সিলিন্ডার ও চুলার গ্যাস। ছবি: সংগৃহীত

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত হবে কি না জানা যাবে ৩১ মার্চ

নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের ওপর শুনানি শেষ করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯, ২০:৪৪ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৯, ২০:৪৪
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯, ২০:৪৪ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৯, ২০:৪৪


সিলিন্ডার ও চুলার গ্যাস। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের ওপর শুনানি শেষ করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

১৩ মার্চ, বুধবার বিকেলে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি করা হয়।

আদালতের বরাত দিয়ে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাবকে তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। গণশুনানি স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে দুপুরে ক্যাবের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণ ফি বাড়ানোর আদেশ দিয়েছিল। এ আদেশের বিরুদ্ধে রিট করা হলে আদালত রুল জারি করেন। ওই রুল পেন্ডিং থাকা অবস্থায় তারা আবারও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবে গণশুনানির নোটিশ দেন। ওই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আজ আবার আবেদন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। আদেশ দেওয়া হবে ৩১ মার্চ। আবেদনের পক্ষে আমরা বক্তব্য তুলে ধরেছি, ২০১০ সালের আইনে বিতরণ ও সঞ্চালনসংক্রান্ত কতগুলো প্রো-বিধান আছে, সেই প্রো-বিধান মামলায় কতগুলো সুনির্দিষ্ট প্রসিডিউটরের কথা বলা আছে—গ্যাস বিতরণ বা সঞ্চালনের জন্য যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের কোনোটির মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবর্তনের দাবি করে প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাব কেন দেয় তার একটা যৌক্তিকতা সেখানে দেখাতে হয় এবং আইনে এটাও পরিষ্কার করে বলা আছে, ওই যৌক্তিকতাটা মূল্যায়ন কমিটি দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘মূল্যায়ন কমিটি দেখার পরে তাদের নিজস্ব একটা সিদ্ধান্ত হবে যে এ প্রস্তাবটা যৌক্তিক। তারা যদি এটাকে যৌক্তিক মনে করে তাহলে তারা নোটিশ দেবে গণশুনানির জন্য। আর যদি যৌক্তিক মনে না করে তাহলে গণশুনানির জন্য নোটিশ করবেন না। কিন্তু এখানে আমাদের কথা হলো, তিতাস কিংবা আরও যেসব সংস্থা আছে তারা কেন দাম বাড়াতে চাইছে তা বলছে না। কেন তারা দাম বাড়াতে চেয়েছে তার কোনো যৌক্তিকতা তারা উল্লেখ করেনি। তারা সেখানে ১০ ডলার করে গ্যাস আমদানির কথা বলেছে।’

‘এ সময় আদালত প্রশ্ন করে, “যেখানে ভারত বাইরে থেকে ছয় ডলার করে গ্যাস আমদানি করে, সেখানে আমরা কেন ১০ ডলার দিয়ে গ্যাস আমদানি করছি?” তার কোনো উত্তর পেট্রোবাংলা বা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষে কেউ দিতে পারেনি। আমাদের বক্তব্য হলো, দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা তাদের কোনো প্রস্তাবে নেই, তারা কোথাও দেখাতে পারেনি।’

‘গত ১১ মার্চ তারা যখন গণশুনানি শুরু করল তখন এই দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রো-বিধান ৬ (৩) অনুযায়ী তাদের আগেই উপস্থাপনের কথা ছিল। সেটা তারা উপস্থাপন করেনি। ফলে এই শুনানির পুরো প্রক্রিয়াটাই বেআইনি। ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর যদি একবার বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে আবার কীভাবে ১১ মার্চ ২০১৯ সালে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য গণশুনানি করতে পারে? এখানে যেটা ঘটেছে সেটা হলো, কোনো একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার জন্য এই ধরনের মক ট্রায়াল চালানো হচ্ছে।’

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী