কনসার্টে পারফর্ম করছেন জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ‘বিটিএস’। ছবি: সংগৃহীত

কে-পপ সাম্রাজ্যের পতন?

কে-পপের খ্যাতি দুনিয়াজোড়া এবং এটি এখন শত শত কোটি ডলারের বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার আইকন কে-পপ সাম্রাজ্য এখন সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৬:৪৭ আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৬:৫৫
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৬:৪৭ আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯, ১৬:৫৫


কনসার্টে পারফর্ম করছেন জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ‘বিটিএস’। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দক্ষিণ কোরিয়ার পপ ঘরানার মিউজিককে কে-পপ (কোরিয়ান পপ) বলা হয়। ব্যাংটান বয়েজ (বিটিএস), এক্সো, বিগব্যাং, গার্লস জেনারেশন, রেড ভেলভেট, জিওটি৭, সেভেনটিন, ওয়ানা ওয়ান ইত্যাদি হচ্ছে কে-পপের জনপ্রিয় ব্যান্ড। কে-পপের খ্যাতি দুনিয়াজোড়া এবং এটি এখন শত শত কোটি ডলারের বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার আইকন কে-পপ সাম্রাজ্য এখন সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রথমে জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে এ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হলো—

বহুদিন ধরেই কে-পপ সংস্কৃতিতে নারীদের ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন চলে আসছে। এটা যে কেউ জানে না, তা নয়। কিন্তু কে-পপ তারকাদের বিশাল প্রভাবের কথা বিবেচনা করে কেউই বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে মুখ খোলেনি। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সে বছরের নভেম্বর মাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় কে-পপ শিল্পী সেনুরি (Seungri) একটি নাইট ক্লাবে এক ব্যক্তির সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, এক নারীকে সম্ভাব্য যৌন হয়রানির হাত থেকে বাঁচাতে গেলে সেনুরির সঙ্গে তার তর্ক হয় এবং সেটি শেষ পর্যন্ত মারামারিতে গড়ায়। পরে ক্লাবের নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে মেরে ক্লাব থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।

পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, কে-পপ তারকারা তরুণীদেরকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে যৌন হয়রানি করে এবং এটা কে-পপ সংস্কৃতিতে বহুদিন ধরে চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়াতে তোলপাড় শুরু হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বমিডিয়ারও দৃষ্টি কাড়ে বিষয়টি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার টিভি চ্যানেল এসবিএস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ২০১৫ সালের আরেক যৌন কেলেঙ্কারির কথা ফাঁস করে দেওয়া হয়। সে বছর একদল বিদেশি বিনিয়োগকারীর দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সেনুরি তাদের জন্য অবৈধ যৌন সেবার আয়োজন করেছিলেন এবং নারীদের অনুমতি ছাড়াই গোপনে তাদের ভিডিও করেছেন। আরেক জনপ্রিয় কে-পপ তারকা জাং জুন-ইয়ং এ ধরনের একটি ভিডিও একটি অনলাইন চ্যাটগ্রুপে শেয়ার করেছেন, যেখানে আরও অনেক কে-পপ তারকারা ছিলেন। পুলিশ জানতে পারে, ওই নাইট ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভিআইপিদের জন্য পতিতা সরবরাহ করে এবং তাদেরকে অবৈধ যৌনকাজে বাধ্য করে।

জনপ্রিয় কে-পপ শিল্পী সেনুরি। ছবি: সংগৃহীত

এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর কে-পপ নিয়ে তোলপাড় এক লাফে বহুগুণ বেড়ে যায়। সেনুরি, জাং জুন-ইয়ংসহ কে-পপের আরও বহু পুরুষ তারকার যৌন ও নারী কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ হতে থাকে। তারা বহুদিন ধরেই নারীদের অনুমতি ছাড়াই গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করেছেন, তাদের যৌন নির্যাতন করছেন—এমন অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হতে শুরু করে। এসব ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর সেনুরি ও জাং জুন-ইয়ং উভয়ই তাদের অগ্রিম অবসরের ঘোষণা দেন। গেল সপ্তাহের শুরুর দিকে সিউলের পুলিশ সেনুরিকে আটক করে এবং ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার জাং জুন-ইয়ংকে আটক করে। উভয়ই ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং এখন জেলে যাওয়ার হুমকিতে আছেন।

