পৃথিবীর উচ্চতম এবং অন্যতম জনপ্রিয় পর্বতশৃঙ্গ হলো হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্ট। ছবি: সংগৃহীত

মাউন্ট এভারেস্ট থেকে বের হয়ে আসছে মৃতদেহ

২০১৭ সালে দেখা যায়, বরফ গলে এভারেস্ট অভিযানে মৃত পর্বতারোহীদের হাত পা বেরিয়ে আসা শুরু করেছে।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৩:০৪ আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৩:০৪
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৩:০৪ আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৩:০৪


পৃথিবীর উচ্চতম এবং অন্যতম জনপ্রিয় পর্বতশৃঙ্গ হলো হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্ট। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) পৃথিবীর উচ্চতম এবং অন্যতম জনপ্রিয় পর্বতশৃঙ্গ হলো হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্ট। এভারেস্ট জয় করার স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন হাজার হাজার পর্বতারোহী। কিন্তু এই কাজটি করতে গিয়ে প্রচুর মানুষ মারাও গেছেন।

পর্বতারোহণ সহজ কোনো কাজ নয়। এতে বিজয়ের স্বাদ পাওয়া গেলেও প্রচুর ঝুঁকি রয়েছে মাথার ওপর। এভারেস্ট জয় করার পথে কাঁটা হয়ে থাকে ফ্রস্টবাইট, হাইপোথার্মিয়া, সাইকোসিস, অ্যাভালাঞ্চ বা ধস, আর বরফের খাদে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তো আছেই।

১৯২২ সালের পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন মানুষ এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে সেখানেই মারা গেছেন। এর মাঝে ২০০ জনের মরদেহ এখনো আটকে আছে সেই বরফের মাঝে।  

সম্প্রতি গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে এভারেস্টের কিছু অংশের বরফ গলতে শুরু করেছে। আর বছরের পর বছর বরফে আটক থাকা মৃতদেহগুলো অবশেষে বের হয়ে আসছে।

হিমালয়ান রেঞ্জের অংশ এভারেস্ট, তা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২৯,০২৯ ফুট উঁচু। অবশ্য তা আসলেই উচ্চতম পর্বত কিনা, বা তা উচ্চতায় বেড়েছে বা কমেছে কিনা, এ নিয়ে এখনো বিতর্ক আছে।  ১৯৫৩ সালে প্রথম এডমুন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং নোরগে এভারেস্ট জয় করেন। এরপর থেকে ৪৮০০ জনের মতো পর্বতারোহী নিরাপদে এভারেস্ট সামিট করে ফিরে আসেন। কিন্তু সময়ের সাথে এভারেস্টও পাল্টে গেছে। ২০১৫ সালে এক ভূমিকম্পে ‘হিলারি স্টেপ’ নামের একটি জায়গা নষ্ট হয়ে যায়। ওই একই বছরের এক গবেষণায় দেখা যায় হিমালয়ের বরফ গলতে শুরু করেছে ও ১০০ বছরের মাথায় এখানকার হিমবাহগুলোর ৭০-৯৯ শতাংশ গলে যাবে।  গত বছর নেপালের খুম্বু গ্লেসিয়ারে ড্রিল করা হয় ও দেখা যায়, এর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

২০১৭ সালে দেখা যায়, বরফ গলে এভারেস্ট অভিযানে মৃত পর্বতারোহীদের হাত পা বেরিয়ে আসা শুরু করেছে। বসন্ত চলাকালীন আরও অনেক মরদেহ এভাবে বের হয়ে আসতে পারে।  

এভারেস্ট অভিযানে মৃত পর্বতারোহীদের মরদেহ উদ্ধারের আগে বেশকিছু বিষয় বিবেচনায় আনতে হয়, যেমন খরচ, স্থানীয় নীতিমালা এবং ওই পর্বতারোহীদের পরিবারের ইচ্ছে। একটি মরদেহ এভারেস্ট থেকে নামিয়ে আনতে খরচ হতে পারে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত। আর অনেক পর্বতারোহীই মনে করেন তারা এভারেস্ট অভিযানে মারা গেলে শরীরটা সেখানে থেকে যাওয়াই ভালো। শুনতে রূঢ় মনে হতে পারে, কিন্তু অভিযাত্রীদের মরদেহ নতুন পর্বতারোহীদের পথ চিনতে সাহায্য করে। তবে বরফ গলে যদি ২০০টি মরদেহ বের হয়ে আসে, তাহলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স

প্রিয় লাইফ/আশরাফ