ছবি: সংগৃহীত

হুয়াওয়ের বিতর্কিত ইতিহাস ও সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দেশে হুয়াওয়েকে কাজ করতে না দেয়, তাহলে দেশটি নিজেরাই ফাইভজি সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়বে।

মিজানুর রহমান
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০১৯, ১৮:১৪ আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৯, ২০:১৫
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০১৯, ১৮:১৪ আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৯, ২০:১৫


ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) আফ্রিকা মহাদেশের ৫৫টি দেশ নিয়ে গঠিত আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সদর দফতর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত। শুধু ইথিওপিয়া না, পুরো আফ্রিকা মহাদেশের বাকি সব স্থাপত্যের সঙ্গে এ বিশাল ও সুউচ্চ স্থাপনার উল্লেখযোগ্য অমিল আছে।

আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরের লিফটে প্রবেশের সময় মান্দারিন ভাষায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিল্ডিং কমপ্লেক্সে প্লাস্টিকের যেসব পাম গাছ রয়েছে, সেগুলোতেও চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের লোগো ঝুলছে। পুরো কমপ্রেক্স ও ভবনগুলোর সব জায়গায় এমন সব চিহ্ন বা ইঙ্গিত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যেন এক মুহূর্তের জন্যও কেউ ভুলতে না পারে—পুরো প্রকল্পটি চীনা অর্থে নির্মিত।

২০০৬ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতর নির্মাণের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার দানের প্রতিশ্রুতি দেয় চীন এবং পুরো প্রকল্পটি শেষ হয় ২০১২ সালে। ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে চীনা রীতি অনুযায়ী এবং পুরো কমপ্লেক্সের কম্পিউটার ব্যবস্থাও চীন স্থাপন করে দিয়েছে।

এরপর থেকেই এ ভবনটি চীন-আফ্রিকা সম্পর্কের গর্বিত প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। চীন-আফ্রিকার ঘনিষ্ঠতম সম্পর্কের নির্দেশকও এ কমপ্লেক্সটি। গত দুই দশকে আফ্রিকার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য রকেট গতিতে বেড়ে চলেছে। প্রতি বছর বাণিজ্য বাড়ছে ২০ শতাংশ হারে। ইতোমধ্যে চীন আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

আদ্দিস আবাসায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতর। ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ফরাসি পত্রিকা ল্য মন্ডে আফ্রিক (Le Monde Afrique) বড়সড় এক ‘বোমা’ ফাটায়। পত্রিকাটি সংবাদ প্রকাশ করে, আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরের কম্পিউটার ব্যবস্থায় আপস করা হয়েছে এবং কেউ এই পুরো ব্যবস্থায় আড়ি পাতছে।

সদর দফতরের বেশকয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, গত পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে রাত ২টার মধ্যে সদর দফতরের কম্পিউটার ব্যবস্থা থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে চীনের সাংহাইতে অবস্থিত বেশ কিছু সার্ভারে তথ্য পাচার করা হচ্ছে। এ তথ্য পাচারের ঘটনা ঘটেছে একটানা ১৮২৫ দিন ধরে!

ল্য মন্ডে আফ্রিক জানায়, ২০১৭ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নে কর্মরত একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানীর চোখে সর্বপ্রথম এ তথ্য পাচারের বিষয়টি ধরা পড়ে। তিনি খেয়াল করেন, কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সদর দফতরের কম্পিউটার ব্যবস্থায় অস্বাভাবিকভাবে কয়েক ঘন্টা ধরে বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ ঘটে চলেছে।

পত্রিকাটি আরও জানায়, কম্পিউটার ব্যবস্থায় গলদ আবিস্কারের পর সদর দফতরে চিরুনি অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, এর দেয়াল ও টেবিলগুলোতেও মাইক্রোফোন এবং কথোপকথন রেকর্ড করার ডিভাইস ইনস্টল করা ছিল।

ল্য মন্ডে আফ্রিকের এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর চীন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। উভয় পক্ষই প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করে। চীন দাবি করে, চীন ও আফ্রিকার মধ্যকার সম্পর্কে চিড় ধরানোর লক্ষ্যে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পত্রিকাটি অতিরঞ্জিতভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

