বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-চীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত

আলোচনা অনুষ্ঠানে চীনের মন্ত্রী দুই দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:২৬ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:২৪
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:২৬ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:২৪


বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ছবি: সংগৃহীত

(বাসস) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আজ (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং চীনের পক্ষে ১৪ সদস্যের দলের নেতৃত্ব দেন চীনের স্টেট কাউন্সিলর ও জননিরাপত্তা মন্ত্রী যাহাও কিজি।

১৭ এপ্রিল, বুধবার ঢাকায় এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে এ কথা বলা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে চীনের মন্ত্রী দুই দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দেশ দুটির উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং সাইবার অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত এক বছরে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭৫ জন কর্মকর্তাকে সন্ত্রাস দমনসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদান করে চীন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সুবিধা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তা ছাড়া মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনের জন্য বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ২০১৬ সালে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিংপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে সে সময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচিত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যেখানে সন্ত্রাস দমনে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়।

চীনের মন্ত্রী ভবিষ্যতে চারটি ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেগুলো হলো— আন্তরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দমন, মাদক দমনে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান এবং তথ্য বিনিময়, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণে চীনের প্রত্যাশা এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতাসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের নিয়মিত সভা আয়োজন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে একটি প্রতিনিধি দল চীনে বাংলাদেশ থেকে প্রেরণ করতে পারবে বলে অভিমত দেন। তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভূমিতে যেকোনো দেশের সন্ত্রাস এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদেশি গ্রুপ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।’ একইভাবে চীনের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি মিয়ানমার কর্তৃক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ামনারে ফেরত পাঠাতে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি দ্রুত প্রত্যাবাসন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়েও তিনি চীনের আশু হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

চীনের মন্ত্রী বলেন, তারা এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। চীন মনে করে, বিষয়টি সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষ করে ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপির ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা উচিত।

আলোচনায় দুই পক্ষই অভিমত ব্যক্ত করে, বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ ও চীনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ অভিমত ব্যক্ত করে।

সভা শেষে দুই দেশের মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বেইজিং মিউনিসিপাল পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...