বিজিএমইএ ভবন (বামে), সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান (ডানে) । ছবি: প্রিয়.কম

হাতিরঝিলের জলাশয়ে ভবন নির্মাণে দায় ছিল না বিজিএমইএর, দাবি সিদ্দিকুর রহমানের (ভিডিও)

রাজধানীর হাতিরঝিল জলাশয়ে ভবন ওঠানোর জন্য বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কোনো দায় ছিল না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৯ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৯
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৯ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৯


বিজিএমইএ ভবন (বামে), সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান (ডানে) । ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) রাজধানীর হাতিরঝিল জলাশয়ে ভবন ওঠানোর জন্য বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কোনো দায় ছিল না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান

১৭ এপ্রিল, বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এমন কথা বলেন।

আপিল বিভাগের রায়ে ওই ভবন ভেঙে ফেলার উদ্যোগ ও খালি করে দেওয়ার পরের দিন সিদ্দিকুর রহমান এমন কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘ওই জমি দেওয়ার পেছনে “ভুল” ছিল সরকারি সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি)।’

সিদ্দিকুর আরও বলেন, ‘ওই জায়গা সিলেক্ট করে দিয়েছে ইপিবি। বিনিময়ে ইপিবিকে পাঁচ কোটি ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। সেই সময়ে এই টাকায় গুলশানেও সমান আয়তনের জমি পাওয়া যেত। ভুল আমাদের ছিল না, ভুল করেছে ইপিবি। কিন্তু এর জন্য কথা শুনতে হয়েছে বিজিএমইএকে।’

১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে জমি পেয়ে কারওয়ান বাজারের হাতিরঝিলে ১৬ তলাবিশিষ্ট বহুতল ভবনটি গড়ে তুলেছিল বিজিএমইএ। মালিকানা স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা ওই ভবন ভেঙে ফেলার রায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে আসার পর বুধবারই তা খালি করে সিলগালা করে দেয় রাজউক।

জানা যায়, হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ হয় ২০০৬ সালে। জায়গাটির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার সংরক্ষণ আইন ভঙ্গ করে বেগুনবাড়ি খালের একাংশ ভরাট করার মাধ্যমে ওই ভবন তোলা হয়েছে।

পরে এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিকে ভবনটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হয়। ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট ভবনটি ভাঙার বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। ওই রুলের শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভবনটিকে হাতিরঝিলের ক্যানসার বলে আখ্যায়িত করা হয়।

এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল দায়ের করে। আপিল শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেয় আপিল বিভাগ। এরপর দীর্ঘদিন শুনানি শেষে বিজিএমইএর ওই আপিল খারিজ করে দেয় আদালত।

পরে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা বিজিএমইএর আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। এরপরও ভবন না ভাঙতে আদালতের কাছে কয়েক বার সময় চান বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল মুচলেকা দিয়ে ভবন ভাঙতে এক বছর সময় পান বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।

মুচলেকার শর্তের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এক আদেশ দেয়। ওই আদেশে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজউক এই ভবনটিতে তালা লাগিয়ে দেয়।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...