কিন্তু ল্য মন্ডে আফ্রিক পরে আরেকটি প্রতিবেদনে জানায়, আফ্রিকান ইউনিয়নের কর্মকর্তারা এ ঘটনায় গোপনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে চীনের সঙ্গে বিবাদে যেতে চান না। কারণ তারা সবাই জানেন, এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

এসব কিছুর মধ্যে একটি বিষয় সবার দৃষ্টির বাইরে থেকে যায়। এইউ সদর দফতরের কম্পিউটার ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছিল চীনের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক ইনস্টিটিউটের গবেষক ড্যানিয়েল কেভ বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে, এ ঘটনার পেছনে হুয়াওয়ে সরাসরি জড়িত। কিন্তু এইউর কম্পিউটার ব্যবস্থা ও ডাটা সেন্টারে হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়েছিল। পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন তথ্য চুরি হওয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অন্ধকারে ছিল, এটা মানা কঠিন।’

হুয়াওয়ের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘আদ্দিস আবাবায় এইউর কম্পিউটার ব্যবস্থা থেকে অস্বাভাবিক সময় ধরে যদি কোনো তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা হুয়াওয়ের কোনো যন্ত্রাংশের মাধ্যমে ঘটেনি। ডাটা সেন্টার ও কম্পিউটার ব্যবস্থার জন্য এইউ সদর দফতরে হুয়াওয়ে যত যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, সেগুলোতে কোনো স্টোরেজ বা তথ্য স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেই।’

অবশ্য হুয়াওয়ে ও চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য চীন সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে, এমন প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি। তবে পশ্চিমা দেশগুলো প্রায়ই এ ধরনের অভিযোগ করে থাকে। আর এইউ সদর দফতরে হুয়াওয়ে ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সামগ্রী ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছিল।

এখন পর্যন্ত চীন বা এইউর কোনো কর্মকর্তা এ বিশালাকারের তথ্য চুরির কথা স্বীকার করেনি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে হুয়াওয়ের সঙ্গে চীন সরকারের যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলো করে আসছে, এ ঘটনা সেই পালে নিঃসন্দেহে নতুন করে হাওয়া জুগিয়েছে।

হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

১ ডিসেম্বর ২০১৮। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস আইরেসে জি২০ সম্মেলনের এক ফাঁকে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ দুই নেতার মধ্যে তত দিনে অনেক ইস্যু জমা হয়েছে। মার্কিন বাজারের ওপর অন্যায় সুবিধা নেওয়ার দাবি তুলে ট্রাম্প ২০০ বিলিয়ন ডলার চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার পর চীনও একই উদ্যোগ নিলে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়। দুই দেশের ওপরই এ বাণিজ্য যুদ্ধের বিরুপ প্রভাব পড়ে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এ বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে তখন জোর শঙ্কা শুরু হয়।

এই বাণিজ্য যুদ্ধ যেন আর না বাড়ে সে লক্ষ্যে সাময়িক সময়ের জন্য সম্মত হয়েছিলেন এই দুই নেতা এবং ওই বৈঠকেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে এটা অনেক বড় একটা ধাপ।’

কিন্তু বুয়েনেস আইরেসে যখন ট্রাম্প-শি বৈঠক চলছিল, তখন সেখান থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার উত্তরে কানাডায় ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপটের দ্বার উন্মোচিত হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে চীনের ভ্যানকুভার বিমানবন্দর থেকে হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবং হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেইয়ের বড় মেয়ে মেং ওয়াংঝুকে গ্রেফতার করে কানাডার ইমিগ্রেশন পুলিশ। মেক্সিকো যাওয়ার জন্য অন্য একটি বিমান ধরতে মেং ওয়ানঝু তখন ভ্যানকুভার বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন। তার কোনো ধারণাও ছিল না যে, যাত্রাবিরতিতে তিনি এভাবে কানাডা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হবেন।

