০১৯ এসেও স্লিভলেস পরতে কত ভাবতে হয়। মানুষ যুগের সাথে আধুনিক হয় আর আমাদের মন যুগের সাথে নোংরা হয়।’

ফেসবুক ব্যবহারকারীর অনেকেই বলছেন, ওই যুগের এমন সাহসী ফ্যাশনসচেতন মডেলরা হার মানাবেন এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদেরকেও।

ছবির ফ্রেমে বন্দী হওয়া নারীদের নাম জানা না গেলেও তাদের প্রশংসায় মুখর হয়ে উঠেছেন ফেসবুকের অনেকেই।

৭০ দশকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন শো। ছবি: ঢাকার চারশ বছর

২০১৮ সালের ২৮ জুন, ৭০ দশকের তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন শো’র কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছিল ওই গ্রুপটি। সে বছর প্রকাশ পাওয়া ওই ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছিল ফেসবুকে।

গত বছরের ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা গেছে, নজরকাড়া সাজে সেজে এসেছিলেন ফ্যাশন শোতে অংশ নেওয়া মডেলরা। তারা শাড়ির সঙ্গে পরেছেন হাতা কাটা ব্লাউজ। চুল বেঁধেছেন উঁচু খোঁপা করে। কাজল টানা চোখের সাজ আর মানানসই গয়নায় দৃষ্টি কেড়েছিলেন অনুষ্ঠানের উপস্থিত দর্শকদের।

আজ থেকে প্রায় চার দশক আগের অনুষ্ঠিত এ ফ্যাশন শো’র ছবি দুটো দেখে অবাক হয়েছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীর অনেকেই। 

প্রিয় ফ্যাশন/আজাদ চৌধুরী