প্রতীকী ছবি

সদ্য পাস হওয়া কপিরাইট আইনে সুরক্ষা পাবে শিল্পীরা!

সমালোচকরা বলছেন, এই আইন পাস হওয়ায় ইন্টারনেট এখন যেভাবে কাজ করছে তা সম্পূর্ণরূপে বদলে যাবে। আইনের সমর্থক এমপিরা বলছেন ডিজিটাল মাধ্যমে শিল্পীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছে এই আইন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিয়.কম
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩:৪১ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩:৪১
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩:৪১ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩:৪১


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পার্লামেন্টে পাস হওয়া কপিরাইট আইন নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

জানা গেছে, এই আইনের অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী ইন্টারনেটে যেসব কনটেন্ট প্রকাশিত হবে এর দ্বায়ভার প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নিতে হবে। এতে বিপাকে পড়েছে গুগল, ফেসবুক-ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

সমালোচকরা বলছেন, এই আইন পাস হওয়ায় ইন্টারনেট এখন যেভাবে কাজ করছে তা সম্পূর্ণরূপে বদলে যাবে। আর আইনটির সমর্থক এমপিরা বলছেন ডিজিটাল মাধ্যমে শিল্পীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছে এই আইন।

বহুল আলোচিত এই আইনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে কি না, পড়লে কেমন হবে— এসব বিষয় নিয়ে প্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপনের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি বাংলা

জাকারিয়া স্বপন তার বক্তব্যে জানান, এই আইনের মধ্য দিয়ে অন্যের কনটেন্ট কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার হার কমবে। এতে শিল্পীরা সুরক্ষা পাবেন।

জাকারিয়া স্বপন বলেন, ‘আর্টিকেল ১৩ নিয়ে এখন বেশি কথা হচ্ছে। আমরা যদি ইন্টারনেটে কোনো কনটেন্ট শেয়ার করি, যে প্ল্যাটফর্মে এটি শেয়ার করছি সেই প্ল্যাটফর্মকে দায়িত্ব নিতে হবে যেন কপিরাইটের উপাদানগুলো সরিয়ে ফেলেন তারা। এখন কথা হচ্ছে যখন আপলোড করবেন এবং আপলোডের সময়ই ক্ষেত্র বিশেষে ফিল্টারিং দিতে হবে যাতে তারা আপলোড করতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘যে ওয়েবসাইটগুলোর বয়স তিন বছরের নিচে রয়েছে, যাদের রেভিনিউ ১০ মিলিয়ন ইউরোর নিচে এবং মাসিক পাঁচ মিলিয়ন ইউনিক ভিজিটর নাই তারা এই আইনের আওতায় পড়বে না। ফলে এর আওতায় পড়বে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো।’

তার মতে এই আইনের মধ্য দিয়ে শিল্পীদের সুরক্ষা হবে। তার দাবি, বিগত বছরগুলোতে ইন্টারনেটে অরাজকতা তৈরি হয়েছে। অনেকে ইন্টারনেট থেকে কোনো কিছু ডাউনলোড করে আবার নিজেই সেটি আপলোড করে। এই আইনের মাধ্যমে এই অরাজকতা ঠিক হবে এবং শিল্পীদের সুরক্ষা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, এই আইনের ক্ষেত্রে বেশি প্রতিবাদ করছে গুগল এবং ইউটিউব। তারা ওপেন ইন্টারনেটের নামে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছে কারণ এটি তাদের বিজনেস মডেল। উইকিপিডিয়াকে এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছে। ইউটিউব বেশি প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। তারা হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে সেভ ইউওর ইন্টারনেট শীর্ষক ক্যাম্পেইন করছে। এই প্রপাগান্ডাটা ইউটিউব তার বাণিজ্যিক কারণে করছে।

‘যারা কনটেন্ট বানাচ্ছে তাদের এই আইনে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। বাধা দেওয়া হচ্ছে যারা এটি রিপ্রোডিউস করছে। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের অনেক মানুষ ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে মানি জেনারেশনের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে নিয়েছে। তাদের অনেকে বাইরে থেকে কোনো কনটেন্ট নিয়ে অল্প পরিবর্তন করে তাদের নিজেদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। তাদের এই চ্যানেলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের উপার্জনের একটি রাস্তা বন্ধ হবে। যিনি ভিডিওটি বানিয়েছেন তাকেই আমরা ক্রেডিট দিতে পারি এবং সেটিই আমরা শেয়ার দিতে পারি। অর্থাৎ চৌর্যবৃত্তি বন্ধ হবে।’, যোগ করেন তিনি।

এই আইন যদি চালু থাকতো তাহলে নিউজিল্যান্ডের ঘটনার ভিডিও কেউ ডাউনলোড করে ফের আপলোড দিতে পারতো না বলেও জানান তিনি।

তার মতে, এই আইনের ফলে দেশের বড় যে অংশ কপিরাইট ম্যাটেরিয়ালের ওপর নির্ভর করে থাকে তারা ধীরে ধীরে এই পলিসির আওতায় আসবে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় ২৬ মার্চ, মঙ্গলবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইইউ পার্লামেন্টে ভোটাভুটির পর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কপিরাইট আইনটি পাস করা হয়। ইউরোপীয় সংসদে ইইউ কপিরাইট আইনের সংস্কারের বিতর্কিত প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩৪৮ জন সাংসদ, বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৭৪ জন।

আইনের যে দুটি ধারা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, সেগুলো অনুচ্ছেদ ১১ ও অনুচ্ছেদ ১৩ হিসেবে পরিচিত।

অনুচ্ছেদ ১১ অনুযায়ী, যে কোনো নিউজ ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ব্যবহার করতে সার্চ ইঞ্জিন এবং নিউজ অ্যাগ্রিগেট প্ল্যাটফর্মগুলোকে অর্থ দিতে হবে।

অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী, কপিরাইট লাইসেন্স ছাড়া যে কোনো কিছু পোস্ট করলে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়বদ্ধ করা হবে। কপিরাইট করা কাজ ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও আরোপিত হবে কড়াকড়ি।

প্রিয় প্রযুক্তি/রুহুল