মেং ওয়াংঝুর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করেছেন।

মেংকে গ্রেফতারের পর তার বাবা রেন ঝেংফেই সংবাদমাধ্যমে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, ‘বাবা হিসেবে মেয়েকে এভাবে গ্রেফতার হতে দেখে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। একজন বাবা কীভাবে তার মেয়ের এমন দুর্দশা সহ্য করতে পারেন? কিন্তু যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদেরকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’

সেটা ছিল হুওয়ায়ের সমস্যার সবে শুরু। দুই মাস পরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখন মেংয়ের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র দায়ের করেছে এবং তাকে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

প্রথম অভিযোগপত্রে হুয়াওয়ে এবং মেংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে বাণিজ্য গোপনীয়তা চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

কিন্তু চীন, মেং এবং হুয়াওয়ে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে আসছে।

হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মেং ওয়াংঝু। ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য গোপনীয়তা চুরির যে অভিযোগটি হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সেটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের টি-মোবাইলের তৈরি একটি রোবোটিক টুল, যা ট্যাপি নামে সুপরিচিত। ট্যাপি নামের এ রোবটটি বাজারে আসার আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনের কার্যক্ষমতা যাচাই করে। হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি কয়েকবছর ধরেই ট্যাপিকে কেনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তখন টি-মোবাইলের সঙ্গে হুয়াওয়ের অংশীদারিত্ব ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি হুয়াওয়ের কাছে ট্যাপিকে বিক্রি করেনি। কারণ তারা ভেবেছিল হুয়াওয়ে যদি ট্যাপি কিনে ফেলে তাহলে তারা টি-মোবাইলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য ফোন তৈরি করবে, যা টি-মোবাইলের ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হবে।

অভিযোগ উঠেছে, হুয়াওয়ের যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মচারী চীনে তার সহকর্মীদের কাছে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্যাপির একটি রোবোটিক আর্ম চুরি করেন। অভিযোগটি যখন সামনে আসে তখন ওই কর্মচারী দাবি করেন, রোবোটিক আর্মটি ভুলবশত তার ব্যাগে রয়ে গিয়েছিল।

হুয়াওয়ে দাবি করেছে, তারা ওই কর্মীকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর কর্মকাণ্ডের দায় তারা নেবে না। ২০১৪ সালে এ ব্যাপারটি আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি চীনে হুয়াওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ের কিছু কর্মচারীর ই-মেইল কথোপকথন ফাঁস হয়ে যায়। সেখানে স্পষ্ট হয়ে যায়, ওই রোবোটিক আর্ম চুরির সঙ্গে হুয়ায়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জড়িত ছিল এবং তারা সবই জানতেন। এসব ই-মেইল কথোপকথনে এটাও প্রকািশত হয় যে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মীদের বোনাসও দেওয়া হতো।

হুয়াওয়ে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বাণিজ্য গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে হুয়াওয়ে এবারই প্রথম অভিযুক্ত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সিসকো, নরটেল, মোটোরোলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন সন্দেহ করছে, হুয়াওয়ে শুধু বাণিজ্য গুপ্তচরবৃত্তিই চালাচ্ছে না, বরং এটি ক্ষমতাসীন চীনা কিমিউনিস্ট পার্টির ডানহাত হিসেবে কাজ করছে।

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া একধাপ এগিয়ে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশটি তাদের ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপনে হুয়াওয়ের সব ধরনের যন্ত্রাংশ নিষিদ্ধ করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তি করা যায় এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চীন সরকারের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া আরও দাবি করেছে, হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশি সরকারের ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক ইনস্টিটিউটের গবেষক ড্যানিয়েল কেভ বলেন, ‘চীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় হুয়াওয়ে অন্য দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’ তিনি একটি চীনা আইনের বরাত দিয়ে জানান, আইনের কারণে চীন সরকারের আদেশ উপেক্ষা করা যেকোনো চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রায় অসম্ভব।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ কারও জন্য হয়তো হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ব্যবহার করা বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু আপনি যদি পশ্চিমা কোনো দেশের নাগরিক হন, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা সংরক্ষণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন দেশে আপনি কেন এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে আপনার সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণ দেবেন, যে প্রতিষ্ঠানটি চীনের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যাবস্থার ফাঁদে আটকা পড়ে আছে?’

