মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন প্রার্থীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

ডাকসু নির্বাচনের কী খবর

অনিয়ম, কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সব প্যানেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৯, ১৮:১২ আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৯, ২০:৫৬
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৯, ১৮:১২ আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৯, ২০:৫৬


মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন প্রার্থীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ১১ মার্চ, সোমবার সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভোট হয়েছে। অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে পুনরায় ভোটের দাবি করেছেন প্রার্থীরা। ছাত্রলীগের প্রার্থীরা ছাড়া বাকি সব প্রার্থী এই দাবি করেছেন। তারা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তবে ছাত্রলীগ বলছে, নতুন ভোটের দাবি হাস্যকর। 

বিক্ষোভের ডাক

অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বাতিলের দাবিতে ১২ মার্চ, মঙ্গলবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বাম জোট, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা।

১১ মার্চ, সোমবার ডাকসু নির্বাচনে দিনভর নানা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই সম্পন্ন হয় ভোট গ্রহণ। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বিকেল ৫টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে সমাবেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাম সংগঠনগুলোর প্যানেলের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। এ সময় সেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল, স্বতন্ত্র জোটের প্যানেল, স্বতন্ত্র অন্য প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘নির্বাচন বর্জনকারী সব দলের ও প্যানেলের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বলছি, ফল বাতিল ও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজু ভাস্কর্যে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ হবে। ডাকসু নির্বাচন যদি বাতিল করা না হয় এবং আজ রাতের মধ্যে ফল ঘোষণা করা হয়, তাহলে আগামীকালের কর্মসূচি থাকবে। আপনার এটাকে ছাত্র ধর্মঘট হিসেবে নেবেন না। সবাই ক্যাম্পাসে আসবেন, কিন্তু ক্লাসে যাবেন না।’

সমাবেশের আগে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে কারচুপি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে আসেন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সব প্যানেলের প্রার্থীরা।

নতুন ভোটের দাবি হাস্যকর

তিনি বলেন, ‘নতুন ভোটের দাবি হাস্যকর। তারপরও যদি প্রশাসন মনে করে তাহলে তারা বিবেচনা করবেন। আমরা যেহেতু প্রার্থী, তাই এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

শোভন বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কয়েকটি মহল তৎপর রয়েছে। তারা যে একটি প্রপাগাণ্ডা চালাবে এবং এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাবে, আমরা আগেই তা আঁচ করতে পেরেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নুরুল হক নূরু একজন ভিপি প্রার্থী। একজন ভিপি প্রার্থী হয়ে তিনি এভাবে ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে পারেন না। অথচ তিনি রোকেয়া হলে গিয়ে ব্যালট ছিনতাই করলেন। তিনি আসলে ব্যালট নয়, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ছিনতাই করেছেন। এরপর অসুস্থ হওয়ার ভান করলেন।’

শোভন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে একটি বা দুটি হলের ঘটনায় পুরো ভোটব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই। তা ছাড়া রোকেয়া হলের ভোট কেন্দ্রে কিন্তু কিছু হয়নি, হয়েছে ভোট কেন্দ্রের বাইরে।’

ছাত্রলীগ ছাড়া সবার নির্বাচন বয়কট

অনিয়ম, কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সব প্যানেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাম জোট, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্যানেল এ বর্জনের ঘোষণা দেয়।

পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের প্যানেল আলাদাভাবে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ নির্বাচন বর্জন ঘোষণা দেয়।

শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিস্মিত উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘যতটুকু ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করলাম, অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের শিক্ষার্থীদের যে গণতান্ত্রিক বোধ, যে মূল্যবোধ, এটা দেখে আমি বেশি বিস্মিত হয়েছি। আশা করি, শিক্ষার্থীরা আজ যে উদাহরণ রাখল এটি আমাদের নতুন মাত্রায় অনুপ্রেরণা দেয়।’

সামনের দিনগুলোতেও এই গণতান্ত্রিক যে আচরণ, যে রীতিনীতি, সেটিকে বেগবান করে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান উপাচার্য।

ভোট শুরুর আগেই বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ব্যালট বাক্সে সিল মারা ব্যালট পান শিক্ষার্থীরা। এরপর বিক্ষোভ করেন তারা। ছবি: ফোকাস বাংলা

ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেলের ভোট বর্জন এবং ভোট গ্রহণে অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নীতি-গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

ভোট শুরুর আগেই বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ‘বাক্সে সিল মারা ব্যালট’ পাওয়া প্রসঙ্গে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী হলের ঘটনা যে মুহূর্তে আমি শুনেছি, তাৎক্ষণিকভাবে কিন্তু শক্ত অবস্থান নিয়েছি। বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে প্রভোস্টকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দিয়েছি।’

অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর হলের প্রাধ্যক্ষ শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রাধ্যক্ষ করা হয়েছে অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীনকে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন ) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নুরের ওপর হামলা

কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী নূরুল হক নুরের ওপর ‘ছাত্রলীগ’ হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুপর সোয়া ১২টার দিকে রোকেয়া হলের ভেতর নুরের ওপর এই হামলা হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, রোকেয়া হলে ভোট শুরুর আগে সব প্যানেলের প্রতিনিধিদের সামনে ৯টি ব্যালট বাক্সের মধ্যে ছয়টিকে দেখিয়ে সিলগালা করে ভোটগ্রহণ শুরু করতে চায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অপর তিনটি ব্যালট বাক্স কেনো দেখানো হয়নি, সেটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। একপর্যায়ে নুর সে বিষয়টি নিয়ে হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে রোকেয়া হলে ঢুকলে হামলার শিকার হয়।