সিউল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে যাওয়ার আগে জাং জুন-ইয়ং। ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তাহে আরেকজন কে-পপ শিল্পী ইয়ং জুন-হিউং তার ব্যান্ড ‘হাইলাইট’ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, জাং যে ভিডিওটি চ্যাটরুমে শেয়ার করেছেন, সেটি তিনিও দেখেছেন কিন্তু যথাসময়ে এর প্রতিবাদ করেননি। এফটি আইল্যান্ড ব্যান্ডের শিল্পী চোই জং-হুনও পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। ২০১৬ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনার তদন্তে পুলিশ তাকে অন্যায় সুবিধা দিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এখনো মামলাটির তদন্ত করছে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জনগণের চাপের আগে তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেননি।

ধনী ও প্রভাবশালী পুরুষরা দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ও নারীদের অপব্যবহার করে আসছিলেন এবং এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে, বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ এ অপসংস্কৃতির ওপর কিছুটা আলো ফেলল। তবে বিশষেজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা বিশাল সমুদ্রের তুলনায় এক ফোঁটা পানি মাত্র।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলো নিষিদ্ধ এবং অন্যান্য উপায়েও দেশটি থেকে সহজেই অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখা যায় না। মেয়েদের অগোচরে ধারণ করা ভিডিওগুলো তরুণদের কাছে জনপ্রিয়।

গত বছর বিশ্বব্যাপী #মিটু আন্দোলন শুরুর পর দক্ষিণ কোরিয়ার নারীরা তাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ব্যাপারে মুখ খুলতে শুরু করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কে-পপ তারকারা সবসময়ই আলাদা সম্মান পেয়ে আসছেন। ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোও তারকাদের স্বচ্ছ ভাবমুর্তি বজায় রাখার জন্য প্রচুর অর্থ ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

কোরিয়ান উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন ইউনাইটেডের কো-প্রেসিডেন্ট কিম ইয়ং-সুন ২১ মার্চ বলেন, ‘উত্তেজক ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে নারীদেরকে ধর্ষণের সংস্কৃতি দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। #মিটু আন্দোলনের ব্যাপক উত্থানের পরও পুরুষ নিয়ন্ত্রিত এ ধর্ষণ সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি। নারীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নিপীড়ন বন্ধের সময় এসেছে। এটি এখনই বন্ধ করতে হবে।’

গত সপ্তাহে দেশটির লৈঙ্গিক সমতা ও পরিবারমন্ত্রী জিন সান-মি এক বেঠকে পুরুষদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘দয়া করে এটা বন্ধ করুন। এসব ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানান। নারীরাও মানুষ। তারা আমাদের সহকর্মী, বন্ধু ও বোন। তারা আমাদের সঙ্গেই বসবাস করে।’

কে-পপের আসল সত্য

কে-পপকে বাইরে থেকে যতই ঝলমলে গ্ল্যামারাস দেখা যাক না কেন, এর পেছনে রয়েছে অন্ধকার ও রুঢ় ইতিহাস। ব্যান্ডগুলো সাধারণত বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তারকাদেরকে এসব কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়। কোম্পানিগুলো খুব অল্প বয়স থেকে সম্ভাব্য কে-পপ তারকা খুঁজে বের করে। সম্ভাব্য তারকাদের সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির এ চুক্তিকে অনেকে ‘দাস চুক্তি’ও বলেন। পপ তারকা প্রিন্স মার্ক বলেন, ‘কেউ যখন কোনো চুক্তি করেন, তখন তাদের জীবনের পরবর্তী ১০-১৫ বছর আক্ষরিক অর্থেই চুক্তিকারী কোম্পানির কাছে সমর্পন করে দিতে হয়। এ ১৫ বছরে চুক্তিকারী কোম্পানি যা যা বলবে, চুক্তিকারীকে ঠিক তা মেনে চলতে হবে। এটা শুনতে যতটা ভালো শোনাচ্ছে, ততটা ভালো নয়। ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ছোটবেলা থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে, প্রশিক্ষণ দেবে। কিন্তু যে ১৫ বছরের চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, সেটি শুরু হবে যখন কেউ তারকা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে, সেই বছর থকে। কিন্তু এর তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগের অন্তত ১০-১৫ বছর আপনাকে তাদের অধীনেই থাকতে হবে। এ সময়ে পরিবারের সঙ্গে কদাচিৎ দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয় তাদের।’