এত অভিযোগের ব্যাপারে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই বলেন, ‘হুয়াওয়ের কোনো যন্ত্রাংশই চীন সরকারের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হয় না।’

তিনি বলেন, ‘চীন সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা কোনো প্রতিষ্ঠানকে গোপন কিছু করার জন্য বলে না। হুয়াওয়ে এটা কখনো করে না। আমাদের লভ্যাংশ এখন শত শত বিলিয়ন ডলার। এমন পরিস্থিতি আমরা গোপন কিছু করে আমাদের এত বড় ব্যবসা এবং বিশ্বজুড়ে আমাদের গ্রাহকদের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারি না। এমন কিছু করলে আমরা আমাদের ব্যবসা হারাব। আমি কখনো এটি করব না।’

হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

হওয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই বলেন, ‘৩০ বছর আগে যখন আমি প্রতিষ্ঠানটি শুরু করি তখন আমাদের কোনো টেলিফোনও ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওপর নির্মিত সিনেমাগুলোতে আপনি যে ধরনের ফোন দেখতে পান, সেসব ফোনই তখন আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল। চীন তখন অনেক অনুন্নত এবং গরীব দেশ।’

সেই অবস্থা থেকে চীনের বর্তমান অবস্থায় আসার পেছনে হুয়াওয়ে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। সারা বিশ্বের স্মার্টফোন মার্কেটের ১৬ শতাংশের দখল তাদের হাতে। চীনের শেনজেনে হুয়াওয়ের যে সদর দফতর, সেটি যেন প্রতিষ্ঠানটির শৌর্য-বীর্যেরই প্রতীক। ঝা চকচকে ভবন, দামি মার্বেলের টাইলস, লাল কার্পেট, সর্বত্র আভিজাত্যের ছাপ যেন হুয়াওয়ের বিশাল ব্যবসায়িক সাফল্যকেই নির্দেশ করছে।

সদর দফতর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ডংগুয়ানে হুয়াওয়ে সম্প্রতি আরেকটি ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে, যেটি আরও চোখ ধাঁধানো। এ ক্যাম্পাসটি তৈরি করা হয়েছে হুয়াওয়ের ২৫ হাজারেরও বেশি উন্নয়ন গবেষকদের জন্য। পুরো ক্যাম্পাসে ১২টি গ্রাম রয়েছে, যাদের প্রতিটির স্থাপত্যশৈলী ইউরোপের বিভিন্ন প্রাচীন শহরের আদলে করা হয়েছে। কোনোটি দেখতে প্যারিসের মতো, কোনোটি বোলোঙ্গার মতো, আবার কোনোটি গ্রানাডার মতো। রোমান স্থাপত্যশৈলীর লম্বা করিডোর, ফরাসি ক্যাফে ইত্যাদি পুরো ক্যাম্পাসটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। এ ক্যাম্পাসের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য রয়েছে একটি ট্রেন। আছে কৃত্রিম লেক।

১৯৮৭ সালে রেন যখন হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন, সে সময়ের তুলনায় এখন আকাশ-পাতাল তফাৎ। রেন বলেন, ‘আমি যখন শুরু করি তখন চীন কেবল পুনর্গঠন শুরু করেছিল এবং বাজার অর্থনীতির দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। শুধু আমি নই, এমনকি সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারও তখন বাজার অর্থনীতি সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল না। তখন মনে হচ্ছিল আমাদের টিকে থাকাটাই দুষ্কর হবে।’

১৯৪৪ সালে দক্ষিণ চীনে খুবই গরিব একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রেন। তখন সেটি ছিল চীনের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা। একটা লম্বা সময় পর্যন্ত শত প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে থাকতে হয়েছে রেনকে। তারা মোট সাত ভাইবোন।

দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তির জন্য আরও দশজন চীনার মতো রেনও সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

রেন বলেন, ‘আমি খুবই নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ছিলাম। আমি একটি সাধারণ নির্মাণকাজে নিযুক্ত ছিলাম। সেসময় সেনাবাহিনীর একটি প্রতিষ্ঠানে আমি টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতাম। সেখান থেকেই আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে উঠলাম।’

হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন  ঝেংফেই। ছবি: সংগৃহীত

রেন ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে দিয়ে ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আজীবন সেনাবাহিনীতে থেকে আদেশ পালন করতে পারতাম। কিন্তু হঠাৎ করেই আমি বাজার অর্থনীতিতে কাজ করা শুরু করি। সেটা ছিল সম্পূর্ণ লোকসান। আমাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল। আমার মনে হয়েছিল যে, আমি প্রতারিত হয়েছি।’

কিন্তু রেন খুব দ্রুতই ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করলেন। পশ্চিমা ব্যবসার বিভিন্ন সূত্র এবং ইউরোপের ইতিহাস জানতে শুরু করেন তিনি।

‘পুরো রাজার অর্থনীতি কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে বিস্তীর্ণ গবেষণা করেছি আমি। আমি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের আইনের বই পড়েছি। তখন চীনা ভাষায় এসব বই খুব কমই পাওয়া যেত’, বলেন রেন।

এর পাঁচ বছর পর রেন হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। চীনা শব্দ হুয়াওয়ের অর্থ হচ্ছে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ কিংবা ‘চীনের সক্ষমতা’। প্রথমদিকে স্থানীয় বাজারে ছোট ছোট টেলিকম যন্ত্রাংশ বিক্রি করত হুয়াওয়ে। কয়েক বছরের মধ্যে হুওয়ায়ে নিজেরাই যন্ত্রাংশ উৎপাদন করতে শুরু করে।

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে হুয়াওয়ে চীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীকে টেলিকম যন্ত্রাংশ দেওয়ার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

১৯৯৫ সালের মধ্যে হুয়াওয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের যন্ত্রাংশ বিক্রির সক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। তখনো পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি শুধু স্থানীয় বাজারেই যন্ত্রাংশ বিক্রি করত।

পরের বছর হুয়াওয়েকে চীনের ‘ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ চীন সরকার হুয়াওয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য চীনের দরজা বন্ধ করে দেয়।

তখন চীনের অর্থনীতি বছরে ১০ শতাংশ করে বাড়ছিল। একে তো স্থানীয় বাজারে বিদেশি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি নেই, তার ওপর চীনের অমন অর্থনৈতিক উন্নতি, এই সুযোগে একের পর এক ছক্কা হাঁকাতে থাকে হুয়াওয়ে। ২০০০ সালে হুয়াওয়ে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ শুরু করে। ফলে তাদের লাভ ‘হু হু’ করে বাড়তে থাকে।

২০০২ সালে হুয়াওয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫৫২ মিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ বিক্রি করে। ২০০৫ সালে হুয়াওয়ের আন্তর্জাতিক বিক্রি স্থানীয় বিক্রিকে ছাড়িয়ে যায়।

হুয়াওয়ের ভবিষ্যৎ

ভবিষ্যৎ হবে ইন্টারেনট অব থিংসের (আইওটি) যুগ। প্রতিটি জিনিস একটি অন্যটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

হুয়াওয়ের ফাইভজি ওয়্যারলেস ল্যাবের প্রধান ঝু পিয়িং বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি জিনিস প্রতিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আপনার দাঁত কতটা পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত, তা আপনার স্মার্ট টুথব্রাশ জানিয়ে দেবে। স্মার্ট কাপ আপনাকে জানাবে, কখন আপনার কী পরিমাণ চা-কফি বা পানির দরকার। চালকবিহীন গাড়ি, ভবনের তাপমাত্রা, গণপরিবহন... এ তালিকা শেষ হবার নয়।

ধারণা করা হয়, প্রযুক্তির দিক থেকে হুয়াওয়ে তার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অন্তত একবছর এগিয়ে রয়েছে।

আরও ধারণা করা হয়, চীনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ফলে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ১০ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারবে। তবে সরকার থেকে হুয়াওয়ে কোনো অর্থ সহায়তা পায় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠাতা রেন।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকার কারণেই তার প্রতিষ্ঠান এখন যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়েছে।

