ভয়ার্ত ক্রিকেটাররা দ্রুতই হ্যাগলি পার্কের রাস্তা ধরে স্টেডিয়ামে ফেরেন। ছবি: সংগৃহীত

কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ছিল না...

বাংলাদেশ দলের চলমান নিউজিল্যান্ড সফরের বেলায় দেখা গেল অন্যরকম এক চিত্র।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৩:৫০ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৩:৫০
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৩:৫০ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৩:৫০


ভয়ার্ত ক্রিকেটাররা দ্রুতই হ্যাগলি পার্কের রাস্তা ধরে স্টেডিয়ামে ফেরেন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ সফরে আসা যেকোনো ক্রিকেট দলকেই সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হয়। জঙ্গি হামলার কারণে টানা সফর বাতিল করা অস্ট্রেলিয়া যখন ২০১৬ সালে বাংলাদেশে এলো তখন প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল তাদের। এ তো গেল অস্ট্রেলিয়ার কথা, নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত-উইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ের মতো দলের বেলায়ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

অথচ বাংলাদেশ দলের চলমান নিউজিল্যান্ড সফরের বেলায় দেখা গেল অন্যরকম এক চিত্র। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য সেখানে বলার মতো কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ছিল না। এমনকি ছিলেন না ন্যূনতম একজন নিরাপত্তাকর্মীও।

১৫ মার্চ, শুক্রবার অনুশীলন শেষে জুমার নামাজ পড়তে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মুশফিকুররহিম-তামিম ইকবাল-মুস্তাফিজুর রহমান-মেহেদী হাসান মিরাজ-তাইজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার যান নিকটবর্তী মসজিদ আল নূরে। মসজিদে প্রবেশ করার ঠিক আগমুহূর্তে অজ্ঞাত এক নারী বাংলাদেশ দলকে সাবধান করেন যে, ভেতরে একজন বন্দুক হাতে ঢুকেছেন।

অজ্ঞাত নারীর ওই সাবধান বাণী শুনে কাছেই দাঁড় করানো টিম বাসে ওঠে পড়েন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা এবং বাসের মেঝেতে শুয়ে পড়েন। তখন গুলির আওয়াজ শুনতে পান তারা। এ সময় ক্রিকেটারদের সঙ্গে একজন নিরাপত্তারক্ষীও ছিল না। এমনকি টিমের লিয়াজোঁ অফিসার পর্যন্ত ছিল না তামিম-মুশফিকদের সঙ্গে। এমন নিরপত্তাহীন অবস্থায় ক্রাইস্টচার্চে কঠিন বিপদের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল ক্রিকেটাররা।

৫ মিনিটের এদিক সেদিক হলে ঘটনা ভিন্নই হতো। ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার সময়কার পরিস্থিতি হুবহু তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে থাকা, প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র। তার সেই লেখা তুলে ধরা হলো প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য।

“বাংলাদেশ দলের বাস তখন মসজিদের সামনে। ক্রিকেটাররা বাস থেকে নেমে মসজিদে ঢুকবেন, এমন সময় রক্তাক্ত শরীরের একজন মহিলা ভেতর থেকে টলোমলো পায়ে বেরিয়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান। ক্রিকেটাররা তখনো বুঝতে পারেননি ঘটনা কী। তাঁরা হয়তো মসজিদে ঢুকেই যেতেন, যদি না বাসের পাশের একটা গাড়ি থেকে এক ভদ্রমহিলা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বলতেন, ‘ভেতরে গোলাগুলি হয়েছে। আমার গাড়িতেও গুলি লেগেছে। তোমরা ভেতরে ঢোকো না।’ ক্রিকেটাররা তখন বাসেই অবরুদ্ধ হয়ে আটকা পড়ে থাকেন বেশ কিছুক্ষণ। কারণ পুলিশ ততক্ষণে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বাসে বসেই তাঁরা দেখতে পান, মসজিদের সামনে অনেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। অনেকে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে বেরিয়ে আসছেন মসজিদ থেকে। যা দেখে আতঙ্কে অস্থির হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। কারণ বাসে কোনো নিরাপত্তাকর্মী দূরে থাক, স্থানীয় লিয়াজোঁ অফিসারও ছিলেন না।”

পরবর্তী সময়ে ভয়ার্ত ক্রিকেটাররা দ্রুতই হ্যাগলি পার্কের রাস্তা ধরে স্টেডিয়ামে ফেরেন। হ্যাগলি ওভালের ড্রেসিংরুমে ঘণ্টা দুয়েক অবরুদ্ধ থাকার পর বাংলাদেশ দলকে বিশেষ এসকর্টে করে নভোটেল হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে সিরিজের শেষ টেস্টটি। দ্রুতই বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ড ছাড়বেন ক্রিকেটাররা।

পুরো ক্রাইস্টচার্চ শহরই এখন অবরুদ্ধ। বাংলাদেশ দল হ্যাগলি ওভালে ফিরে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের একাধিক জায়গায় সন্ত্রাসী হামলার খবর আসতে থাকে। বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যাও। নিউজিল্যান্ড ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪০জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২০-৩০ জন।

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...