ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ‍রুহুল আমিনকে আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নুসরাত হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পিবিআই।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৪ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৪
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৪ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৪


ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ‍রুহুল আমিনকে আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

১৯ এপ্রিল, শুক্রবার বিকেলে তাকে সোনাগাজীর তাকিয়া বাজার থেকে আটক করা হয়।

পিবিআই প্রধান বনজকুমার মজুমদার জানান, সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় শুক্রবার বিকেলে তাকে তার সোনাগাজীর বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রুহুল আমিন নুসরাতের প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি। এই কমিটি অবশ্য শুক্রবারই বাতিল হয়ে গেছে।

গত ৬ এপ্রিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান মুখোশধারীরা। এর আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে তারা চাপ দেয়। ২৭ মার্চ সিরাজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা হয়েছিল।

দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান নুসরাত।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রথম থেকেই আলোচনায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনের নাম। হত্যা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নুসরাতকে পোড়ানোর বিষয়টি জানতেন রুহুল আমিন। এমনকি নুসরাতকে আগুনে ঝলসে দেওয়ার পর মুখোশধারীরা ফোনে বিষয়টি তাকে জানালে রুহুল আমিন উত্তর দেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’

নুসরাত হত্যার পর সোনাগাজী পরিদর্শনে আসা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সদর দফতরের প্রতিনিধি দলের তরফ থেকেও বলা হয়েছে, ২৭ তারিখ মাদরাসার কমিটি ব্যবস্থা নিলে ৬ মার্চ নুসরাতকে আগুনে পোড়ানোর ঘটনাটি হয়তো এড়ানো যেত।

শ্লীলতাহানির মামলায় আগে থেকেই কারাবন্দী অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা। হত্যা মামলা হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। সিরাজ উদ-দৌলার ‘ঘনিষ্ঠ’ নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, শরীফ ও হাফেজ আবদুল কাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

এই চার জনের স্বীকারোক্তিতেই নুসরাত হত্যার ঘটনায় রুহুল আমিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। শামীম তার জবানবন্দীতে জানান, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তিনি দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যান। বাইরে গিয়ে মোবাইল ফোনে বিষয়টি রুহুল আমিনকে জানান। প্রত্যুত্তরে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’

বাকি আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজ উদ-দৌলাকে সাত দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে পাঁচ দিন, জাবেদ হোসেনকে সাত দিন এবং নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, আবছার উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, শামীম ও যোবায়ের হোসেনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হয়েছে নুসরাতের সহপাঠী মো. শামীম ও জান্নাতুল আফরোজ মনি।

এরই মধ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ার পর নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ায় ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থানার ওই সময়ের (নুসরাত হত্যার পর প্রত্যাহার) ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলাও তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন—অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি, শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন।

প্রসঙ্গত, নিহত নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/আজাদ চৌধুরী