বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

‘সংশ্লিষ্ট বন্দী বিজ্ঞ আদালতে যেতে অনিচ্ছুক’

‘হয় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অসুস্থ, না হয় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ইচ্ছা করে আদালতে হাজির করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯, ১৬:৩৪ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৯, ১৬:৩৪
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯, ১৬:৩৪ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৯, ১৬:৩৪


বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৯ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত।

১৩ মার্চ, বুধবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ এ এইচ এম রুহুল ইমরান এ নতুন তারিখ ধার্য করেন।

বুধবার রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এইচ এম রুহুল ইমরানের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলার আসামি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় কাস্টডি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। সিনিয়র জেল সুপার স্বাক্ষরিত কাস্টডিতে লেখা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট বন্দী বিজ্ঞ আদালতে যেতে অনিচ্ছুক।’

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। আমরা মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানি করতে চাই।’

সে সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ তালুকদার শুনানিতে বলেন, ‘হয় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অসুস্থ, না হয় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ইচ্ছা করে আদালতে হাজির করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।’

কোনো বন্দীর অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠনের শুনানি আইনসংগত না হওয়ায় বিচারক শুনানি শেষে চার্জ গঠনের নতুন তারিখ ঠিক করেন। এর আগে একই আদালত খালেদা জিয়াকে ১৩ মার্চ আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়। সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা এক মাস দুই দিন বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর ফের তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী