জাতীয় দলের তরুণ পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

হামলার ভিডিও দেখে কেঁদেছেন খালেদের মা-বাবা

ক্রাইস্টচার্চে হামলার খবরে দুশ্চিন্তার ঝড় বয়ে গেছে ক্রিকেটারদের পরিবারের সদ্যসের ওপর দিয়ে।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৪২ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৪২
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৪২ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৪২


জাতীয় দলের তরুণ পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ক্রাইস্টচার্চে হামলার খবরে দুশ্চিনায় ছিলেন বাংলাদেশের সকল নাগরিক। কারণ তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে অংশ নিতে তখন ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করছিলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। একই সঙ্গে দুশ্চিন্তার ঝড় বয়ে গেছে ক্রিকেটারদের পরিবারের সদ্যসের ওপর দিয়ে। ওদিকে হামলার খবর শুনে রীতিমতো কেঁদে ফেলেন জাতীয় দলের তরুণ পেসার খালেদ আহমেদের বাবা-মা।

ক্রাইস্টচার্চে স্থানীয় সময় তখন ১টা ৪০ মিনিট। অনুশীলন শেষ করে জুমার নামাজ আদায় করতে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কমুখী সড়ক দীন অ্যাভিনিউতে আল নুর মসজিদে যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ঠিক এমন সময় ওই মসজিদে হামলা চালায় সশস্ত্র এক সন্ত্রাসী। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৯ জন।

মুহূর্তের মধ্যে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। টেলিভিশন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দ্রুত ছড়ায় আল নুর মসজিদের হামলার খবর। টেলিভিশনের পর্দায় এই সন্ত্রাসী হামলার ফুটেজ দেখে দুশ্চিন্তায় সময় কাটিয়ে ক্রিকেটাদের পরিবারের সদস্যরা।

তবে ছেলেকে নিয়ে খালেদের বাবা-মা এতটাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন যে, হামলার খবর দেখে কেঁদেই ফেলেছেন তারা। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড থেকে দেশের একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটা জানান খালেদ।

তিনি বলেন, ‘টিভিতে হামলার ভিডিও দেখেই কান্নাকাটি করেছেন বাবা-মা।’

এদিন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা পাঁচ মিনিট আগে মসজিদে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। কারণ জুমার নামাজ আদায়ের জন্য দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ দলের মসজিদে ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সংবাদ সম্মেলন শেষ করে মসজিদে যেতে যেতে ১টা ৪০ বেজে যায়।

মসজিদ থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে থাকতে হামলার খবর পান বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। হামলার খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে বাসের মেঝেতে শুয়ে পড়েন তারা। পরবর্তীতে হ্যাগলি পার্কের রাস্তা ধরে স্টেডিয়ামে ফেরেন তারা। স্টেডিয়াম থেকে নিরাপদে টিম হোটেলে পৌঁছান তামিম-মুশফিকরা।

পুরো সময়টুকু সিনেমার শুটিংয়ের মতো মনে হয়েছে ক্রিকেটারদের কাছে। এ প্রসঙ্গে খালেদ বলেন, ‘রিয়াদ ভাই প্রেস কনফারেন্স থেকে একটু দেরি করে বের হয়েছিল। এজন্য আমাদেরও দেরি হয়েছিল। তা না হলে আমরা তো ততক্ষণে মসজিদের ভেতরই থাকতাম। আর সবাই তো ভয় পাবেই। সবাই চমকে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, চোখের সামনেই শুটিং চলছে।’

হামলার কারণে ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ। এখানেই শেষ নয়, ইতোমধ্যেই ক্রিকেটারদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামীকাল (শনিবার) স্থানীয় সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) দেশে ফেরার বিমান ধরবেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...