দৃঢ়তার সঙ্গে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারবে না। হুয়াওয়েকে বিশ্বের প্রয়োজন, কারণ আমরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে বাকি সবার চেয়ে এগিয়ে। এমনকি যদি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) অন্যান্য দেশগুলোকেও হুয়াওয়ের পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে, তাহলেও হুয়াওয়ের ক্ষতি খুব কমই হবে।’

‘যেসব দেশ আমাদেরকে সন্দেহ করবে, আমরা সেখানে ভালো করতে পারব না। তবে যেসব দেশ আমাদের ওপর ভরসা রাখবে, আমরা সেসব দেশে দ্রুত অগ্রসব হব। দুনিয়া অনেক বড়। আমরা প্রতিটি কোনায় হয়তো বিচরণ করতে পারব না’, বলেন রেন।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতেও এগিয়ে আছে হুয়াওয়ে। ছবি: সংগৃহীত

অনেক বিশ্লষকই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দেশে হুয়াওয়েকে কাজ করতে না দেয়, তাহলে দেশটি নিজেরাই ফাইভজি সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়বে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এর স্যাম স্যাকস বলেন, ‘ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে (যারা হুয়াওয়ের ফাইভজি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করবে) যুক্তরাষ্ট্রের অনেক দূরত্ব বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এতে অনেক ক্ষতি হবে।’

তখন বিশ্বে দুই ধরনের ইন্টারনেট থাকবে। যারা হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এবং যারা করে না। আক্ষরিক অর্থেই তখন বিশ্ব দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদেশগুলোকে হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশ ব্যবহার বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে হুয়াওয়েও বিদেশি সরকার ও গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কোন্নয়ের জন্য আগ্রাসী প্রচারণা চালাচ্ছে।

সম্প্রতি ভোডাফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিক রেড যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাদের কাছে হুয়াওয়ের গোয়ান্দাগিরির কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকলে সেটি যেন প্রকাশ করা হয়। ইউরোপিয়ান কমিশনের একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রুস অ্যানসিপ সম্প্রতি একটি টুইটে জানিয়েছেন, তিনি হুয়াওয়ের রোটেটিং সিইওর (স্বল্পকালীন সিইও, হুয়াওয়ে প্রতি ছয়মাস পর পর সিইও পরিবর্তন করে) সঙ্গে স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা হুয়াওয়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

কিন্তু তারপরও হুয়াওয়েকে নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। একটি নিরাপত্তা সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, এশিয়ার সরকারগুলোর পক্ষ থেকে হুয়াওয়ের ব্যাপারে উদ্বেগ সম্প্রতি বেড়েছে এবং হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশের মাধ্যমে কোনো নিরাপত্তা হুমকি আছে কিনা, সেটি জানার আগ্রহ বেড়েছে। এই সংস্থাটি দাবি করেছে, এশিয়ার কিছু দেশের সরকার তাদেরকে জানিয়েছে, হুয়াওয়ে এখন তাদের দায় হয়ে গেছে। কিন্তু কোন কোন দেশের সরকার এ উদ্বেগ জানিয়েছে, তা উল্লেখ করেনি সংস্থাটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে সমালোচনাও আছে যে, চীন সরকার সব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এখনো পারিষ্কার নয়। শিং জিনপিংয়ের অধীনে চীন এখন আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে।

ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের সম্পাদক জনাথন টিপিরম্যান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি চীনের সব ডিজিটাল মাধ্যমে কড়া নজরদারি জারি করে রেখেছেন, যা অতীতে তাকে অনেক সুফল দিয়েছে।’

তবে রেন এসব অস্বীকার করে বলেছেন, চীন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত।

বিবিসির সঙ্গে এসব অভিযোগের ব্যাপারে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় রেন বলেন, ‘৩০ বছর আগে যদি আমি এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে যেতাম, তাহলে সেটি আমার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারত। এখন আমি যেকোনো কঠিন প্রশ্নের সোজাসাপ্টা জবাব দিতে পারছি। এটাই প্রমাণ করে চীন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত।’

বিবিসি অবলম্বনে

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


loading ...