সম্ভাব্য তারকাদের খুবই কঠোর অনুশাসনের মধ্যে রাখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

এমনকি আপনি যদি ব্যাপক জনপ্রিয়ও হয়ে যান, তারপরও চুক্তির কারণে আপনি নিজে থেকে কিছুই করতে পারবেন না। এখানে জনপ্রিয়তার সঙ্গে অর্থ আয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি যতই জনপ্রিয় হন না কেন, আপনি সরাসরি কোনো অর্থ আয় করতে পারবেন না। আপনার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অর্থ আয় করবে এবং সেখান থেকে একটা সামান্য অংশ তারা আপনাকে বেতন হিসেবে দেবে। মেয়েদের ব্যান্ড স্টেলারের চারজন সদস্য একবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, টাকার অভাবে তারা একজনের খাবার কয়েকজন মিলে ভাগ করে খেতেন। ১৩ বছরের এক কম মজুরির চুক্তির কারণে  চুক্তিবদ্ধ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে জিতেছিল কে-পপের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ব্যান্ড ডং ব্যাং শিন (টিভিএক্সকিউ)।

শারীরিক গঠন ঠিক রাখার জন্য কঠোর ডায়েট চার্ট আর ব্যায়াম করতে হয় তারকাদের। ছবি: সংগৃহীত

কে-পপ সংস্কৃতিতে কাস্টিং কাউচ সমস্যা প্রবল। যেহেতু এখানে সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই কম, তাই নারী সদস্যদেরকে প্রায়ই যৌনতার বিনিময়ে খ্যাতি কিনতে হয়। কে-পপ সংস্কৃতিতে এটিকে ‘স্পনসরশিপ’ বা ‘ট্রানজেকশন’ বলে। কিন্তু দিন শেষে এটা সাফল্যের জন্য দেহ বিক্রি ছাড়া আর কিছুই নয়। এমনকি সফলতার জন্য তাদেরকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে বিয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

নারী সদস্যরা অনেকেই আবার অভিনয় পেশায় চলে যান। ২০১০ সালে কোরিয়ান জুনগ্যাং ডেইলিতে প্রকাশিত এক প্রবিদেনে বলা হয়, ৬০ শতাংশ অভিনেত্রীকে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যৌনতায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এমনকি পতিতাবৃত্তির অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অভিনেত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য।

এখনকার দিনে প্লাস্টিক সার্জারি বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু কে-পপ তারকারা এটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ‘সেক্সি লুক’ দেওয়ার জন্য তাদের চোয়াল ভেঙে ‘V' আকৃতি করে দেওয়া হয় এবং তাদের চেহারার আকৃতি জাপানি এনিমেটেড চরিত্রগুলোর মতো করা হয়। এসব খুবই কষ্টকর ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

সাফল্যের জন্য নারী শিল্পীদের যৌনতা বিনিময় করতে হয়। ছবি: সংগৃহীত

কে-পপের সব নারীদের একই রকম চেহারা হতে হবে, এমন একটি প্রচলন আছে। সবার ছোট চেহারা, বড় বড় চোখ, চিবুক সামান্য চওড়া থাকাটা আদর্শ। এসব সার্জারি কিন্তু তারকাদের ইচ্ছামতো হয় না। কোনো ম্যানেজার যখন কোনো শিল্পীকে বলবে যে, তাকে সার্জারি করাতে হবে, তখন তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ছুরির নিচে নিজেকে সঁপে দিতে হবে। এখানে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার তেমন কোনো মূল্য নেই। তারকা হওয়ার জন্য তাদেরকে এ সবকিছু মেনে নিতে হয়।

তারকাদের খুব কঠিন ডায়েট চার্ট অনুরসরণ করতে হয় এবং ব্যায়ামাগারে প্রচুর সময় দিতে হয়। নারী শিল্পীদেরকে সবসময় খুবই চিকন থাকতে হয়। নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে প্রায়ই শিল্পীদের অত্যন্ত নির্মম জীবনযাপন করতে হয়।

বর্ণবাদ কে-পপ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর অসুস্থ থাকলেও শিল্পীদেরকে পারফর্ম করতে হয়।

