আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে (বামে)। মসজিদ থেকে ফেরার পথে মিরাজ, তাইজুল, তামিমরা। ছবি: সংগৃহীত

‘ভয়ঙ্কর এই অভিজ্ঞতা সহজে ভোলা যাবে না’

টিম হোটেলে ফেরার আগে রক্তমাখা কিছু চেহারা দেখেছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০১৯, ১২:০৯ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯, ১৫:১৪
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০১৯, ১২:০৯ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯, ১৫:১৪


আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে (বামে)। মসজিদ থেকে ফেরার পথে মিরাজ, তাইজুল, তামিমরা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ৫-১০ মিনিট আগে হলেই ঘটে যেত দুর্ঘটনা। ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের দলের ক্রিকেটাররা। যেখানে ঘটে গেছে নারকীয় ঘটনা। সন্ত্রাসীর গুলিতে প্রার্থনারত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন মানুষ। এই নৃশংসতার সময়ই সেখানে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। প্রাণভয়ে সেখান থেকে দৌড়ে টিম হোটেলে ফেরেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

টিম হোটেলে ফেরার আগে রক্তমাখা চেহারাগুলো দেখেছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। মসজিদ থেকে রক্তাক্ত মানুষদের বের হয়ে আসা, বাইরে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য তাদের চোখের সামনেই ঘটেছে। এই নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই ট্রমায় ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। যে ট্রমা থেকে সহসাই বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে জানালেন ওপেনার তামিম ইকবাল।

এই ঘটনায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট বাতিল করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। শনিবার রাত ১০.৪০ মিনিটে দেশে পৌঁছানোর কথা বাংলাদেশ দলের। দেশে ফেরার আগে ভয়ঙ্কর এই অভিজ্ঞতা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তামিম ইকবাল।

এক সাক্ষাৎকারে বাঁহাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘এটা খুবই ভয়ঙ্কর ছিল। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। কিন্তু কী করার আছে? প্রাণ হারানো মানুষ এবং তাদের পরিবারের জন্য দোয়া করা ছাড়া আসলে কিছু করার নেই।’ মসজিদে পৌঁছে এমন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া তামিম, মিরাজ, তাইজুলদের চোখমুখই বলে দিচ্ছিল, কতটা আতঙ্কিত ছিলেন তারা।

ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদ হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন ৯০ জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মসজিদে প্রবেশ করার ঠিক আগমুহূর্তে অজ্ঞাত এক নারী বাংলাদেশ দলকে সাবধান করেন যে, ভেতরে একজন বন্দুক হাতে ঢুকেছেন।

অজ্ঞাত নারীর ওই সাবধানবাণী শুনে কাছেই দাঁড় করানো টিম বাসে উঠে পড়েন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা এবং বাসের মেঝেতে শুয়ে পড়েন। এ সময় গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পান তারা। সেখানে কয়েক মিনিট মাথা নিচু করে বসে থাকার পর বাসের পেছনের দরজা দিয়ে নেমে পায়ে হেঁটে হোটেলে ফেরেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...