চট্টগ্রাম জেলা আদালত ভবন। ফাইল ছবি

‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়’: পুলিশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি),পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৬ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৬
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৬ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৬


চট্টগ্রাম জেলা আদালত ভবন। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২৫ মার্চ, সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. আকবর হোসেন মৃধার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মো. নুরুল আবছার নামে এক ব্যক্তি।

মামলার বাদি নুরুল আবছার পতেঙ্গা থানার কোনার দোকান এলাকার বদিউল আলমের ছেলে। মামলার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী

ওসি ছাড়া এ মামলায় অপর অভিযুক্তরা হলেন- পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া, পতেঙ্গা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রণয় প্রকাশ, এসআই আবদুল মোমিন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তরুণ কান্তি শর্মা, এএসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই মিহির কান্তি, পুলিশের সোর্স মো. ইলিয়াছ, মো. জসিম ও মো. নুরুল হুদা।

আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালককে উপযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ‘২০১৮ সালের ১ জুন বিকেলে নগরের পতেঙ্গা কাটগড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা নুরুল আবছারকে তুলে ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়ার কাছে নিয়ে যান। পরদিন দুপুর পর্যন্ত নুরুল আবছারকে ইয়াবা ব্যবসায়ী উল্লেখ করে আটক রেখে ৩০ লাখ টাকা দিতে চাপ দেন পুলিশ সদস্যরা। টাকা না দিলে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। পরে ১৫ লাখ টাকা তিনি এসআই কামরুজ্জামানের হাতে দেন। বাকি ১৫ লাখ টাকা না দেওয়ার তাকে বিদেশি মদ উদ্ধারের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, ‘৪০ বোতল বিদেশি মদসহ নুরুল আবছার গ্রেফতার হয়েছিলেন। অভিযোগপত্রেও তার নাম রয়েছে। নুরুল আবছার পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন মাদক ব্যবসায়ী।’

ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, ‘মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন মামলার একজন আসামি যদি মামলা রেকর্ড করা ওসি, অভিযান পরিচালনাকারী অফিসার, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন, তাহলে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’

২০১৬ সালের ১৬ মার্চ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মওলা নকশবন্দী সাক্ষরিত এক চিঠিতে নুরুল আবছারকে দলটির ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য করা হয়।

পরে দলীয় পদবি ব্যবহার করে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠে নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে নুরুল আবছারকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...