পৃথিবীজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন বায়ুদূষণের কারণে। ছবি: প্রিয়.কম

ধূমপান নয়, বায়ুদূষণই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যুর কারণ

ধূমপানে যত না মানুষের মৃত্যু হয়, তার থেকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বায়ুদূষণের কারণে, জানা গেছে এক গবেষণায়।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২২:০৪ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২২:০৪
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২২:০৪ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২২:০৪


পৃথিবীজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন বায়ুদূষণের কারণে। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ধূমপানে যত না মানুষের মৃত্যু হয়, তার থেকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বায়ুদূষণের কারণে, জানা গেছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায়।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর কেমিস্ট্রির এই গবেষণায় জানানো হয়, পৃথিবীজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন বায়ুদূষণের কারণে। অতীতে এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেক (৪৫ লাখ) বলে ধারণা করা হতো। শুধু ইউরোপেই সাত লাখ ৯০ হাজার মানুষ বায়ুদূষণের কারণে মারা যায় বলে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি যে কত ভয়াবহ তা বোঝাতে ধূমপানে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়। ধূমপানে মৃত্যুর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মৃত্যু হয় বায়ুদূষণে। আর ধূমপান এড়িয়ে চলা গেলেও বায়ুদূষণ এড়ানোর কোনো উপায় নেই।

অতীতে এই তথ্য জানা যায়নি কেন? কারণ তখন গবেষণার ধরন সঠিক ছিল না। বিভিন্ন দেশের বায়ুদূষণ, বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি, এসব এলাকায় বাসিন্দাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব, বয়স ও স্বাস্থ্যসেবার মান ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে নতুন এই গবেষণাটি করা হয়।  ইউরোপে বায়ুদূষণের কারণে যত মানুষ মারা যায়, তার ৪০-৮০ শতাংশ মারা যায় হৃদরোগে, যেমন হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক। বেশ কয়েক দিক দিয়ে বায়ুদূষণ মানুষের হৃদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও সরু হয়ে যায়, ফলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে ও হৃৎপিণ্ড ভালো কাজ করে না।

এই গবেষণায় বায়ুতে মাইক্রোস্কোপিক ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করা হয়। এগুলো ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ক্ষুদ্র এবং সহজেই ফুসফুসের মাধ্যমে রক্ত সংবহনতন্ত্রে চলে যায়। গাড়ির ধোঁয়া, কাঠের চুলার ধোঁয়া, কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে এমন কণা তৈরি হয়।  গবেষণার ভিত্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এতে করে শুধু ইউরোপেই বায়ুদূষণ থেকে ৫৫ শতাংশ মৃত্যু কমিয়ে আনা যাবে।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স

প্রিয় লাইফ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...