নুরুল হক নুর। ফাইল ছবি

শিক্ষার্থীরা না চাইলে দায়িত্ব নেব না: নুর

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৩১ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৩১
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৩১ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৩১


নুরুল হক নুর। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) সাধারণ শিক্ষার্থীরা না চাইলে ভিপির দায়িত্ব নেবেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর

১৪ মার্চ, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি চায় আমি ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করি, তাহলে আমি সেটা করব। তারা যদি না চায়, তাহলে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করব না। তাই তাদের বোঝার চেষ্টা করছি। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে।’

এর আগে নিজের প্যানেলের অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন নুরুল হক নুর। পরে তিনি রোকেয়া হলের গেটের সামনে গিয়ে সেখানে অনশনরত পাঁচ শিক্ষার্থীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

গ্রন্থাগারের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নুর আরও বলেন, ‘আমার একটি সংগঠন রয়েছে। তারা আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছে, শ্রম দিয়েছে, সময় দিয়েছে। নির্বাচনে এত কারচুপির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, তাদের মোটিভ কী, তারা কী চাচ্ছেন সেটা বোঝার চেষ্টা করছি।’

‘আপনারা সবাই দেখেছেন, রোকেয়া হলের আমার এই বোনেরা গতকাল (বুধবার) রাত ৯টা থেকে অনশনে বসেছেন। তাদের চারটি মৌলিক দাবি—প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, হল সংসদের পুনরায় নির্বাচন, ছাত্রীদের নামের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা। এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি, বুধবার রাতে আমাদের বোনদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অপসংস্কৃতির চর্চা যারা বাস্তবায়ন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।’

‘প্রভোস্টকে নাকি আমরা তার কক্ষে লাঞ্ছিত করেছি। সেই মিথ্যা অভিযোগে মামলা হয়েছে। যদিও তিনি বলেছেন, তিনি মামলা করেননি। মামলা করেছে অন্য একজন। কিন্তু মামলা যারা করেছে, অবশ্যই তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেই করেছে। আমি মনে করি, শিক্ষক হিসেবে তিনি তার নৈতিক পরিচয় দিতে পারেননি। তিনি এই পদে থাকার যোগ্য নন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, ছাত্রদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষকে পদত্যাগ করতে হবে।’

ডাকসুর নবনির্বাচিত এই ভিপি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি কথাই বলতে চাই। শিক্ষার্থীদের জন্যই এই বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং শিক্ষার্থীদের ওপর আপনারা কোনো স্বৈরতন্ত্র সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। ছাত্ররা এর প্রতিহত করবে।’

বুধবার (১৩ মার্চ) রাতে চার দফা দাবিতে হলের সামনে অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তারা হলেন—ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা।

রাফিয়া সুলতানা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে রোকেয়া হল সংসদে সহসভাপতি (ভিপি), সায়েদা আফরিন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন থেকে হল সংসদে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস), শ্রবণা শফিক দীপ্তি স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে আর প্রমি খিশা হল সংসদে সদস্য পদে ছাত্র ফেডারেশনের প্রার্থী ছিলেন। জয়ন্তী রেজা প্রার্থী ছিলেন না।

আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন।

২. রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগ।

৩. ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীসহ সাত জন ও অজ্ঞাতনামা ৪০ জনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহার।

৪. আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...