ম্যানসিটিতে আটটি মৌসুম কাটিয়েছেন ইয়াইয়া তোরে (বামে)। ছবি: সংগৃহীত

কালো হওয়ায় জঘন্য গালির শিকার, মুখ খুললেন তারকা ফুটবলার

নামিদামি সব ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতানো এই ফুটবলারের শুরুর অধ্যায়টা ছিল অন্ধকারে মোড়ানো।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫২ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫২
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫২ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫২


ম্যানসিটিতে আটটি মৌসুম কাটিয়েছেন ইয়াইয়া তোরে (বামে)। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দিদিয়ের দ্রগবা- আইভরি কোস্টের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। সাবেক এই স্ট্রাইকারের এক কথায় থেমে গিয়েছিল অনেকদিন ধরে চলতে থাকা আইভরি কোস্টের গৃহযুদ্ধ। ইংলিশ ক্লাব চেলসির কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে ‘ঈশ্বরের’ মতো করে মানে দেশটির ফুটবলপ্রেমী মানুষরা।

দ্রগবার পরই যার নামটি চলে আসে, তিনি হলেন ইয়াইয়া তোরে। আইভরি কোস্টের এই মিডফিল্ডারও বিশ্ব মাতিয়েছেন। দেশের হয়ে ১০১ ম্যাচে ১৯টি গোল করা তোরে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মোনাকো, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবগুলোয়। কিন্তু তার শুরুর অধ্যায়টা ছিল খুব কঠিন, অন্ধকারে মোড়ানো।

কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় জঘন্য সব গালি হজম করতে হতো ম্যানসিটিতে ৮টি মৌসুম পার করা তোরেকে। এমন কি নিজ ক্লাবের ভক্তরাও বর্ণবাদী আচরণ করতেন তার সঙ্গে। অনেক পেছনে ফেলে আসা অতীত নিয়ে কথা বলেছেন অলিম্পিয়াকোসের হয়ে খেলা তারকা এই ফুটবলার। যে অতীতে মিশে আছে কেবলই মুখ লুকানোর গল্প।

লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের সঙ্গে তিনটি মৌসুম কাটানো তোরে ২০ বছর বয়সে চরমভাবে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছিলেন। ২০০১ সালে বেলজিয়ামের ক্লাব বেভারেনে শুরু হয় তোরের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার। ২০০৩ সালে পাড়ি জমান ইউক্রেনে। ২ বছর খেলেন মেতালুর দনেস্কের হয়ে। আর এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয় তোরেকে, শুনতে হয় জঘন্য সব গালি।

সহ্য করতে না পেরে বাবার সঙ্গে ব্যাপারটি শেয়ার করেন তরুণ তোরে। নিজের ভক্তরাও গালিগালাজ করত জানিয়ে আইভরি কোস্টের তারকা এই ফুটবলার বলেন, ‘প্রথমে অপমানিতবোধ করতাম, পরের দিকে রেগে যেতাম। বানর সঙ্গীতের চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে না।’

তারকা ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর তোরে এক পর্যায়ে এসব মেনে নেওয়া শুরু করেন। দীর্ঘদেহী এই ফুটবলার বলেন, ‘মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। আমি আমার সেরা চেষ্টা করতাম আর ভক্তরা বাজে ভাষায় আমাকে বলত, কালো **** (প্রকাশের অযোগ্য) বাড়ি ফিরে যাও। আমার জন্য এটা খুবই কঠিন ছিল। এসবকে পেছনে রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হতো। অনেক সময় আমার দলের ভক্তরাও একই আচরণ করত।’

বিষয়টি নিয়ে তার বাবার সঙ্গে কী কথা হতো এ বিষয়ে তোরে বলেন, ‘বাবাকে ডেকে আনার সেই দিন আমার মনে আছে। আমি বাবাকে বলেছিলাম, “তারা আমার সামনে বানর সঙ্গীত করে। বাবা, আমি খুবই খারাপ বোধ করি।” বাবা আমাকে এর মাঝেই খেলা চালিয়ে যেতে বলেন, শক্ত থাকতে বলেন। বাবা চাননি ব্যাপারটি আমার ওপর প্রভাব ফেলুক। কিন্তু বাবা জানতেন না, এর প্রভাব কতটা বাজেভাবে ততদিনে আমার ওপর পড়ে গিয়েছিল।’

মোনাকো থেকে ২০০৭ সালে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনায় পাড়ি জমান ইয়াইয়া তোরে। তিন বছর মেসি-ইনিয়েস্তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলার পর ২০১০ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখান তিনি। এখানেই তোরের সেরা সময় কেটেছে। ম্যানসিটির দীর্ঘ আট বছরের পথচলার সঙ্গী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন ৩৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। ২০১৮ সালে ম্যানসিটি ছেড়ে অলিম্পিয়াকোসে নাম লেখালেও এখন তাকে মাঠে দেখা যায় না বললেই চলে।   

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

‘জিদান ফালতু লোক’

প্রিয় ১৩ ঘণ্টা, ৪৬ মিনিট আগে

loading ...