ব্যতিক্রমি ভক্তকুল

কে-পপ ভক্তদের সংস্কৃতিও আলাদা। কোনো একজন একটি কে-পপ ব্যান্ডকে পছন্দ করেন মানে তাকে অন্যগুলোকে অপছন্দ বা ঘৃণা করতে হবে। বিশ্বের অন্য সব জায়গার ভক্তদের সঙ্গে তাদের মিল নেই। ভক্তরা যাকে অপছন্দ করবে, তাকে খুনও করতে পারে। তাই কেউ যখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে যায়, অ্যান্টি-ফ্যানদের (অন্য ব্যান্ডের ভক্ত) হাতে খুন হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যায়। একবার একটি ব্যান্ডের কনসার্টের সময় তাদের অ্যান্টি-ফ্যানরা কনসার্টের সব বাতি নিভিয়ে দিয়েছিলেন। অ্যান্টি-ফ্যানরা একবার তাদের অপছন্দের একটি ব্যান্ড দলকে ফুলের তোড়া পাঠিয়েছিল, যার অর্থ ‘কোরিয়া মারা গেছে’।

এক তারকা একবার একা সংগীত পরিবেশন করার ‘অপরাধে’ ভক্তরা তাকে সুইসাইড করার আহবান জানায়। এমনকি তাকে সুইসাইডের আহবান জানিয়ে করা একটি পিটিশনে অল্প সময়ের মধ্যেই তিন হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে। পরে কর্তৃপক্ষ সেটি সরিয়ে ফেলে। আরেক নারী শিল্পী জনপ্রিয় এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেম করছেন—এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর তার কাছে রেজর ও মৃত্যুর হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

কে-পপের একটি কনসার্ট। ছবি: সংগৃহীত

কেউ যখন তারকা হয়ে যায়, তখন তার সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ হতে হয়। সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতিও ভক্তরা সহজে মেনে নেন না। কে-পপ ভক্তরা প্রায়ই সব ধরনের সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলেন।

এবিসি টিভিতে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টিভিএক্সকিউ ব্যান্ড দলের কিছু ভক্ত আছে, যারা ব্যান্ডের সদস্যদের ফোনে আড়ি পাতেন। যাতে তাদের স্বপ্নের তারকারা ফোনে কি বলছেন, তা তারা শুনতে পারেন। অনেকে প্রিয় তারকাকে ঘুমন্ত অবস্থায় চুমু খেতে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভেঙে ভেতরেও ঢুকেন।

এমন একটি উগ্র ভক্তদের দল আছে, যেটি ‘সাসিয়াং’ নামে পরিচিত। এ ভক্তরা তাদের প্রিয় তারকাদের বাসায় গোপনে ক্যামেরা ইনস্টল করে রাখে। এমনকি মাসিকের রক্ত দিয়ে প্রিয় তারকাকে চিঠি লিখে। এ ভক্তদলের সদস্যরা তাদের প্রিয় তারকাকে আক্রমণ করতেও পিছপা হন না, যদি তারা মনে করেন তাদের প্রিয় তারকা তাদেরকে সেভাবে পাত্তা দিচ্ছেন না।

কে-পপ তারকাদের পিছু ধাওয়া করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় আলাদা ট্যাক্সি সার্ভিস পর্যন্ত আছে।

এখনো পর্যাপ্ত নয়

কে-পপের কলঙ্কজনক ইতিহাস সামনে চলে আসার পর অনেকেই বলছেন, যা উন্মোচিত হয়েছে তা খুবই নগন্য। আরও অনেক কিছু জানা বাকি আছে। অনেক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি তাদের তারকাদের নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের জন্য সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিলেও এখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। এসব কোম্পানি বরাবরই তাদের পুরুষ তারকাদের স্বচ্ছ ইমেজ ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেলেও এবারই তাদেরকে বেশি হতাশ মনে হচ্ছে। কোরিয়ান সংবাদমাধ্যম কে-পপের অন্ধকার দিক আরও বেশি উন্মোচন করে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যেও তাদের অন্ধকার দিক সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়েই যেন কে-পপের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

ফরেন পলিসি, সিএনএন এবং গ্রাঞ্জ অবলম্বনে

প্রিয় সংবাদ/মিজান/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...