হলের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় নুর চিৎকার করে বলছিলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে তো আমার কোনো সমস্যা নেই। ছাত্রলীগের লোকজন কেনো আমার ওপর হামলা করলো। আমি এর বিচার চাই।’

ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদল প্যানেলের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদপ্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক শোভন ও জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর উপস্থিতিতে নুরের ওপর হামলা করে তাদের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদপ্রার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নুর রোকেয়া হলে প্রবেশ করে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছিল। এক পর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরাই তাকে বাধা প্রয়োগ করে বিতাড়িত করে।’

লিটন নন্দীও হামলার শিকার

ডাকসু নির্বাচনে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ভিপি পদপ্রার্থী লিটন নন্দী ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হল পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিটন নন্দী বলেন, ‘এই যে হামলা করবার চেষ্টা, এইটা তো ইতিবাচক কিছু না।’

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি মহসীন হলে গিয়েছিলাম, ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওইখানে কোনো সিঙ্গেল লাইন নেই। সবাই গেইটে জটলা করে আছে এবং ছাত্রলীগের ছেলেরাও জটলা করে আছে। যখন আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনারা এখানে কী করছেন?” ঢোকা যাচ্ছে না?’

ভোট দিতে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা। ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ‘ধাওয়া’

রোকেয়া হলে ভোট স্থগিত হলে সেখানে যান রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান। সেখানে আগে থেকেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া প্রার্থী, তাদের সমর্থক ও কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীও স্লোগান দিচ্ছিলেন। 

রোকেয়া হলে ডাকসু নির্বাচনের ভোট স্থগিত হওয়ার পর সেখানে যান প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান। তখন রোকেয়া হলের সামনেই আগে থেকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া কয়েকজন প্রার্থী ও সমর্থক অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে রোকেয়া হলের বেশ কিছু ছাত্রীও যোগ দেন। ওই সময়ই এস এম মাহফুজুর রহমান রোকেয়া হলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। নির্বাচন বর্জনকারী প্রার্থী ও সমর্থকেরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে যাচ্ছিলেন। তখন অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানকে তাড়া করেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা। এ ঘটনার পর তাঁকে সেখান থেকে অন্য সহকর্মীরা রেজিস্টার ভবনে নিয়ে যান।

রোকেয়া হলে লুকিয়ে রাখা ব্যালটপেপার উদ্ধার

রোকেয়া হল থেকে লুকিয়ে রাখা ট্রাঙ্কভর্তি ব্যালটপেপার উদ্ধার করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরের দিকে হলের একটি কক্ষ থেকে তিন ট্রাঙ্ক সিল না–মারা ব্যালটপেপার উদ্ধার করেন তারা।

ভোট শুরুর আগে সব প্যানেলের প্রতিনিধিদের সামনে ৯টি ভোটবাক্সের মধ্যে ছয়টিকে দেখিয়ে সিলগালা করে ভোটগ্রহণ শুরু করতে চায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অপর তিনটি ভোটবাক্স কেনো দেখানো হয়নি, সেটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে তারা জানতে পারেন, পাশের একটি কক্ষে ওই তিনটি বাক্স রাখা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা কক্ষটির দরজা ভেঙে ওই তিনটি বাক্স বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। তারা ওই বাক্সগুলোর তালা ভেঙে দেখেন, সেগুলোয় ব্যালটপেপার ভরা। তবে সেগুলোয় ভোট দেওয়া ছিল না।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার, প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিলযুক্ত ব্যালটের একটি বস্তা পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন ) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেসব ব্যালটে ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে সিল মারা ছিল।

অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ জানান, ‘কুয়েত মৈত্রী হলে ফের সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। ভেটের বাক্স প্রার্থীদের সামনে খুলে তারপর সিলগালা করে ভোট হবে। এখন ভোট হবে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। এ সময়ের মাঝে যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করবে, তারা ভোট দিতে পারবে।’

ভোট শুরু

সোমবার সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

রবিবার বিকেলেই সব কেন্দ্রে স্টিলের অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়। ১৮ হলে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫০৮টি বুথ। হলে স্থাপিত বুথের মধ্যে মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩২টি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৩৫টি, শহীদুল্লাহ হলে ২০টি, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫টি, অমর একুশে হলে ২০টি, জগন্নাথ হলে ২৫টি, কবি জসীম উদ্‌দীন হলে ২০টি, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ৩০টি, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ২১টি, স্যার এ এফ রহমান হলে ১৬টি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ২৪টি, জিয়াউর রহমান হলে ২০টি, বিজয় একাত্তর হলে ৪০টি, রোকেয়া হলে ৫০টি, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪৫টি, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ১৯টি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ২০টি, শামসুন্নাহার হলে ৩৫টি বুথ থাকবে।

এবারের নির্বাচনে একেকজন ভোটারকে দিতে হবে ৩৮টি ভোট। এর জন্য প্রস্তুত করা হয় দু’টি ব্যালট পেপার। ডাকসুর ২৫টি এবং হল সংসদের ১৩টি পদে ভোট দিবেন শিক্ষার্থীরা।

ডাকসুর ২৫টি পদ হচ্ছে সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, সংস্কৃতি সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক এবং ১৩টি সদস্য পদ।

ডাকসুর ২৫টি পদে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী।

এ ছাড়াও প্রতিটি হলে ১৩টি পদের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ১৮টি হলের ২৩৪টি পদের মোট প্রার্থী ৫১২ জন। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ৩৭টি পদে প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৩ হাজার ২৫৬ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু পরবর্তীতে এই নিয়ম খুব একটা অনুসরণ করা হয়নি। এ পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাত বার, যেটি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯০ সালে।