গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ছবি: শামছুল হক রিপন

বাংলাদেশের সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করেছেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ: মাজহারুল আনোয়ার

কিংবদন্তি শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারিধারায় নিজ বাসায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা গেছেন।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৪:২২ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৪:২২
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৪:২২ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৯, ১৪:২২


গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ শনিবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারিধারায় নিজ বাসায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা গেছেন। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই যেন বিষাদ ভর করেছে শিল্পীর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে।

শাহনাজ রহমতুল্লাহ’র পরিবারের ঘনিষ্ঠজন দেশের বরেণ্য গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তিনি আজ সকালে গুণী এই শিল্পীর বারিধারায় বাসায় যান। এ সময় বহু কালজয়ী গানের এই কিংবদন্তি শিল্পীকে স্মরণ করে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মাজহারুল আনোয়ার।

স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম নিয়ে অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা মাজহারুল আনোয়ার শাহনাজ রহমতুল্লাহকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি সব সময় বলি একজন বড় মাপের শিল্পী একজন অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকা পালন করেন। আজকে যদি ভারতের দিকে তাকাই লতা মঙ্গেশকর, পাকিস্তানের নুরজাহান, মিসরের উম্মে কুলসুমের নাম বললে সারা পৃথিবীর লোকজন তাদের চিনেন।’

‘তেমনি বাংলাদেশের কিছু শিল্পী আছেন, যাদের নাম বললে সারা পৃথিবীর মানুষজন চিনেন। যারা বাংলাদেশের সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, সারা পৃথিবীজুড়ে, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। সেখানে দেশীয়ভাবে একজন শিল্পী কতটা মর্যাদা পেয়েছে কিংবা পায়নি সেটা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। আমি নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করি, একজন শিল্পী তার তৃপ্তির জায়গা থেকেই কাজটা করেন। সৃষ্টিশীল কাজ তো এর বাইরে গিয়ে করা সম্ভব না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে এই গীতিকবি বলেন, ‘আমরা এখন স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। আর এই দেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে সংগীত অঙ্গনের ভূমিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। কিন্তু নতুন সূর্য ওঠার পরে একজন শাহনাজ ও জব্বারকে (আব্দুল জব্বার) নিভৃতে চলে যেতে হবে? এটা ভাবতে খারাপ লাগে। দেশ আমাদের, মাটিও তো আমাদের। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না।’

অতীতে একটা সময় গান গেয়ে একজন শিল্পী যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পেতেন সেটা পরিশ্রমের তুলনায় অনেক কম ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। সে কথা স্মরণ করে মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘আমি যখন চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করলাম তখন আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন, এ ধরনের অঙ্গনে যারা কাজ করেন, শেষ বয়সে গিয়ে তারা টাকার অভাবে চিকিৎসাও করতে পারেন না। সে পরিস্থিতির পরিবর্তিত জায়গাতেও আমরা এসে গেছি। সার্বিকভাবে আমাদের কর্মটাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। এ দেশটাকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই, আরও পরিচিত করতে চাই বিশ্ববাসীর কাছে।’

‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ দেশাত্ববোধক ও জাগরণমূলক গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর এই গানেই কণ্ঠ দিয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। শুধু এ গানটি নয়, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা এরকম আরও বেশকিছু গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।

৬৫ বছর বয়সে শাহনাজ রহমতুল্লাহ মারা গেলেন। তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্বামী অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবুল বাশার রহমতুল্লাহ ব্যবসায়ী। মেয়ে নাহিদ রহমতুল্লাহ থাকেন লন্ডনে। আর ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমতুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করে কানাডায় থাকেন।

দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন এই গুণী শিল্পী। ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্তির পর গান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। এ ছাড়া গান থেকে বিদায় নেওয়ার আরও একটি কারণ হলো ধর্মপরায়ণ জীবন বেছে নেওয়া।

গানের জগতে ৫০ বছরে শাহনাজ রহমতুল্লাহর চারটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমটি ছিল প্রণব ঘোষের সুরে ‘বারটি বছর পরে’, তারপর প্রকাশিত হয় আলাউদ্দীন আলীর সুরে ‘শুধু কি আমার ভুল’। সত্তর দশকে তিনি জনপ্রিয় হয়েছিলেন উর্দু গান ও গজলের মাধ্যমে।

প্রয়াত প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজ এবং প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা জাফর ইকবাল  শাহনাজ রহমত উল্লাহর দুই ভাই। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০ বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া চারটি গান স্থান পেয়েছে।

গানগুলো হলো খান আতাউর রহমানের কথা ও সুরে ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথা ও আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’ ও ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’।

প্রিয় বিনোদন/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...